ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজার এর কমলগঞ্জের পর্যটন স্পট গুলো দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত

ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজার এর কমলগঞ্জের পর্যটন স্পট গুলো দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত

মোঃ শাহিন আহমেদ শ্রীমঙ্গল , মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ ঈদের টানা ছুটিতে প্রকৃতির বুকে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। তাইতো প্রকৃতির সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা নিকেতন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,পদ্মকন্যার মাধবপুর লেক,ঝরনা সুন্দরী হামহাম জলপ্রপাত ছিল পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। কমলগঞ্জের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণ পিপাসু বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষ। কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হল দেশের বনাঞ্চলের মধ্যে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় বিনোদনের অন্যতম স্পট। ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন জীববৈচিত্রে ভরপুর এ উদ্যানের বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণীর পাশাপাশি বিরল প্রজাতির বৃহৎ আকারের আফ্রিকান টিকওক, সারি সারি সেগুন, আগর, জারুল, চাপালিশ, ডুমুর, লটকন, আমলকী, জলপাইসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ গহীণ বনের খাসিয়া আদিবাসী পল্লী ঘুরে দেখতে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। ঈদের ছুটিতে যেন মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় সবুজ বনের লাউয়াছড়া উদ্যানটি। উদ্যানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের। বন বিভাগ জানায়, বিগত বছরের চেয়ে এবছর ঈদের দিনে পর্যটকের সমাগম অনেক বেশি হয়েছে এবং ঈদের ছুটি থাকা পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন বন কর্মকর্তারা। তাছাড়া লাউয়াছড়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের দিকনির্দেশনা, বিনোদন ও নিরাপত্তা দিতে পর্যটক পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানে অবস্থিত মাধবপুর লেকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। লেকের চারপাশে বিশাল টিলায় সবুজ চা গালিচার মাঝখানে জলরাশি। টলটলে রূপালী জলের সঙ্গে দিবা-নিশির মিতালি করছে পদ্মফুল। প্রকৃতি অপরূপ সাজে সেজে নিজের রূপ দিয়েই আকর্ষণীয় হয়ে উঠায় জলের পদ্ম কন্যার মায়ায় আঁকড়ে ধরে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। তার এই মনোরম সৌন্দর্য দর্শনে ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী নারায়নগঞ্জ থেকে আসা নাঈম বলেন, ঈদের ছুটিতে সপরিবারে লেকে ঘুরতে এসে বেশ ভাল লাগছে। নয়নাভিরাম এ জলারণ্য দল বেঁধে দেখতে গত বছরের তুলনায় এ বছর দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন বেশি ঘটে বলে জানান লেকের প্রধান ফটকে দায়িত্বে থাকা বাবুল কর্মকার। অপরদিকে কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী কুরমা সীমান্তের গহীন অরণ্যে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম হামহাম জলপ্রপাত। প্রায় ১৬০ ফুট পাহাড়ের ওপর হতে স্পটটির স্বচ্ছ পানি আঁছড়ে পড়ছে বড় বড় পাথরের গায়ে। রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের প্রায় ৯ কিমি. অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন এই হামহাম জলপ্রপাতের অবস্থান। পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয়। রোমাঞ্চকর দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দল বেঁধে পর্যটকদের ছুটতে দেখা যায় গহীন বনের ওই ঝরনা ধারায়। এছাড়া কমলগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, উঁচু-নিচু টিলায় সবুজ গালিচার বিভিন্ন চা বাগান, ডবলছড়া ও মাগুরছড়া খাসিয়া পল্লী ঘিরে ঈদের ছুটিতে ছিল পর্যটকদের মিলন মেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*