পাইকগাছা পৌর সদরের মেইন সড়কের বেহাল দশা

পাইকগাছা পৌর সদরের মেইন সড়কের বেহাল দশা
ইমদাদুল হক মিলন, পাইকগাছা ॥ পাইকগাছা পৌর সদরে মেইন সড়কের জিরোপয়েন্ট হতে বাজার ডাকবাংলা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। পৌর মেয়র বারবার রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছে কিন্তু রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না। রাস্তা সংস্কার না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরের আগে রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্র“তি দেন। তবে রাস্তা সংস্কার হয়নি, পার হয়ে গেছে ঈদুল আযহাও তবুর রাস্তার বিহাল দশা কাটেনি।
জিরোপয়েন্ট হতে বাজার পোষ্ট অফিস পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তায় শতাধিক ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টিতে হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলে ভাঙ্গাচুরা রাস্তার বড় গর্তগুলিতে পানি ভরে ছোটছোট ডোবায় পরিণত হয়। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী সহ হাজারও মানুষের। এতে পথচারীরা পড়েছে মহাবিপাকে। পানি ভরা গর্তে যানবাহনের চাকায় ছিটকে যাওয়া কর্দমাক্ত নোংরা পানিতে পথচারীরা ভিজে নাকাল হচ্ছে। মটরসাইকেল চালকরা গর্তে পড়ে ভিজে নাকানী চুবানি খেয়ে উঠছে। তাছাড়া রৌদ্রের সময় রাস্তার উপর জমে থাকা কাঁদা মাটি শুকিয়ে ধুলোবাতিতে পরিণত হচ্ছে আর যানবাহন চলার সময় ধুলোই পুরা রাস্তা ভরে যাচ্ছে। এতে পিছনের পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছে। তাছাড়া এই সড়কে সকল যানবাহন চলছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। প্রতিদিন পাইকগাছা থেকে ঢাকা ৩০/৩৫ টি পরিবহন, ভারী ট্রাক, বাস ও হালকা যানবাহন সহ সহশ্রাধিক যানবাহন চলাচল করছে। দক্ষিনাঞ্চলে মৎস্য উৎপাদন ও রপ্তানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাইকগাছা। প্রতিদিন প্রায় অর্ধ শতাধিক মৎস্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ভাঙ্গাচুরা রাস্তার গর্তে পড়ে ভারী যানবাহন এক্সেল ও পাতি ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকছে। চিংড়ি পোনা সরবরাহ, কাঁকড়া ও চিংড়ি মাছ রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তবে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের কথা ভেবে উপকূল অঞ্চলের এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মেরামত করা খুব জরুরী দরকার। এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রকৌশলী নূর আহম্মেদ জানান, রাস্তাটির মাপজোপ করা হয়েছে। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, বৃষ্টির জন্য রাস্তায় পিচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা সংস্কার করা হবে। তবে ঈদুল ফিতরের আগে রাস্তার গর্তগুলোতে ইটের খৈয়া দিয়ে রুলার দেওয়া হয়। তবে গত ৩ মাসের মধ্যে ইটের খৈয়া উঠে পূর্বের থেকে আরো খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছে রাস্তাটি। পৌর মেয়রের প্রতিশ্র“তি আর বেহাল রাস্তায় জনগণের ভোগান্তি কবে শেষ হবে তার অপেক্ষায় রয়েছে জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*