রাজনীতি কোন পথে

Hasina_Khaleda-0520130805075642201308050834191সিটিজি পোস্ট ডেস্ক :: আওয়ামী লীগ ২০১৯ সালের আগে ক্ষমতা ছাড়বে না একাধিক মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন। বিএনপি চাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। অন্যদিকে চলছে কূটনীতিকদের সতর্কতা। সব মিলিয়ে আগামী কয়েকমাসের রাজনীতি কোন পথে যাচ্ছে এ নিয়ে রাজনীতিবিদরা করছেন নানা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ মনে করেন আবার আসতে পারে হরতাল অবরোধ। অনেকে মনে করছেন আন্দেলন করার মতো শক্তি মাঠের বিএনপির নেই। খুন ও বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের।

বর্তমানে দৃশ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত বলে মনে হলেও ভেতরে ভেতরে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে, বিচার ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন অকার্যকর, বাকস্বধীনতা সংকুচিত ও গণমাধ্যম শৃক্সখলিত। বিরোধী জোটের সংলাপ ও নির্বাচনের দাবিকে সরকার উপেক্ষা করে আসছে। ফলে রাজনীতিবিদদের একগুয়েমিতে দেশ আজ গভীর সংকটের নিমজ্জিত। সংকটের গভীরতা বিবেচনায় ‘পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে চলছে।’ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি বক্তব্য-বিবৃতি মধ্যে সীমাবদ্ধ। সংসদের বিরোধী দলের নেই তেমন কোন কর্মসূচি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেদিকে জোয়ার সেদিকে বক্তব্য রাখেন। আর মাঠের  বিরোধীদল বিএনপি রাজনীতি এখন লন্ডন কেন্দ্রীক। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিায় দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিবেন। কর্মসূচির একটা আভাস দিতে পারেন লন্ডনে জনসভায় খালেদা জিয়া।

এদিকে আওয়ামী লীগের একাদিক মন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া আর দেশ ফিরবেন না। লন্ডনেই থেকে যাবেন। দেশে একের পর এক খুনের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করছে আওয়ামী লীগের। খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন ধরণের লেখা হয়।

খালেদা জিয়া ‘দেশে ফিরবেন না’-বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি গভীর চক্রান্ত। বিএনপি নেত্রী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গেই কথাগুলো বলতে চাই, তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। চোখের চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে পায়ের চিকিৎসাও হচ্ছে। চিকিৎসক ছেড়ে দেওয়া মাত্রই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।’

সর্বশেষ পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে হামলার জন্য সরাসরি বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, দুই বিদেশি হত্যা, গাবতলীতে পুলিশ হত্যা এবং শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে বোমা মেরে হত্যায় একই গোষ্ঠী জড়িত। যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা নব ফর্মুলায় এটা করছে। তারা কারা- প্রশ্ন করা হলে কামরুল বলেন, স্পষ্ট করেই বলি- জামায়াত, শিবির, বিএনপি।

হোসনি দালানে বোমা হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত থাকতে পারে।

শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।  বাংলাদেশের রাজনীতি এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে, ইচ্ছা করলেই কেউ তাদের ক্ষমতা হঠাতে পারবে না।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় হোসনি দালানে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ‘নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত’ দাবি করেছে বিএনপি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে সেই দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে বিশ্বাসী মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে ৩শ’ আসনে দলের যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশে এখন বিচারহীনতা চলছে। মানুষ বিচার পায় না।  এ দেশের মানুষ কীভাবে বসবাস করবে? মানুষের কোনো আশা নেই। এক হত্যা মামলায় আমার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। এ বিচার চলবেই, এই মামলা হয়তো আমার মৃত্যুর পরও চলবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে উপজেলা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

২৯ এপ্রিল বহু বছর পর ঢাকায় মেয়র নির্বাচন হলো, কিন্তু কারচুপির অভিযোগ আর বয়কটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিএনপি তাদের হরতাল কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিল। সরকারও বিএনপির কার্যালয় থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছিল।

ঢাকা আর চট্টগ্রামের নির্বাচনকে মনে করা হচ্ছিলো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার একটি পথ। কিন্তু বাস্তবতা কোন দিকে যাচ্ছে?

ইংরেজি কাগজ দ্য নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজউদ্দীন আহমেদ বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে বলেছেন বলার অপেক্ষা রাখে না, জনগণ চেয়েছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার। বিরোধীদলও একটা স্পেস পাবে বলে মনে করছিল। তবে মনে হয় রাজনীতি আবার অন্ধ গুহার মধ্যে ঢুকে গেল।

তিনি বলছিলেন নির্বাচন বর্জন, একতরফা নির্বাচনের ফলে নিয়মতান্ত্রিক পথ বা আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেল।

আজ অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দারুণ শূন্যতা চলছে, কোনো বিরোধী দল নেই, প্রতিবাদ করার কেউ নেই, দেশের এ অবস্থা কিছুতেই জনগণের কাম্য হতে পারে না। আসলে এই কথাটার ভেতরে যুক্তির চেয়ে আবেগই বেশি। কিন্তু আবেগ দিয়ে তো রাষ্ট্র চালানো যায় না। যারা মনে করে বিরোধী দল মানে সংসদ বর্জন-হরতাল-অবরোধ, পেট্রলবোমা, আগুন, নির্বিচারে মানুষ হত্যা তাদের আজ উপলব্ধি করার সময় এসেছে, তাদের সেই পলিসি জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অনেকে মনে করেন, যদি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হয়, তারা যদি মানুষের দুঃখ, দুর্দশা বুঝে উদার গণতান্ত্রিক পথে না হাঁটার চেষ্টা করে, তাহলে তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

বাংলাদেশে বহু তাত্তি¡ক ও বহু পার্টি জন্ম নিয়েছে। এই জন্ম নেওয়া আর শেষ হয়ে যাওয়া পার্টির দৃষ্টান্ত বোধহয় সবচেয়ে বেশি দেখেছে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশে যে কত পার্টি জন্ম নিল আর বিলুপ্ত হলো তার কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। এ দেশের অনেক বড় বড় নেতা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন কিন্তু সেগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।

অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিও রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, সেগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ, আজ শুধু টিকে আছে সেই দলগুলো, এখনো যাদের মধ্যে কিছুটা গণতান্ত্রিক ও জনসেবার মনোভাব অবশিষ্ট আছে।

আজ এ কথা কেউ স্বীকার করুক আর না করুক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি যে বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিরোধী দলশূন্য রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলে দৈবিকভাবে আবির্ভূত হবে একনায়কত্ব, যা দেশকে ঠেলে দেবে হুমকির মুখে। মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*