ফটিকছড়িতে বন কর্মী নিহতের ঘটনায় আটক ১০

ফটিকছড়িতে বন কর্মী নিহতের ঘটনায় আটক ১০

ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা ॥ ফটিকছড়ির হাসনাবাদে বনকর্মী কর্তৃক একটি অবৈধ ঘর ভাঙ্গাতে গিয়ে হামলায় ১বনকর্মী নিহত ও অপর ৩ বনকর্মী আহত হয়েছে। নিহত আব্দুস সালাম(৫২) হাসনাবাদ বীটের বন প্রহরী বলে জানাগেছে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার জনৈক কুতুব উদ্দিনের ছেলে। এঘটনার ব্যাপারে বনবিভাগের হাসনাবাদ রেঞ্জ অফিসার খসরুল আমিন বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তার নেতৃত্বে একদল বনকর্মী হাসনাবাদ এলাকার হাতিমারা গ্রামে জনৈক ইমদু মিয়ার বন বিভাগের জমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত পাকা ঘর ভাঙতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। কিন্ত বাধা উপেক্ষা করে ঘর ভাঙতে গেলে তাদের উপর স্থানীয়রা লাঠি সোটা নিয়ে হামলা করে। হামলায় আব্দুস সালাম(৫২) নিহত হয় এবং তার সাথে থাকা অপর বনপ্রহরী ছাদেক মিয়া(৪৫), আবুল কালাম(৫০), মো.মামুন(৪৫) গুরুতর আহত হয়। উক্ত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে উক্ত ঘটনার ব্যাপারে ঘরের মালিক ইমদু মিয়ার ছেলে মো.নজরুল ইসলাম বলেন, উক্ত স্থানে তার দাদার আমল থেকে মাটির দেওয়াল যুক্ত ঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের ঘরের মাটির বারান্দাটি ফেলে দিয়ে সেমি পাকা একটি বারান্দা নির্মাণ করেন। কিন্ত হাসনাবাদ বনবীট কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম তাদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে। অবশেষে উক্ত নজরুল ইসলাম গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে উক্ত বিট অফিসে গিয়ে আতিকুল ইসলামের নিকট দশ হাজার টাকা দিলে তিনি তা ছুড়ে ফেলে দেন বলে নজরুল ইসলাম জানান। অগত্যা তিনি আরো টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উক্ত দশ হাজার টাকা গছিয়ে আসেন। (ঘটনারদিন) সকালে আরো টাকার জন্য আতিকুল ইসলাম নজরুলকে ফোন করলে সে আর টাকা দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বন বিভাগের লোকজন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাড়িতে গিয়ে তার বারান্দার নির্মিত দেওয়াল ভেঙ্গে দেয়। এসময় নজরুলের মা ফাতেমা বেগম(৮০) বাধা দিতে গেলে বন বিভাগের লোকজন তাকে লাথি মেরে ও পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে বলে নজরুল ইসলাম জানান। অতপর বন বিভাগের লোকজন সেখান থেকে চলে যাবার পথে তাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু দুরে মনোয়ার খীল নামক স্থানে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বনকর্মী আব্দুস সালাম নিহত হয় এবং ছাদেক মিয়া আহত হয় বলে তিনি জানান। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানান। এদিকে পুলিশ ঘটনার পর থেকে ভূজপুর থানা পুলিশ ও দাঁতমারা তদন্তের কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘরের মালিক ইমদু মিয়ার মেয়ে, ছেলের বউ সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মো: ইয়াছিন(২১), পিতা: মৃত রমজান আলী, দেলোয়ার হোসেন(২৮), পিতা: নুরুল ইসলাম, হাসান নিজাম: পিতা: দেলোয়ার হোসেন, বিকি রহিমা(৩০) স্বামী: জাহঙ্গীর আলম, বিবি মরিয়ম(৪০) স্বামী: হারেছ, প্রিয়কা আক্তার৯১৪) পিতা: মৃত নুরুল হক, রোকেয়া বেগম(৫০) স্বামী আব্দুল হক, নার্গিস আক্তার(২১), পিতা: আব্দুল হক, ঝর্ণা আক্তার(১৭) পিতা: আব্দুল হক ও মনোয়ার আক্তার(১৩) পিতা: আহসান। উক্ত এলাকায় পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এব্যাপারে, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েছ আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিট কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ১০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন বলে ভুজপুর থানার ওসি বায়েছ আলম জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা (উত্তর)বিভাগীয় বনকর্মকর্তা বখতিয়ার নূর ছিদ্দিকী বলেন, সরকারী নির্দেশ অনুসারে বন বিভাগের জায়গায় গৃহ নির্মানকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন মিলে বন প্রহরী আব্দুস ছালামকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার সাথে জড়িত এবং প্রশ্রুয় দাতাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। ফটিকছড়ি সাপের কামড়ে মহিলার মৃত্যু ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা ॥ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিষাক্ত সাপের কামড়ে হালিমা বেগম (৪৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ৫ সেপ্টম্বর( বুধবার) রাতে ফটিকছড়ির উপজেলা উত্তর ধর্মপুর আমতলী এলাকায় রনুর বাপের বাড়ীতে ঘটনা ঘটে। সে রানুর বাপের বাড়ীর আব্দুল হকের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, হালিমা বেগম রাতে ঘর থেকে বের হলে এক অজ্ঞাত সাপ কামড় দিলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক উজার নিয়ে যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১ দিকে দায়ত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*