চকরিয়ায় পৌরসভা বিতরণ শেষে ১৮টি ইউনিয়নে পাচ্ছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫জন স্মার্টকার্ড 

চকরিয়ায় পৌরসভা বিতরণ শেষে ১৮টি ইউনিয়নে পাচ্ছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫জন স্মার্টকার্ড 
মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল , কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়ায় গতমাসের ১৬ আগস্ট থেকে চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে চকরিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৪২ হাজার ৩০৬জনের স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শেষ হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রমতে, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪১১জন। উপজেলায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বিতরণ শেষে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগনের মাঝে শুরু হয়েছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসুচি চলবে আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। শুরুতে আজ উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে বিতরণ কার্যক্রম। কর্মসুচির আওতায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পাবেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫জন ভোটার। তৎমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেশব্যাপী বিতরণ কর্মসুচির আওতায় উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় নতুন স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮১জন নারী-পুরুষ ভোটার। তারমধ্যে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পাচ্ছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫ জন ভোটার ও চকরিয়া পৌরসভায় পেয়েছেন ৪২ হাজার ৩০৬জন।তবে উপরোক্ত সংখ্যার ভোটারের মধ্যে যারা এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি তারা চলমান প্রকল্পের অধীনে এখনই স্মাট কার্ড পাবেন না। বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের ২ জানুয়ারী থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত যাদের জন্ম এবং ২০১৭ সালে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারা এই স্মাট কার্ড পাবেন না।সেই হিসেবে নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী চকরিয়া উপজেলার ১৫ হাজার ৩০ জন ভোটার স্মাট কার্ডের আওতায় আসছেন না। অবশ্য তাঁরা পরবর্তীতে কমিশনের নেওয়া নতুন প্রকল্পে স্মাট কার্ডের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকা মতে জানা গেছে, আজ ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার স্মাট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হচ্ছে চিরিঙ্গা ইউনিয়ন দিয়ে। পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কার্ড পাবেন ৯ হাজার ১৫জন। চলবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কাকারা ইউনিয়নে শুরু হবে ১০ সেপ্টেম্বর, চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শাহ ওমরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৩ হাজার ২৮৬জন। হারবাং ইউনিয়নে শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। হারবাং ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৮ হাজার ৫৯৮জন। বরইতলী ইউনিয়নে শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। উত্তর বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৯ হাজার ৪৮৭জন। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে শুরু হবে ২৬ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ৫ হাজার ২৯১জন। খুটাখালী ইউনিয়নে শুরু হবে ২৯ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ৩ অক্টোবর। খুটাখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৮ হাজার ৪১৪জন। ডুলাহাজারা ইউনিয়নে শুরু হবে আগামী ৪ অক্টোবর, শেষ হবে ১১ অক্টোবর।
ডুলাহাজারা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ২৩ হাজার ৬৫৬জন। ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে শুরু হবে ১৩ অক্টোবর, শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। ফাসিয়াখালী রসিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৪ হাজার ৩৬২জন। আগামী ১৭ অক্টোবর শুরু হবে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে। শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ৭ হাজার ৫৭৩জন। কৈয়ারবিল ইউনিয়নে শুরু হবে ২০ অক্টোবর, শেষ হবে ২৫ অক্টোবর। পশ্চিম কৈয়ারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১২ হাজার ১৮৩জন। ২৪ অক্টোবর শুরু হবে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে। শেষ হবে ২৫ অক্টোবর। জিন্নাত আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ৭ হাজার ৫৭৩জন।
পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নে শুরু হবে ২৭ অক্টোবর, শেষ হবে ২৮ অক্টোবর। ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ৫ হাজার ৬৬৩জন। ২৯ অক্টোবর শুরু হবে পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে। শেষ হবে আগামী ৩ নভেম্বর। সমসুমিয়ার হাটস্থ জিএম মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৬ হাজার ১৮জন। আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হবে বদরখালী ইউনিয়নে। শেষ হবে ৮ নভেম্বর। বদরখালী কলোনীজেশন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১৮ হাজার ৭৬১জন। বিএমচর (ভেওলা মানিকচর) ইউনিয়নে শুরু হবে ১০ নভেম্বর। শেষ হবে ১২ নভেম্বর। বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১১ হাজার ৯১১জন। কোনাখালী ইউনিয়নে শুরু হবে ১৩ নভেম্বর। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। মরণঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ১০ হাজার ৮২৯জন। বুমবিলছড়ি ইউনিয়নে শুরু হবে ১৭ নভেম্বর। শেষ হবে ১৮ নভেম্বর। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্র থেকে কার্ড পাবেন ৪ হাজার ৬৮৮জন। সাহারবিল ইউনিয়নে বিতরণ শুরু হবে ১৯ নভেম্বর। শেষ হবে ২২ নভেম্বর। সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে স্মার্ট কার্ড পাবেন ১১ হাজার ৫৬৩জন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ভোটারের দুই হাতের দশ আঙ্গুলের ছাপ ও দুই চোখের আইরিশ ইমেজ প্রদান করতে হবে। নতুন স্মার্ট কার্ড গ্রহনের সময় পুরাতন পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। যারা অদ্যবদি জাতীয় পরিচয়পত্র পাইনি তাদেরকে নিবন্ধন স্লিপ আনতে হবে। একজনের স্মার্ট কার্ড অন্যজনকে দেওয়া হবেনা। পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে স্মার্ট কার্ড গ্রহনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সোনালী ব্যাংকে ৩৬৮ টাকা (১৪২২৩০২ নম্বর কোর্ডে) জমা দিয়ে স্লিপ সঙ্গে আনতে হবে। যারা নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা ফরম নম্বর, ভোটার নম্বর ও আইডি নম্বর সংগ্রহ করে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য,গত১২ আগষ্ট (রোববার) বেলা ১১টায় চকরিয়া উপজেলায় স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমাদের একটি স্বাধীন দেশ, একটি লাল-সবুজের পতাকা ও মানচিত্র উপহার দিয়ে গেছেন। তিনি না হলে আমরা যে স্বাধীন দেশের নাগরিক সেটি পরিচয় দিতে পারতাম না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়ার কামাল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে জান্নাত নুরী, উপজেলা পরিষদের মহিলা-ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়া বেগম শম্পা প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। আজকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, প্রত্যেকের হাতে হাতে মোবাইল পৌঁছে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে। আমাদের আর পিছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রবাসে যারা বসবাস করে তাদেরও স্মার্টকার্ডের আওতায় আনা হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন বিদেশে গিয়ে প্রবাসীদের স্মার্টকার্ডের আওতায় নিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১৯টি কেন্দ্র থেকে ১৬ আগস্ট থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত স্মার্টকার্ড বিতরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*