মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বারৈয়ারহাট ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ফটিকছড়ির সুমনের পরিবার

মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বারৈয়ারহাট ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ফটিকছড়ির সুমনের পরিবার

এম.বেলাল উদ্দীন আকাশ ও অরণ্য সাইফুল৷৷ গত ২ সেপ্টেম্বর বারৈয়ারহাট ট্রেন-বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে ফটিকছড়ি ১ নং বাগান বাজার ইউনিয়নের সুমন নামক এক ব্যক্তিও নিহত হলে তার খবর কোন মিড়িয়া প্রকাশ করেনি৷ সরজমিনে দেখা যায় সুমনের স্ত্রী ছকিনা ৪ বছর বয়সেই পিতা হারা হয়। ১০ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে চির এতিম হয়ে যায় মেয়ে শিশুটি।মেয়েটির(সুমনের স্ত্রীর) ঠাঁই হয় দরিদ্র ফুফুর ঘরে। প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে মেয়েটিকে বিয়ে দেয় পাশের গ্রাম হাতিরখেদার ছেলে সুমনের সাথে। ভালোই চলছিল সুমন-ছকিনার সংসার। তাদের সংসারে জন্ম হয় একটি কন্যাসন্তান নাম-সুমাইয়া। সুমন ঢাকাতে একটি মালবাহী জাহাজে শ্রমিকের কাজ করে। মাঝে মাঝে বাড়ীতে আসে। শত অভাব অভিযোগের মাঝেও বাঁশের তৈরী ছোট্ট ঘরটিতে ভালোই চলছিল সুমাইয়াকে ঘিরে সুমন-ছকিনার সংসার। এতিম ছকিনা সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে সুখের স্বপ্ন দেখছিল। সুখ ছকিনার কপালে আর বেশীদিন সইলোনা।

এতিম ছকিনাকে আরো এতিম করে দিলো গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট রেলগেটে এস.আলম পরিবহন এবং বিজয় এক্সপেস ট্রেনের সংঘর্ষে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটির সাথে দুমড়ে-মুচড়ে যায় ছকিনার সকল স্বপ্ন।এস.আলম পরিবহনের বাসটিতে ছকিনার স্বামী মোঃসুমন ও ছিলো এবং দূর্ঘটনায় মারাত্নক আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই সুমন মারা যায়।আত্নীয়-স্বজনেরা সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্ত না করেই ফটিকছড়ির বাগানবাজারে বাড়ীতে নিয়ে এসে তার পরদিন দাফন করে। আলোচিত এই সড়ক দূর্ঘটনার খবর বাংলাদেশের সব কয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টমিডিয়ায় প্রচার হয় সেখানে নির্মল চাকমা এবং অপর একজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সুমনের মৃত্যুর খবর কোথাও আসেনি।অথচ সুমন চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি থাকা অবস্থায়ই মারা যায় এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ পত্র ছকিনার কাছে আছে।

সুমনের মৃত্যু নিয়ে এস.আলম পরিবহনের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ছাদেকুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান-এটা রেলওয়ের ব্যাপার, আমরা রেলওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি৷ সুমনের মৃত্যুর সাথে সাথে অনিশ্চিত হয়ে গেল বিধবা ছকিনা এবং তার ৩ বছরের শিশুকন্যা সুমাইয়ার জীবন। ছকিনা এই শিশুকে নিয়ে কোথায় যাবে? কিভাবে চলবে তাদের পরবর্তী জীবন এ প্রশ্ন থেকেই যায়? এস.আলম পরিবহন কিংবা বাংলাদেশ রেলওয়ে এই দূর্ঘটনার জন্য দায়ী কে এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং একে অপরকে দুষারোপ করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দূর্ঘটনায় মৃত সুমনের পরিবারের খোঁজ কেউ নেয়নি। সহজ-সরল গ্রাম্য মেয়ে ছকিনার কাছে দুর্বোধ্য এইসব আইনি মারপ্যাঁচ। কিন্তু এই মৃত্যুর দায় কে নিবে? ছকিনা কি পাবে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর স্বীকৃতি এবং ক্ষতিপূরণ। এতিম ছকিনা কিভাবে বাঁচবে এতিম সুমাইয়াকে নিয়ে। এই দায় কার?এস.আলম পরিবহন নাকি রেলওয়ের? ছকিনা-সুমাইয়া তাঁদের নাগরিক অধিকার কি পাবেনা?এমন প্রশ্নগুলো বার বার নাড়া দিচ্ছে সকলের মনে৷তাই বলা বাহুল্য দোষী যে হোকনা কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে এটাই সকলের প্রত্যাশা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*