একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মাহাবুব চেয়ারম্যানের সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে

নাগরিক শোক সভায় গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মাহাবুব চেয়ারম্যানের সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে
স্টাফ রিপোর্টার:   চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের উদ্যোগে রাঙ্গুনিয়ার কৃতি সন্তান, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, ষাটের দশকে অন্যতম ছাত্রনেতা, পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব মাহাবুব আলম চৌধুরীর মৃত্যুতে নাগরিক শোক সভা আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর জেলা পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এম.পি। সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম.এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অধ্যাপক মো: মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বোরহান উদ্দিন এমরান, উত্তর জেলা আ: লীগ নেতা জসিম উদ্দিন শাহ, শেখ আতাউর রহমান, এডভোকেট বি.কে বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মো: সেলিম উদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য দিলোয়ারা ইউসুফ, পৌর মেয়র মো: জোবায়ের, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার কেবিএম শাহাজাহান, নারী নেত্রী এড. বাসন্তী পালিত, সৈয়দা রিফাত আক্তার নিশু। সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের নারী বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুন্নাহার খুশি। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহম্মদ, হাজী আবু বক্কর সিদ্দিকী, আলহাজ্ব ফোরকান উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা গৌরি শংকর চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বাদশা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মুক্তিযোদ্ধা খায়ের আহম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা লেয়াকত হোসেন, কেন্দ্রীয় ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত, সংগঠনের জেলা ও মহানগর নেতা সেলিম চৌধুরী, আব্দুল মালেক খান, শাহেদ মুরাদ শাকু, জসিম উদ্দিন, ইঞ্জি. পলাশ বড়–য়া, মনোয়ার জাহান মনি, পংকজ রায়, নুরুল হুদা চৌধুরী, হাজী সেলিমুর রহমান, আজম উদ্দিন মাহমুদ, মাহমুদল করিম, জাহাঙ্গির আলম, এড. ইফতেখার রাসেল, মইনুল আলম খান, যুবলীগ নেতা মো: ইউনুস, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাছির উদ্দিন রিয়াজ, যুবমহিলা লীগ নেত্রী এডভোকেট নিপা, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নেতা কামাল উদ্দিন, দীপন দাশ, নুরুল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, মো: হোসেন চৌধুরী সাদ্দাম, সেলিম হোসেন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বখতেয়ার সাইদ ইরান, সাধারণ সম্পাদক মো: আবু তৈয়ব ও বর্তমান সভাপতি তানভির হোসেন তপু এবং মরহুম নেতার সন্তান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার। নেতৃবন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আকতার কামাল চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, হাসান শহীদ মিলন, শফিকুল ইসলাম, সুপ্রিয় দাশ অপু, রফিকুল ইসলাম, এড. কামরুল আজম টিপু, সরওয়ার আলম মনি, আরিফ মঈনুদ্দিন, সনাতন চক্রবর্তী বিজয়, আশেক মাহমুদ মামুন, রেজাউল করিম সাগর, জাহাঙ্গীর আলম সুমন, আকতার হোসেন চৌধুরী, ইমতিয়াজ উদ্দিন, মহিউদ্দিন ইমন, কোহিনুর আক্তার, মোরশেদ আহাম্মেদ, আবু তালেব সানি, এমএইচ মানিক, আলহাজ্ব রুস্তম আলী, আফসারুল হক, এম এ হাসান, জাবেদ জাহাঙ্গীর টুটুল, ফারুক হোসেন চৌধুরী, আশরাফ খান, মো: ইব্রাহিম চৌধুরী, এড. কহিনুর আক্তার কনা, আবু ইসা, ওয়ায়েশ কাদের, নাছির আলী পান্না, ডা. জসিম উদ্দিন, মো: সেলিম, রমজান আলী প্রমুখ।

সভার শুরুতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন গণআজাদী লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী। সভায় প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, মাহাবুব চেয়ারম্যান ছিলেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত অকুতোভয় যোদ্ধা। অসাম্প্রদায়িকতার মননে মননশীল, বাঙালি সত্তার প্রতি নিবিষ্টচিত্ত দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি ছিলেন মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। উদারপ্রাণ চরিত্রের অধিকারী সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য আলোকিত পুরুষ ছিলেন তিনি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়া ও শরনার্থীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ সহ মাহাবুব চেয়ারম্যানের সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড পরবর্তী দু:সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এগিয়ে নিতে তিনি জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আমৃত্যু আপোষহীন ছিলেন তিনি। তার আদর্শিক পথেই নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণহীন, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দেশ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথি এম.এ সালাম বলেন, আল্লাহর সৃষ্টির সেরাজীব মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বড় ইবাদত; মাহাবুব চেয়ারম্যান সেই কাজটিই আমৃত্যু করে গেছেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তার জীবনের ব্রত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাই ছিল তার জীবনের রাজনীতির দর্শন। বিশেষ অতিথি মফিজুর রহমান বলেন, সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ হিসেবে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে তিনি আমৃত্যু নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রগতিশীল রাজনীতিতে যে শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পুুরণ হবার নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*