শ্রীমঙ্গল থানায় দীর্ঘ ১৪ মাস পর স্বপ্না বেগম খুনের মূল রহস্য উদঘাটন

শ্রীমঙ্গল থানায় দীর্ঘ ১৪ মাস পর স্বপ্না বেগম খুনের মূল রহস্য উদঘাটন

মোঃ শাহিন আহমেদ , শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইটুলা গ্রামের আলোচিত স্বপ্না হত্যার ক্লু উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। পরকিয়ার জেরে মাত্র দুই হাজার টাকার কারনে খুন হন স্বপ্না, পুলিশের জালে আটক প্রেমিক আজাদ। শনিবার দুপুর একটায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসি’র রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি কেএম নজরুল জানান, দীর্ঘ ১৪ মাস পর স্বপ্না বেগম খুনের মূল রহস্য উদঘাটন বের করা হয়েছে। এসময় খুনি প্রেমিক আজাদকে হাজির করা হয় সাংবাদিকদের সামনে। তিনি বলেন, গত ০১/০৮/২০১৭ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকায় সংবাদ পাওয়া যায় যে, শ্রীমঙ্গল থানাধীন সাইটুলা বস্তিতে স্বপ্না বেগম নামে একজন মহিলাকে গলাটিপে হত্যা করে ঘরের ভিতর ফেলে রাখা হয়েছে। উক্ত সংবাদ পাইয়া শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল, ইন্সপেক্টর অপারেশন মোঃ সোহেল রানা, এসআই মোঃ রফিকুল ইসলাম, এসআই মোঃ জাকারিয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া মৃত স্বপ্না বেগম (৩৫) এর মৃতদেহ উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে সুরতহাল প্রস্তুত করতঃ লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়। ওসি বলেন, ভিকটিমের বোন স্বপ্নার স্বামী গফুর মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ০২, তারিখ- ০২/০৮/২০১৭ইং, ধারা- ৩০২/৩৪। মামলার তদন্তকর্মকর্তা ইন্সপেক্টর অপারেশন, মোঃ সোহেল রানা ভিকটিমের স্বামী গফুর মিয়া’কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়া প্রকৃত খুনীকে সনাক্ত করেন, এবং ভিকটিম স্বপ্না বেগমের পরকীয়া প্রেমিক একই এলাকার মৃত হবিব মিয়ার পুত্র আজাদ মিয়া (২৮)কে, গত ০৭/০৯/২০১৮ইং তারিখ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ আজাদ মিয়া’কে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে খুনের কথা স্বীকার করে। এসময় গ্রেফতারকৃত আজাদ জানায়, স্বপ্নার স্বামী তার খালাতো ভাই সম্পর্কের সুবাদে গফুর মিয়ার পরিবারের সাথে প্রায় দশ বছর যাবত ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সুযোগে আজাদের সাথে প্রায় সাড়ে তিন বছর পূর্বে গফুরের স্ত্রী স্বপ্নার সাথে তার ঘনিষ্ট প্রেম-ভালাবাসার সম্পর্ক তৈরি করে। এর জেরে গফুরের সহিত তাহার স্ত্রী স্বপ্নার মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। স্বপ্না বেগম বিষয়টি আজাদকে জানালে সে সিএনজি যোগে স্বপ্না বেগমকে দুই সন্তানসহ তার রাজনগরস্থ পিতার বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। স্বপ্না প্রায় পাঁচ মাস পিতার বাড়িতে অবস্থান করে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ গিয়া আদমজী গার্মেন্টস্’এ চাকরী নেয়। স্বপ্না সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর আজাদ সেখানে চলে যায়। সেখানে স্বপ্না তাহার দুই সন্তানসহ আজাদের সাথে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একই কক্ষে বসবাস করতে শুরু করে। এভাবে প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বপ্না ও গফুরের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায় তারা পুনঃরায় ঘর সংসার করার সিদ্ধান্ত হইলে স্বপ্না নারায়ণগঞ্জ হইতে তাহার পিতার বাড়িতে চলে আসে এবং পরে গফুর মিয়ার বাড়িতে এসে ঘর সংসার শুরু করে। এর প্রায় ১৫/২০ দিন পর আজাদ মিয়াও নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়ি চলে আসে। আজাদ বাড়িতে এসে একদিন স্বপ্নার সাথে দেখা করে। ওসি আরো বলেন, গত ৩১/০৭/২০১৭ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার দিকে আজাদ স্বপ্নার স্বামী গফুরের বাড়িতে গিয়ে ঘরের টিনের বেড়ায় টোকা দিলে স্বপ্না জানালা খুলে। আজাদ তার সহিত বাইরে এসে কথা বলতে চাইলে রাত আনুমানিক সাড়ে দশ ঘটিকার দিকে সে দরজা খুলে বাইরে আসে এবং ঘরের দক্ষিণ দিকে কাঠাল গাছের নিচে বসে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে স্বপ্না বেগমের নিকট আজাদ মিয়া’র পাওনা ২,০০০/- টাকা চাইলে স্বপ্না বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এবং বলে সে স্বপ্না বেগমের কাছে কোন টাকা পাইবেনা। এতে আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে দুই হাত দিয়ে স্বপ্না বেগমের গলা ধরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে তার গলা চেপে ধরে ৫/৬ মিনিট। কিছুক্ষণ পর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে আজাদ বুঝতে পারে স্বপ্না মারা গেছে। আজাদ মিয়া তার মৃতদেহ টেনে হিচড়ে ঘরের ভিতর দরজার পাশে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দ্রুত পালিয়ে আসে। উল্লেখ্য এ ঘটনায় স্বপ্নার স্বামী গফুর এখনও জেলে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*