ফটিকছড়িতে আগাম নির্বাচনী গুঞ্জন কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন?

ফটিকছড়িতে আগাম নির্বাচনী গুঞ্জন কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন?
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,ফটিকছড়ি ;; আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফটিকছড়িতে শুরু হয়েছে আগাম নির্বাচনী গুঞ্জন। বিষেশ করে,শেষ র্পযন্ত বি এন,পি র্নিবাচনে আসবে কিনা,মহাজোট ও বি এন পি নেতৃত্ব দলীয় জোটে কে কে মনোনয়ন চাইবেন,শেষ র্পযন্ত দুই জোটে কে কে মনোনয়ন পাবেন,কে মনোনয়ন ফেলে জয়লাভ করবে মূলত এসব বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা জল্পনা কল্পনা।ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা ও দৌড় ঝোপ শুরু করেছেন।যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন দলের নেতার্কীদের সাথে।এলাকার বিবাহ,মেজবান,মাহফিল,খেলাধূলাসহ নানা অনুষ্ঠানে যথাসাধ্য উপস্থিত হচ্ছেন।তদবীর চালাচ্ছেন উপরের মহলে।আগমী ডিসেম্বরে জাতীয় র্নিবাচন হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এমন ইঙ্গিতে প্রার্থীরা গা ঝারা দিয়ে উঠছেন। এলাকার জনসাধারন ও দলের হাই কমান্ডের নজর কাড়তে চষে বেড়াচ্ছেন র্নিবাচনী এলাকা। নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা মাঠে নামায় নির্বাচনি আমেজে সরব ফটিকছড়ি।উপজেলার বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বি এন পির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এলাকায় শোনা যাচ্ছে।এছাড়া অন্যান্য দল থেকে ও সতন্ত্র অনেক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে ছিলেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহজোট প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম,প্রয়াত সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ার ছোট ভাই উত্তর জেলা আওয়ামীলীওগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী ও মালশিয়া আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা ড়.মাহমুদ হাসান,উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা নাজিম উদ্দিন মুহুরি,আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান সহ প্রায় ১৫ জন। অবশেষে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রদান করেন সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের কন্যা খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে।সকলকে পিছনে পেলে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে আলোচনার নতুর মাত্রা যোগ হয়েছিলেন তিনি । রফিকুল আনোয়ারের অনুসারীরা মনে করেছেন রফিকুল আনোয়ারের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরন করেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের অনুসারীরা মনে করছেন দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে রাজনীতিতে নবাগত খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে মনোনয়ন প্রদান দলের ভুল সিন্ধান্ত ছিল। মনোনয়ন দেওয়ার আগে এলাকায় গুঞ্জন ছিল জোটগত কারনে তরিকত ফেডারেশন মহাজোটে যোগ দিলে তরিকত ফেডারেশন চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী মহাজোটের ব্যানারে র্নিবাচন করতে পারেন ফটিকছড়ি আসনে। তিনি তরিকত ফেডারেশন থেকে মনোনয়ন জমা দিলেও শেষ র্পযন্ত মহাজোটের ব্যানারে তিনিই নির্বাচন করনে। মনোনয়ন বঞ্চিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাজোট প্রার্থী ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
সে সময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামীলীগের একটি অংশে বিরোধী হয়ে উঠেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ড. মাহমুদ হাসানকে পরাজিত করে নৌকা প্রতীক নিয়ে আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভা-ারী বিজয় লাভ করেন। সে সময় আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫১ ভোট। ড.মাহমুদ হাসােেনর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১২ হাজার ৪৩৩ ভোট। ড.মাহমুদ হাসান আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত থাকা স্বত্ত্বেও তিনি পরাজিত হন নৌকা প্রতীকের কাছে।
নির্বাচন পরবর্তী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা সঙ্গে ছিলেন,নানা কারনে তাদের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে এম পি নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর। এ অংশটির অনেকেই বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বদানকারী। বিভিন্ন সমাবেশে তারা দলীয় প্রার্থীর প্রতি জোড় দিচ্ছেন। এবং বর্তমান এমপি নজিবুল বশর মাইজভা-ারীকে নিয়ে বিষাদঘার করে যাচ্ছেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন যাদের নাম ষোনা যাচ্ছে তারা হলেন,চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরী,নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহজোট প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম,বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা এম তহিদুল আলম বাবু,প্রয়াত সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ার ছোট ভাই উত্তর জেলা আওয়ামীলীওগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার,প্রয়াত সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি,ব্যারিষ্টার তানজীব,আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান ও উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা ও ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মুহুরি নাম এলাকায় রটেছে। তবে মহাজোট সরকারের প্রার্থী হিসেবে এবারও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বর্তমান সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমনটিও শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ শেষ পর্যন্ত দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে কে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডয়াম সদস্য ও গৃহয়ন ও গণফূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশরাফ হোসেন কি ফটিকছড়ি থেকে র্নিবাচন করবেন এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে ফটিকছড়িবাসির মাঝে। দলীয় কোন্দল নিরসন ও আসনটি পুনরুদ্ধারে আগামী র্নিবাচনে শেষ র্পযন্ত ইঞ্জিনিয়ার মোশরাফ হোসেন কে মনোয়ন দিয়ে আওয়ামীলীগ চমক দেখাতে পারে এমনটি মনে কররছন ফটিকছড়িবাসি।তবে সম্প্রতি ফটিকছড়ির কয়েকটি অনুষ্ঠানে দল যাকে দেয় তার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।এ ব্যপারে ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেত্রীবৃন্দের সাথে কথা বললে তারা জানান আমরা এখনো এ রকম কোন কিছু শুনিনি ।ইঞ্জিনিয়ার মোশরাফ হোসেন সাহেবকে যদি দলীয় হাইকমান্ড ফটিকছড়িতে র্নিবাচন করার র্নিদেশ দেয় তাহলে আমরা তার সাথে ঐক্যবদ্ব হয়ে কাজ করব।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ বাকের বলেন,বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা তৃণমূলে যাচ্ছি। সাধারন মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছি। তৃণমূল নেতা কর্মীদের থেকে শুরু করে সাধারন সমর্থকরাও প্রত্যাশা করছে দলের জন্য নিবেদিত কেউ দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তারপরও সর্বোচ্চ সিন্ধন্ত নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিইি যাকেই মনোনয়ন দিবেন তার জন্যই কাজ করব। আমি মনে করি ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগে কোন বিভক্তি নেই। কয়েকজন নেতা কর্মীর মাঝে কিছু ভুলবুঝাবুঝি থাকলেও দলের স্বার্থে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ।
আাগামী র্নিবাচনে বি এন পি নির্বাচনে আসলে ফটিকছড়ি আসনে বিএন পি র্প্রাথী কে হচ্ছেন ?এ প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারন নেতার্কমী ও এলাকাবাসীর মাঝে । নবম জাতীয় সংসদ র্নিবাচনে এ আসন থেকে র্নিবাচন করে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন বি এন পি র্প্রাথী সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরী। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই যুদ্ধপরাধীর অভিযোগে আটক হয়। পরবর্তী তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরীর পরিবার থেকে কোন একজন মনোনয়ন চাইবেন এমনটি শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরীর ভাই বিএন পি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফটিকছড়িতে বেশ কয়েকবার আগমন ঘটায় আলোচনার ঝর উঠে এলাকায়। তনিই আগামী র্নিবাচনে এ আসন থেকে র্নিবাচন করতে পারেন এমনটি মনে করছেন অনেকে। এছাড়া সাল্্্্্্্্্্্্্্্উাদ্দীন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ও পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যানদের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন,কেন্দ্রীয় বি এন পির তথ্য ও গভেষণা সহ-সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী। সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়জী,চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন,বি এনপি নেতা ডাঃ খুরশীদ জামিল চৌধুরী,বি এন পিতে যোগদানকারী ও সাবেক উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল আজিমউল¬াহ বাহার,উত্তরজেলা বি এন পি নেতা মির্জা মোহাম্মদ আকবর,উপজেলা বি এন পি একাংশের আহবায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন,সালাউদ্দন কাদের চৌধুরীর প্রিয়জন হিসেবে পরিচিত ও উপজেলা বি এন পির একাংশের আহবায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি সরওয়ার আলমগীর।
এ ব্যাপারে সরওয়ার আলমগীর বলেন,আমার বিশ্বাস এ আসনে মনোনয়ন পাবেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের যে কোন একজন। যিনি মনোনয়ন পাবেন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য কাজ করব। কোন কারনে উক্ত পরিবারে কেউ এ আসনে নির্বাচন না করলে তাহলে আমি অবশ্যই মনোনয়ন চাইব।
ডাঃ খুরশীদ জামিল চৌধুরী বলেন,বি এন পি নির্বাচনে আসলে আমি এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো ইনশাআল্লাহ। আমি ব্যতীত অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন প্রদান করে ব্যপক প্রচারনায় অংশ নেবো। ফটিকছড়ি উপজেলা বি এন পিতে কিছু নেতা কেন্দ্রীক বিভক্তি থাকলেও কর্মী সমর্থকরা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। আমি নেতাদের মধ্যে দুরত্ব কমানোর চেষ্টায় ছিলাম ও আছি। নির্বাচনে দলীয মনোনয়ন প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থকাটা স্বাভাবিক। তবুও আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইনশাআল্লাহ আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসন বি এন পিই পাবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিড়িয়ার সমর্থন আমরা আশা করবো।
আওয়ামীলীগ চাই এ আসনটি ধরে রাখতে। বি এন পি চাই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে ।
তবে যোগ্য র্প্রাথীর উপর র্নিভর করবে এ আসন এমনটি মনে করেন রাজনীতি পর্যবেক্ষক মহল। শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয় দু জোটে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন।এবং শেষ হাসি কে হাসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*