মান্দা ফেরীঘাটের সেই ট্রাফিক আজহার পাচ্ছেন ইটের বাড়ি!

মান্দা ফেরীঘাটের সেই ট্রাফিক আজহার পাচ্ছেন ইটের বাড়ি!
মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ অবশেষে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক আজাহার আলীকে একটি বাড়ি তৈরী করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের রেশন থেকে প্রতিমাসে তাকে সহযোগিতা করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। সেই সাথে জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বাই সাইকেল দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
‘স্বেচ্ছাশ্রমে ২০ বছর ট্রাফিক সেবায় আজাহার’ শিরোনামে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিউজটি প্রকাশ হয়। এরপর নিউজটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে প্রশাসনের উচ্চ মহলে আজাহারের বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজাহারকে নিয়ে নিউজ প্রকাশ করা হয়।
আজাহার আলী বলেন, আমার অসহায়ত্ব দেখে এসপি স্যার (পুলিশ সুপার) যে সহযোগীতা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আশা করছি পরিবার পরিজন নিয়ে একটু মাথা গোজার ঠাঁই হবে। আর আমাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ভাবে তুলে ধরা হয়েছে সাংবাদিককের প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আলী মন্ডল বাবু বলেন, আজাহার নিতান্ত অসহায় ব্যক্তি। ফেরিঘাটে ট্রাফিক সেবা দিয়ে তার জীবন জীবিকা চলে। যেহেতু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি বাড়ি করে দেয়া ও সহযোগীতা করা হবে বলে শুনছি। যা খুবই ভাল উদ্যোগ। এতে আজাহারে সেবা দেয়ার মানষিকতা আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করছি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, এসপি স্যার নিজেই আজাহারকে বাড়ি তৈরী করে দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার বাড়িতে ইট, বালু ও অন্যান্য জিনিসপত্র পৌছানো হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই দুই ঘর বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান অ¤ান জ্যোতি নাগ বলেন, আনসার ভিডিপি থেকে আজাহার আলী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি যে জনকল্যাণ মূলক কাজ করছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মান্দা উপজেলা মাসিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে একটি বাই সাইকেল দেয়ার জন্য মনস্থির করেছি। যাতে তিনি বাড়ি থেকে গন্তব্যস্থলে আসা যাওয়া করতে পারেন। শিগগিরই তাকে বাই সাইকেলটি দেয়া হবে বলে আশা করছি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে স্বেচ্ছায় ট্রাফিকের সেবা দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন আজাহার আলী। মহৎ কাজে পুলিশ সবসময় সহযোগিতা করবে। প্রাথমিক অবস্থায় তার জন্য একটি ইটের বাড়ি তৈরি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে অন্যান্য সহযোগীতা করা হবে।
উল্ল্যেখ, নওগাঁর মান্দা ফেরিঘাটে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে চৌরাস্থা ও মহাদেবপুর উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক আজাহার ২০ বছর যাবৎ স্বেচ্ছাশ্রমে ট্রাফিক সেবা দিয়ে আসছেন। এরমধ্যে মহাদেবপুরে ৮ বছর ট্রাফিক সেবা দিয়েছেন। দরিদ্র ও ভূমিহীন এ আনসার সদস্য পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কুড়োঘরে বসবাস করে আসছেন। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষীরামপুর গ্রামে।
শত অভাব ও প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও এতোগুলো বছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছেন পঞ্চাশর্ধ্ব আজাহার আলী। প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ন ওই স্থানটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস ভাবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করায় দূর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। তবে ইউএনও অফিস ও থানা থেকে যে আর্থিক সহযোগীতা তাকে দেয়া হতো তা ছিল যথসামান্য। অভাবের টানাপোড়ন সংসারে কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরাতে জেলা প্রশাসন এগিয়ে এসেছে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*