স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, ঘাতক স্বামী আটক

স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, ঘাতক স্বামী আটক
এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলায় পারিবারীক কলহের জের ধরে প্রকাশ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী এনামুলকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটানায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এনামুল খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে। এব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে পৌর শহরের কুমারখালী এলাকার টি এ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে একটি কোচিং সেন্টারে স্ত্রী শান্তার পড়তে গেছিল। সেখান থেকে এনামুল তাকে কথা বলরে জন্য ডেকে বের করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বামী এনামুল তার ওপর হামলা করে এবং হাতে থাকা ছোড়দিয়ে কোপাতে থাকে। ছোড়ার এলোপাথারী আঘাত ঘটনাস্থলেই শান্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করে। অবস্থা অবনতি দেখে ডাক্তার তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে পঠিয়ে দেয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে খুলনা মেডিকেলে নিলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। তবে শান্তাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে রেখে স্বামী এনামুল পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খুলনা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। নিহত শান্তার মামা উপজেলা সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমাকে জামাতা এনামুল মোবাইল ফোনে জানায়, শান্তা খুব অসুস্থ তাকে হাসপাতালে ভার্তি করা হয়েছে। খবর সোনার সাথে সাথে আমি হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে যেয়ে দেখি খুলনায় নিয়ে গেছে। তখনই খুলনার উদেশ্যে রওয়ানা হলে পথি মধ্যে তার মৃত্যুর খবর পাই এবং এনামুল পালিয়ে গেছে বলে জানায় তার ছেলে। তবে তার বোনের মেয়ের হত্যার সুষ্ঠ বিচার চায় তিনি। এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১১টারদিকে ওই কোচিং সেন্টারে পড়া অবস্থায় শান্তাকে তার স্বামী এনামুল শেখ ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার সহপাঠীরা রক্তাক্ত আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয় শান্তার। এদিকে নিহত শান্তার স্বামী এনামুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গত কয়েকদিন আগে পারিবারীক সমস্যার কারনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে শান্তা শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যায়। এরপর দুপুরে আমরা শুনতে পারি শান্তা গুরুতর অসুস্থ, তাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং সেখানে তার মৃত হয়েছে। মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, নিহত শান্তা পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডে টি এ ফাাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে বটতলা এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেনের মেয়ে। এব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*