চাকরিচ্যুতির কারণ কোন পক্ষই প্রকাশ করছে না : জনমনে উদ্বেগ

আজাদী’র দুই সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে সিইউজে’র দৃঢ় অবস্থান

চাকরিচ্যুতির কারণ কোন পক্ষই প্রকাশ করছে না : জনমনে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ৭ অক্টোবর দৈনিক আজাদীর দুই সাংবাদিক সবুর শুভ ও ঋত্বিক নয়ন এর চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন। উক্ত দুই সাংবাদিককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যােগে দৈনিক আজাদীর সামনে আয়োজিত সংগঠনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকরা। অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সাবেক সাধারন সম্পাদক এম নাসিরুল হক,সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ,সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ,সিইউজে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম সামশুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক তাহের, দৈনিক পূর্বদেশ যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের মোহাম্মদ, স্বরুপ ভট্টাচার্য্য,আহমদ কুতুব,প্রিতম দাশ প্রমুখ। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক এ কে এম জহুরুল ইসলামের ইন্দনে মালিকপক্ষ তাদেরকে বহিষ্কার করেছে। এর পাল্টা হিসেবে গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য জহুরুল ইসলামকে সিইউজে থেকে বহিষ্কার করা হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, দৈনিক আজাদী থেকে অতীতে সম্মানজনকভাবে কোন সাংবাদিক চাকরি থেকে বিদায় নিতে পারেনি। চাকরীচ্যুত দুই সাংবাদিককে চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা অবস্থান কর্মসূচিতে হুশিয়ারী প্রদান করেন। এদিকে, কি কারনে দুই সাংবাদিককে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে আজাদী কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন এখনও ঘটনার বিবরণ জনসাধারনের মাঝে প্রকাশ করেননি। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন সাংবাদিকসহ সাধারণ সাংবাদিকরাও বিব্রতবোধ করছেন। এই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসার কারণে এবং প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ না হওয়ায় সাধারন জনগন,বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংবাদপত্র পাঠকদের মাঝে সন্দেহজনক নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এই ঘটনায় চট্টগ্রামের সুধী সমাজ যেমন বিস্মিত অপরদিকে প্রকৃত ঘটনা জানতে না পেরে তারা আজাদী কতৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতি অসন্তুষ্ট । বিভিন্ন সুত্র এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের থেকে জানা যায়, দীর্ঘ তিন চার বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, আজাদীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছাপানোতে পক্ষপাত ও অনৈতিক সুবিধা আদায় করা হয়। তারা এও দাবি করেন, এই অনৈতিক সুবিধা আদায় করা নিয়ে সহ-সম্পাদক ও স্টাফ রিপোর্টার মিলে দৈনিক আজাদীর পাঁচ ছয়জন সাংবাদিকদের মধ্যে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে যাদের মধ্যে বার্তা সম্পাদক জহুরুল ইসলামও জড়িত আছেন। সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরো দাবি করেন, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছাপানোতে কারা কারা জড়িত দৈনিক আজাদী কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে আজাদীর অনৈতিক সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের নামসহ আরো বিস্তারিত জানতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*