লালমনিরহাটের  মেধাবী রায়হান এর লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে নিতে সমাজের বৃত্তবানরা কেহ হাত বাড়াবেন কি? 

লালমনিরহাটের  মেধাবী রায়হান এর লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে নিতে সমাজের বৃত্তবানরা কেহ হাত বাড়াবেন কি? এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট। অভাব অন্যটন ঘরের অদম্য মেধাবী আবু রায়হান ডাক্তার হবার স্বপ্নে সে দিন রাত পরিশ্রম করেন। বাবা একজন দিনমজুর ও বর্গাচাষী। সে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত সাফল্য ধরে রেখেছেন। এ সাফল্য হাসি ফুটিয়েছে তার গরিব বাবা মার মুখে।

ডাক্তার হবার স্বপ্নে সে শত অভাবের মাঝেও দাদনের টাকায় পড়াশুনা চালিয়ে সে এবার রংপুর মেডিকেল কলেজে মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে রংপুর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪৪১ তম মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ভর্তি হওয়া কথা থাকলেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারবেন কি না আবু রায়হান সে চিন্তায় দিনাতিপাত করছে। অভাবের সংসারে কে কী ভাবে ভর্তি টাকা জোগান দেবে? তার পড়াশুনার খরচ কে জোগাবে এই চিন্তুায় অসহায় পরিবারটি ভেঙ্গে পড়েছে।

আবু রায়হান উপজেলার পারুলিয়া তফশলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস ও হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উর্ত্তি হন।

জানা গেছে, সে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকা পাড়া ইউনিয়নের উত্তর পারুলিয়া গ্রামের বর্গাচাষী সাদেকুল ইসলাম ও রওশনা বেগমের ছেলে। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তাদের অভাব অনটনের সংসার। তার বড় মেয়ে সাবিনা খাতুন রংপুর সরকারী কলেজে ইংলিশে অনার্স ও মেজো মেয়ে শাবানা আক্তার সে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ও সবার ছোট মেয়ে রায়হানা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশুনা করছেন।

তাদের সংসার ও ভরণপোষন, তিন মেয়ে ও এক ছেলের লেখা পড়ার খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জায়গা জমি তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়ায় ৫ শতক জমির উপর একটি মাত্র টিনের ঘরেই বসবাস তাদের।

এ দিকে সাদেকুল ইসলামের স্ত্রী রওশনা বেগমের গত দুই বছর আগে ব্রেস্ট ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে পড়লে তার চিকিৎসায় প্রায় নি:স্ব হয়ে পড়েন।

আবু রায়হান বলেন, আমার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। চিকিৎসক হয়ে আমি গরিব মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা করাতে পারি।

তার বাবা সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ দিকে ক্যান্সার আক্রান্ত আমার স্ত্রীর চিকিৎসা ও দাদনে টাকায় আমি জর্জরিত। তাই ছেলের ডাক্তারী ভর্তি ও তার পড়াশুনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই সমাজের বিত্তবান ও কোন সংস্থার কাছে ছেলের ডাক্তারী পড়াশোনার জন্য সাহায্যের আবেদন করছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান বলেন, ছেলেটি আসলেই মেধাবী ও গরিব। কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার তাকে সহায়তা করলে তার কাংক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*