ময়মনসিংহে ৭৬৪ টি মন্ডপে দুর্গাপুজা হবে

ময়মনসিংহে ৭৬৪ টি মন্ডপে দুর্গাপুজা হবে
মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : শরতের কাশফুল ও শিউলি ফুলের সুবাসে ক’দিন পরই দূর্গতিনাশিনী মা দূর্গা আসছেন। মর্তলোকে,দেবীর আগমনকে ঘিরে ময়মনসিংহে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ প্রতিমার শরীরে শেষ অংশ মাটি বসাচ্ছেন, আবার কেউ নিপুন হাতে রং তুলির শেষ আছড় দিয়ে প্রতিমাকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলছেন। শিল্পীদের ব্যস্ততা দেখলেই বোঝা যায় হাতে বেশি সময় নেই। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুযায়ী কারিগররা দাম ও সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় দিনদিন তারা এই শিল্পের প্রতি উৎসাহ হারাচ্ছেন। এছাড়াও প্রতিমা তৈরির কারিগররা শ্রমিক সংকটের কারনে হিমশিম খাচ্ছে।
মানবজাতির শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে দেবী দূর্গা শরতের কাশফুল ও শিউলি ফুলের সুবাসে দূর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে মঙ্গল বাধঁনে বরণ করতে ময়মনসিংহে ৭৬৪ পুজামন্ডপ ও মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিমা শিল্পীরা খাওয়া ধাওয়া ছেড়ে রাত-দিন ক্লান্তিহীনভাবে মূর্তি তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন। দেবী দূর্গাকে রঙ-তুলির আঁচরে জীবন্ত রূপ দিতে মন্ডপে মন্ডপে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে। দেবীকে গহনা আর নানান সাঁজে সাজানো হচ্ছে। উপযুক্ত পারিশ্রমিক আর শ্রমিক সংকটে হতাশ কারিগররা। এছাড়া পূঁজামন্ডপ গুলোকে সাঁজানো হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সাঁজে। রঙ-বেরঙের প্রাসাদসম তোরণ আর লাইটিংয়ে পাড়া-মহলা আলোকিত করতে দম ফেলার ফুসরত নেই সাজসজ্জা, তোরণ ও মঞ্চ তৈরীর শ্রমিকসহ পূঁজারীদের।জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা জানান, জেলার ৭৬৪টি পূজামন্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি পূঁজা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য বড় বড় মন্দির ও মন্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দূর্গাপূজা উপ লক্ষে মন্ডপগুলোতে আরতী প্রতিযোগিতা,প্রসাদ বিতরন,ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,রক্তদান ও বস্ত্র বিতরন করা হবে।পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসছে। দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব, বিভাগীয় শহরসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় এ বছর ৭৬৪ পূজামন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপিত হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন ষড়যন্ত্রকারী চক্র যাতে বিচ্ছশৃংখল পরিস্থিতি ও আইন শৃংখলার অবনতি ঘটাতে না পারে সেই লক্ষ্যে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব ক’টি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিস রাত-দিন কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী বাহিনীর টহলে থ্কাবে।
শারদীয় দূর্গোৎসব সার্বজনীন উৎসবে রূপ নেবে এমন প্রত্যাশা করে জেলা প্রশাসক ডঃ সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন সুন্দরভাবে পূজা-অর্চনা করার জন্য সরকার জেলার প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ করেছে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক দেশের সব মানুষ এক অভিন্ন হিসেবেই হিন্দু সম্প্রদায় শারদীয় দূর্গোৎসব পালন করবে বলে সকলের প্রত্যাশা। দূর্গতিনাশিনী মা দূর্গা দীর্ঘ একটি বছর পর তার সন্তানদের মাঝে নৌকায় আগমন করে আবার দেবী কৈলাসে স্বামী গৃহে দোলায় ফিরে যাবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে দূর্গাপূজা শুরু হবে এবং ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে। এবার বিভাগীয় শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূঁজা ও শিববাড়ি মন্দিরে নারী শক্তির আয়োজনে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*