প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছে ডরিন: শৈলকুপা থানায় অপহরণ মামলা

প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছে ডরিন: শৈলকুপা থানায় অপহরণ মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর গ্রামে। ওই গ্রামের আলমগীর হোসেন বাদশার মেয়ে ডরিন(১৭) প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী প্রবাসী নজরুলের ছেলে সাজন (২৩) সাথে। গ্রামের অনেকেই তাদের ভালবাসা সম্পর্কে জানত। গত ৫/৮/২০১৮ তারিখে ঈদুল আজাহার ১৭ দিন আগে তারা ঝিনাইদহে হাজির হয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স সংশোধন করে তারা ২ জনে বিয়ে করে। ডরিন সাজনের সাথে বিয়ের কথা বাড়িতে বলে দেয়। বলে দেওয়ার পর শুরু হয় তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এই নির্যাতনের কারনে গত ২১ আগষ্ট ২০১৮ তারিখ মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ী হইতে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে ডরিন তার স্বামীর সাথে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তখন ঘটনার দিন ডরিনের বাবা হয়রানি করার জন্য শৈলকুপা থানায় একটি অপহরন মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যাহা শৈলকুপা থানার মামলা নং-১৭ তাং ২১/০৮/২০১৮ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০(সেঃ শোধনী০৩)এর ৭/৩০ ধারায়। মামলার আসামীরা হলো,পদ্মনগর গ্রামের বিদেশ প্রবাসি নজরুল ইসলাম মোল্যার ছেলে সাজন(২৩) ও চররুপদাহ গ্রামের মৃত আঃ বারিক বিশ্বাসের ছেলে রান্নু(৪৫)সহ আরো ২/৩জন। বাবা মায়ের ভয়ে ওরা বাড়ি ফিরে আসে না। প্রায় ২ মাস হয়ে গেল। এখন বাদশা হুমকি দিচ্ছে যে সামাজিক বিরোধের জের ধরে গ্রামের আর মানুষকে হয়রানি করার জন্য গুম মামলা করার।
এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে”দুই মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি শৈলকুপার পদ্মনগর গ্রামের অপহৃত স্কুল ছাত্রী ডরিন” এই শিরোনামে প্রচার জানতে পেরে ডরিন ও সাজন স্থানের কথা গোপন করে ইমোর মাধ্যেমে ভিডিওর কলে জানায়ে বলে যে আমারা দুই জন দুইজনের ভালবাসি। ভালবেসে ঈদের এক মাস আগে বিয়ে করেছি। বিয়ের কথা বাড়িতে জানার পর বাবা মা বাড়িতে নির্যাতন করত। অন্য জাইগা আমার বিয়ে ঠিক করে, আমি সাজনের না হলে থাকতে পারব না বলে ঈদের আগের দিন সাজনের হাত ধরে বাড়ি থেকে পলায়ে আসি। এখন ওরা যা করতেছে তা তাদের সব গুলো ভুল। আমি স ইচ্ছাই বিয়ে করেছি আমার পরিবার যদি তাকে মেনে নেয় তাহলে আমি তাদের সামনে যেয়ে দাঁড়াব। যদি তারা আমাকে একা চায় তাহলে তারা আমার মরা দেখতে পাবে। আমি জীবনে কোন দিন সজলের ছেড়ে থাকতে পারব না। যদি আমাদের ভাল চাই তাহলে দুই পরিবার মিলে আমাদের নিয়ে গেলে আমরা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াব। আমারা দুই জন দুই জনের ভাল বাসি কথা টা বার বার উল্লেখ করে।
এই ঘটনা নিয়ে ডরিনের মা পারভিন সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেছে যে তারা আদালতে আরেকটি গুম-হত্যার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে এ বিষয়ে গত ০৯ সেপ্টেম্বর রবিবার জেলা আইন শৃংঙ্খলার মিটিংয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসককে, সিনিয়র সহকারি এসপি (হরিণাকুন্ডু-শৈলকুপা) সার্কেল তারেক আল মেহেদী এ ঘটনার বিষয়সহ ০৫/০৮/২০১৮ তারিখের নোটারী পাবলিকে বিবাহ সংক্রান্ত এ্যাফিডেভিট নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা আইন শৃংঙ্খলা মিটিংয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় যে নোটারী পাবলিক বিবাহ সংক্রান্ত এ্যাফিডেভিট গ্রহন যোগ্য নহে এবং বাল্য বিবাহ থেকে বিরত থাকার জন্য ঝিনাইদহ নোটারী পাবলিক এর দুইজন আইনজীবিকে উক্ত মিটিংয়ে আইন অমান্য করে বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত এ্যাফিডেভিট পুনরায় যাতে না হয় সে বিষয়ে সর্তক্য করেন এবং ডরিনকে উদ্ধার পূর্বক আসামীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির জন্য মিটিংয়ে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাসকে নির্দেশদেন। কিন্ত এই ব্যাল্য বিবাহের সহযোগিতা করার জন্য আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোন শাস্তির ব্যবস্থা হয়নি।
এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন যারা ভালবাসা করে আইনজীবীর মাধ্যেমে বিয়ে করে সংসার করছে তাদের নিয়ে এসে সংসার ভেঙ্গে দিতে হবে কেন? এই কারনে যদি দুই প্রান ঝরে যায় তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে। আইনজীবী যদি সহযোগিতা না করত তাহলে কি এদের বাল্য বিবাহ হত। এই বিবাহ করার জনয যদি এদের সহ বাপ মায়ের শাস্তি হয় তাহলে একই শাস্তি কেন আইনজীবীর হবে না।
এই ঘটনার বিষয়ে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আয়ুবুর রহমান জানান, অপহৃত অষ্টম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ডরিনকে উদ্ধারের সর্বাক্তক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আসামী গ্রেফতার সহ মেয়েকে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত আছে এবং থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*