ধর্মীয় জীবন যত বেশি উপলব্ধি করবে জীবন তত সুন্দর হবে

সাক্ষাতকারে সনাতনী ব্যক্তিত্ব ডা.অঞ্জন কুমার দাশ
ধর্মীয় জীবন যত বেশি উপলব্ধি করবে জীবন তত সুন্দর হবে

মানুষ মানবিক কাজ যত বেশী করবে সে তত মহৎ হবে। ভালো কাজের মধ্যে আনন্দ ও ভগবানকে খুজে পাওয়া যায়।মানুষ ধর্মীয় জীবন যত বেশি উপলব্ধি করবে জীবন তত সুন্দর হবে।

গত ১২ অক্টোবর তার চেম্বারে আলাপে মাসিক মৌচাক এর বার্তা সম্পাদক রাজীব চক্রবর্তীকে ডা.অঞ্জন কুমার দাশ এসব কথা বলেন।

তার শিক্ষাজীবন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মায়ের হাতেই তার শিক্ষা জীবনের হাতে খড়ি , বাবা ঢাকায় সরকারি চাকরি করতেন সেই সুবাদে ঢাকার উদয়ন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরবর্তীতে আজিমপুর ওয়েস্ট এন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। সপ্তম শ্রেণী থেকে পর্যায়ক্রমে ১৯৮৮ সালে হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯০ সালে এইচএসসি ও ১৯৯২ সালে ডিগ্রী পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীণ হন। এরপর তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম থেকে মার্কেটিং বিভাগের উপর এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি হোমিও চিকিৎসার ওপর ডিএইচএমএস, বি এইচ বি কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি প্যারামাউন্ট গ্রুপের পার্সোনাল ম্যানেজার ও হোমিও হিলিং হোমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবাই নিয়োজিত আছেন।

রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন এর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনীতিতে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুনে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনীত হন। তিনি দক্ষিণ আগ্রাবাদ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকশিত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

সামাজিক কর্মকান্ড বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, দক্ষিণ আগ্রাবাদ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি সুচারু কর্মকান্ডের কারণে সভাপতি পদে মনোনীত আছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ আগ্রাবাদ গীতায়ন মন্দিরে গত ১৯ বৎসর যাবৎ প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি গঠিত হলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর এর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে মেধা ও কর্ম দক্ষতায় বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি(বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও দেশের বৃহত্তর পেশাজীবি হোমিওপ্যাথিক সংগঠন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আলাপে আরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আপনি দীর্ঘ দিন গীতা শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত, এটা সনাতনী সমাজে কতটুকু প্রভাব পড়েছে ? এর উত্তরে তিনি বলেন, খুব ভাল প্রভাব পড়েছে, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির বর্তমান কার্যক্রম দেখে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংগঠনগুলো উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক)’র জন্মের পর থেকে সারা বাংলাদেশে গীতা শিক্ষার যে আন্দোলন তৈরি হয়েছে,তা চলতে থাকলে সনাতনী সম্প্রদায় চলনে বলনে আচার-আচরণে গীতাকে অনুসরণ করে একটি সুশৃঙ্কল সমাজ গঠনে ভুমিকা রাখবে। তিনি আলাপে আরো বলেন,শুধু গীতা শিক্ষা নয়, পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক কর্মকান্ড,বিনামূল্যে শিক্ষার উপকরণ প্রদান, গরীব দুঃস্থদের সাহায্য সহযোগিতা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মত সেবামুলক কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি।

শারদীয় দুর্গাপূজার একাল-সেকাল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ পূজায় সাত্তি¦ক পূজার নিয়মে পালন করতে দেখা গেলে শহরাঞ্চলে এই নিয়মের পূজা তেমন চোখে পড়ে না। গ্রামাঞ্চলে উপোস রেখে নারী পুরুষ সবাইকে পূজায় পুষ্পাঞ্জলি দিতে দেখা যায় কিন্তু শহরাঞ্চলে খুব কমই দেখা যায়, উপোস রেখে পুজায় পুষ্পাঞ্জলি দিতে। আমাদের সকলকে বুঝতে হবে, জানতে হবে, শারদীয় দূর্গাপূজা কি? কেন মায়ের আগমন? আবার মায়ের চলে যাওয়া, বিদায় নেওয়া! এই বিষয়গুলো শিক্ষা নিলেই আমাদের মাঝে সাত্বিক পূজার ভাবোদয় হবে।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৎ ভাবে ও সততার সাথে কাজ করে যেতে চাই। “জীবে প্রেম করে যেজন সেজন সেবিছে ঈশ্বর”। আর ঈশ্বরের সেবার মাধ্যমে নিজের আত্মতুষ্টি সম্ভব। যতদিন বেঁচে থাকব ধর্ম ও মানবসেবার মধ্যেই নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।

ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহন করেন। পিতা ডালিম কুমার দাশ, মাতা যমুনা রানী দাশ। দুই ভাই বোনের মধ্যে তিনি সকলের বড়। তার স্ত্রী শম্পা রানী দাশ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উপর ¯œাতকোত্তর অর্জন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*