কোম্পানীগঞ্জে নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় ১০ গ্রাম সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার

গ্রামীণ ফোনকে না বলে অন্য অপারেটরে বদল
কোম্পানীগঞ্জে নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় ১০ গ্রাম সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার
আলী হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট): সিলেট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রামীণ ফোন কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি। ফলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রামীণ ফোন ব্যবহারকারী গ্রাহক।
জানা গেছে, বর্তমানে অনেক গ্রাহকরা গ্রামীণ ফোনের এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে এবং গ্রামীণ ফোনকে না বলে অনেক গ্রাহকরা বদল করে চলে গেছেন অন্য অপারেটরে ।
গ্রামগুলো হলো- বনপুর (কামালবস্তি), লামাগ্রাম, লামাগ্রাম হাওর, তুরং, উত্তর জাঙ্গাইল, রায়পুর, বিজয়পাড়–য়া হাওর, বেকিমুরার পাড়, কাকুরাইল ও বতুমারা।
স্থানীয় সূত্রে জানান গেছে, বনপুর কামালবস্তি, বনপুর খাসের বস্তি, লামাগ্রাম, তুরং, উত্তর জাঙ্গাইল গ্রামে আজও পর্যন্ত কোন মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর নেটওয়ার্ক সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও তাতে স্পষ্ট ভাবে কথা শোনা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ওই এলাকার হাট-বাজার, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্টনে তথ্য প্রযুক্তি এবং অনলাইন ভিত্তিক দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগেও সিম অপারেটর কোম্পানী গুলোর এমন সেবায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
বনপুর আদর্শ চরারর বাজারের ব্যবসায়ী ডা. মিঠু গোস্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল যুগে আজও আমাদের চরার বাজারে গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর নেটওয়ার্ক ঠিক মতো পাই না। এ বিষয়ে গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর অফিস, এবং হেল্প লাইনে একাধিকবার জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।
চরার বাজারের মোবাইল ও ফ্লেক্সি লোড ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় সব কোম্পানীর নেটওয়ার্ক অত্যান্ত দুর্বল। মোবাইলে জরুরী কথা বলার সময় কলড্রপ, ইমারজেন্সি নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নেটওয়ার্কের এ অবস্থা মেনে নেয়া যায়না। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চরার বাজারের হেলাল টেলিকমের স্বত্ত্বাধিকারী মো. হেলাল আহমদ বলেন, সিম তুলতে এবং সিম রেজিস্ট্রেশন করাতে গিয়ে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে অনেক সময় আমরা গ্রাহকদের সেবা দিতে পারি না।
রণিখাই হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী জানান, তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে স্কুলের ফরম পূরণ থেকে শুরু করে নেটওয়ার্কের কারণে সকল কাজ আটকে আছে।
কলেজ ছাত্র আলীম উদ্দিন বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল যুগেও পরীক্ষার ফলাফল , ভর্তি ও চাকরির আবেদনসহ অনলাইন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ধীরেন্দ্রে বিশ^াস জনান, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা নেটওয়ার্কের জন্য পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। তারা অনেক্ষন অপেক্ষমান থেকেও নেটওয়র্কের কারণে দু:খ নিয়ে অবশেষে খালি হাতে ফিরতে হয় বাড়িতে। এতে গ্রাহকরা পড়েন বিড়ম্বনায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এবং বর্তমান সরকারের ডিজিটালাইজেশনে নেটওয়ার্কের এ রকম অবস্থা মেনে নেয়া যায়না। এই কষ্ট লাগবে দ্রুত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন জানান, অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের কয়েকটি গ্রাম গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্কের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত। সঠিক ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছিনা। এবং ফোনে কলড্রপ, লাইন কেটে যাওয়া এগুলি খুবই বিরক্তিকর। তিনি দাবি করে বলেন, গ্রামীণ ফোন এমন কি সকল সিম কোম্পানীর কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কামনা করছি। পরিশেষে তিনি বলেন, এ ধরনের একটি সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আমাদের গ্রামকে উপকৃত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*