হালকা কুঁয়াশা আবাস দিচ্ছে শীতের

হালকা কুঁয়াশা আবাস দিচ্ছে শীতের
উজ্জ্বল শিকদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলায় চড়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে হেমন্ত। ‘কার্তিকের নবান্নের পটুয়াখালীতে নামতে শুরু করেছে মিহি মসলিনের মতো কুঁশায়া। বাতাস কিছুটা শুষ্ক হলেও তাতে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব।শীতকে স্বাগত জানাতে ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। তবে এখন শীত ভাবটা কেবল রাতেই দেখা যাচ্ছে। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও সাধারণত হেমন্তকেই ধরা হয় শীতের পূর্বাভাস হিসেবে। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই দু মাস নিয়ে হেমন্তকাল। হেমন্ত মানেই শিশির স্নাত প্রহর। শরতের কাশফুল মাটিতে নুইয়ে পড়ার পরপরই হেমন্তের আগমন ঘটে। এরপরে আসে শীত। তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস।হেমন্তের সকাল বেলা আবছা কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারিদিকের মাঠ-ঘাট।
সকালে ধান গাছের ডগায় ডগায় যে শিশির বিন্দু জমে থাকে তা হেমন্তের জানান দেয়। গাছের নরম-কচি পাতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। হেমন্তের রাতে মেঘমুক্ত আকাশে জোৎস্নার আলো যেন অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ঠিকরে পড়ে। আর এই সময়ে হালকা শীত অনুভূত হয়। তবে এখন প্রতিদিনই রাতের তাপমাত্রা একটু একটু করে কমছে। দিনের ভাগে বেশ গরম অনুভূত হয়। তাই এখনই শীত আসছে তেমনটা বলার সুযোগ নেই। সকাল কিংবা সন্ধ্যায় শীত অনুভূত না হলে তাকে শীতকাল বলা যায় না।
এখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গ্রামাঞ্চলের সন্ধ্যার দিকে তা বাষ্পাকারে দেখা যায়। সেটি কুয়াশা না। তবে কার্তিক মাস এসে গেছে। এ সময় বাতাসের দিক পরিবর্তন হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমের বদলে বাতাস উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইতে শুরু করে। এজন্য সাধারণভাবে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। তবে সার্বিকভাবে শীত আসবে কার্তিক মাসের শেষের দিকে। এখন হেমন্তকাল বলেই ভোরে সূর্য ওঠার আগে ঘরে গরম, বাইরে ঠান্ডা অনুভূত হবে। কার্তিক মাসের শেষ দিক থেকে মৃদু শীত
পড়তে শুরু করবে। অগ্রাহায়ণের শেষে শীতের
তীব্রতা বাড়বে। তবে শীত আসতে আরো কিছুদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তার প্রস্তুতি। খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য যশোরের বিভিন্ন এলাকার গাছিরা গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা দোকানে তুলতে শুরু করেছেন শীতের কাপড়সহ লেপ-কম্বল। আর পত্রঝরা কোনো কোনো গাছের পাতায় লাগতে শুরু করেছে হলুদের ছোঁয়া। হাট-বাজার গুলোতে উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শালগম, ওলকপি, গাজর, টমেটো। যদিও শহরের যান্ত্রিকতার করাল গ্রাসে গিলে নিয়েছে সেই সকালের খেজুরের রস আর পিঠপুলির উৎসব, তবুও প্রকৃতির আবর্তে এক নতুন সুরব্যাঞ্জনা নিয়ে আবারও চুপিচুপি আসছে শীত। শীতের আগমনী সঙ্কেতে লেপ-তোষকের দোকানদাররা খুশি। ইতোমধ্যে শীত মোকাবেলায় আগাম লেপ-তোষক বানিয়ে মজুদ করে রাখতে শুরু করেছেন দোকানদাররা। কারিগরদের যেন কথা বলার ফুসরত নেই। সবাই সুই-সুতো আর তুলা ধুনা নিয়ে ব্যস্ত।
তারা অনেক দিন কর্মহীন থাকলেও এখন তাদের কদর বেড়েছে। দীর্ঘ রাতের কুয়াশার আবরণ আর সকালের শিশির বিন্দু দেখে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতোই বলতে হয়
‘দুয়ারে আসিছে শীত; বরি লও তারে..’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*