শিশুদেরকে শ্রমের সাথে জড়িত করার আগে মেডিকেল র্সাটফিকেট লাগবে

শিশুদেরকে শ্রমের সাথে জড়িত করার আগে মেডিকেল র্সাটফিকেট লাগবে
-জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ২৮ অক্টোবর (রবিবার) জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকদের বিষয়ে কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, আইনে নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করলে জরিমানা সহ শাস্তি পেতে হবে। ১৪ বছরের উপরে শিশুদেরকে হারকা কাজে যেসব স্থানে নিয়োজিত করা গেলেও লাগবে শিশুর মেডিকেল র্সাটফিকেট। তিনি জেলার ও উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন এক মাসের মধ্যে শিশু শ্রমিকের পরিসংখ্যান দেওয়া এবং নিয়মিত শিশু শ্রমের স্থান পরিদর্শন করা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারি জজ্ হারুন-অর-রশিদ, সিভিল সার্জেন ডাঃ কাসেম আলী, বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক ফেরদৌসি বেগম বিউটি, জেলা এনসিটিএফ সভাপতি ও সামাজিক সংগঠন পথ এর সাধারন সম্পাদক তাহ্ হিয়াতুল হাবীব মৃদুল প্রমুখ। এতে অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট রফিকুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট বার্তা’র সম্পাদক ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু।
সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন প্রতিনিধি, জন প্রতিনিধি, সাংবাদিক বৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ অংশ গ্রহন করেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে বাংলাদেশের মোট শ্রমিকের ১২ শতাংশ শিশু শ্রমিক তা অন্তত ৪৫ লাখ শিশু শ্রমের সাথে জড়িত। দেশের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি রয়েছে মোট ৪৫ ধরনের কাজে এর মধ্যে ৪১ ধরনের ঝুঁকিপূণ কাজেই শিশুরা শ্রম দিচ্ছে। শিশু শ্রমে ৭৩ ভাগ ছেলে এবং ২৭ ভাগ মেয়ে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা (১) এ্যালুমেনিয়াম ও এ্যালমেনিয়ামজাত দ্র্যবাদি তৈরি (২) অটো মোবাইল ওয়ার্কশপ (৩) ব্যাটারি রি-চার্জিং (৪) বিড়ি ও সিগারেট তৈরি (৫) ইট বা পাথর ভাঙ্গা (৬) ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ বা লেদ মেশিন (৭) কাঁচ ও কাঁচের সামগ্রী তৈরি (৮) ম্যাচ তৈরি (৯) প্লাস্টিক বা রাসার সামগ্রি তৈরি (১০) লবণ তৈরি (১১) সাবান বা ডিটারজেন্ট তৈরি (১২) ইস্টিল ফার্নিচার বা গাড়ি বা মেটাল ফার্নিচার রং করা (১৩) চামড়া দ্রব্যাদি তৈরি (১৪) ওয়েললিং বা গ্যাস বার্নার (১৫) কাপড়ের ও ব্লীচ করা (১৬) জাহাজ ভাঙ্গা (১৭) চামড়া জুতা তৈরি (১৮) ভলকা লাইজিং (১৯) মেটাল কারখানা (২০) জিআইসিট বা চুলা পাথর বা চক সামগ্রির কাজ (২১) স্পিরিট ও এলকোহলজাত দ্রব্যাদি প্রক্রিয়াকরণ (২২) জর্দা ও তামাক বা কুইবাম তৈরি (২৩) কিটনাশক তৈরি (২৪) স্টিল বা মেটাল কারখানার কাজ (২৫) আতশবাজী তৈরি (২৬) সোনার দ্রব্যাদি বা ইমিটেশন বা চুরি তৈরির কারখানার কাজ (২৭) ট্যাংক বা টেম্পু বা বাস হেলপার (২৮) স্টেইনলেস স্টিল সামগ্রি তৈরি (২৯) ববিন ফ্যাক্টরিতে কাজ (৩০) তাঁতের কাজ (৩১) ইলেকট্রিক মেশিনের কাজ (৩২) বিস্কুট বা বেকারী কলখানার কাজ (৩৩) সিরামিক কারখানার কাজ (৩৪) নির্মাণ কাজ (৩৫) ক্যামিক্যাল ফ্যাক্টরিতে কাজ (৩৬) কসাই-এর কাজ (৩৭) কামারের কাজ (৩৮) বন্দর এবং জাহাজের হ্যান্ডলিংয়ের কাজ। সামাজিক সংগঠন পথের জরিপ অনুযায়ী আরও তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ রয়েছে। (৩৯) চা বাগান (৪০) কৃষি ও গৃহ কর্মে নিযুক্ত (৪১) রেস্তোরা ও মিষ্টির দোকানের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*