রুহিয়ায় অবাধে চলছে পাখি নিধন

রুহিয়ায় অবাধে চলছে পাখি নিধন

মোঃ দুলাল হক,রুহিয়া থানা প্রতিনিধি :: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া বাজার সহ বিভিন্ন পয়ন্টে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি দেখার যেন কেউ নেই। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বর্ষা মৌসুম শেষে মাছ খাওয়ার লোভে ঝাঁকে ঝাঁকে অত্রঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। খোলা আকাশের নীচে মুক্তডানা মেলে অতিথি পাখিরা ছুটে চলছে বৃহত্তম খাল-বিল জলাশয় নদী নালাগুলোতে। কিন্তু এসব অতিথি পাখির অভয়াশ্রম না থাকায় এক শ্রেণীর অর্থ লোভি পাখি শিকারি বিষটোপ,বড়শি, জালসহ নানা প্রকার ফাঁদ পেতে অমানবিকভাবে র্নিবিচারে শিকার করছে ওই সব অতিথি পাখি। উল্লেখ্য যে, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ তে বলা হয়েছে ‘পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা ছাড়াও কোন পাখি বা পরিযায়ী পাখির ট্রফি বা অসম্পূন্য ট্রফি, মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, এবং উক্ত রূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন। এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন। তাছাড়া অপরাধ সংঘটনের সহায়তা, প্ররোচনা দানকারীরাও ওই দন্ডের আওতাভুক্ত হইবেন। পাখি শিকারিদের কবলে পড়ে প্রতিদিন রুহিয়ায় বিভিন্ন পয়ন্ট থেকে শিকার হচ্ছে সাদা বক,টুনি বক, রাতচড়া, মাছরাঙ্গা, সারস পানকৌরী সহ নানা প্রজাতির পাখি। এসব শিকারযজ্ঞ চলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিবছর বর্ষার শেষ প্রান্তে এসে অসহায় পাখি গুলো শিকারির ফাঁদে ধরাপড়ে চলে আসে রুহিয়া বাজার সহ থানার বিভিন্ন হাট-বাজারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, শিকারিরা তাদের ফাঁদেপড়া পাখিগুলো কে ফেরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করছে। অনেকে আবার চাহিদামতো পাখি বাসাবাড়িতে পৌঁছেদিয়ে লাভবান হচ্ছে আর্থিক ভাবে। প্রতিটি বক ১শ থেকে ১২০ টাকা, বালিহাঁস ৫০০টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং অন্যান্য পাখি প্রতি হালি বিক্রি করছেন ১৪০-১৬০ টাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাখি শিকারি জানায়,সে আটোয়ারী উপজেলার রশেয়া,বামন কুমার,বর্ষালু পাড়া,তোড়েয়া, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, রাজাগাঁও,ঢোলারহাট সহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে খুঁটি গেড়ে কলাপাতা খেজুরের ডাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরিকরা ফাঁদের সামনে একটি বাঁশের মগডালে রাখা শিকারি বক দ্বারা শিকার করা হয় বকপাখি। ফাঁদের উপর দিয়ে বকের ঝাঁক দল বেধে উড়ে যাওয়ার সময় শিকারিরা তাদের শিকারি বকটিকে নাচাতে থাকে। এক পর্যয়ে শিকারি বকটি ডাকাডাকি শুরু করলে উড়ন্ত বকের ঝাঁকটি ফাদের উপর বসে।এ সময় তারা ভেতর থেকে বক গুলোকে ধরেধরে খাঁচায় ভরে।্এ ছাড়া বিশেষ কায়দায় বিষটোপ দিয়েও এসব পাখি শিকার করা হচ্ছে বলে জানায় তারা। তারা আরো জানায়, শুধু যে চাকলা, ডাহুক,পানকৌরি,বালিহাঁস, বকপাখি, শিকারির ফাঁদে আটকা পড়ছে তা নয়। শীতের আগমনে এ অঞ্চলে ঝাঁকেঝাঁকে আশ্রয় নেয়া নানা প্রজাতির পাখি শিকার করছে একশ্রেনীর অর্থলোভী পাখি শিকারি। বছরের পর বছর ধরে এসব পন্থায় পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি হলেও পাখি শিকার রোধে আইনি কোন ব্যাবস্থা প্রয়োগ দেখা যাচ্ছেনা, এ ব্যাপারে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার রায়
সাংবাদিক কে বলেন এদের নিদৃষ্ট অবস্থান জানতে পারলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*