নিরাপদ ও মর্যাদার সহিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে

নিরাপদ ও মর্যাদার সহিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবেক্যাম্পে মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিব
শ.ম.গফুর,উখিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি ;; কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন মিয়ানমারের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মো.শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বুধবার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে সরাসরি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান তারা।এসময় প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শন করেন এবং নির্যাতিত কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুপুরে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে বলেন,শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে রাখাইন অঞ্চলে সকল নিরাপত্তা বাহিনীসহ সাধারণ মানুষকে মোটিভেশন করার কাজ করা হচ্ছে।এসময় তিনি আরো বলেছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সরকারের মধ্যকার গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের চুক্তিমতে শ্রীঘ্রি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি আশ্বস্থ করে বলেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং সম্মানজনক উপায়ে ফেরত নেওয়া হবে।সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মিয়ানমারের নির্যাতিত কয়েকজন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের (ব্লক মাঝি) কথা মনযোগ সহকারে শোনেন।তাদের (রোহিঙ্গা)নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহের কথা জানান। ইতিমধ্যে আট হাজার রোহিঙ্গার নামের তালিকা সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কামাল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় ২৪ হাজার ২৪২ জন রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।যাচাই-বাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এগিয়ে নেবে মিয়ানমার।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে যোগ দিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় পৌঁছেছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠক করেন। এরপর বুধবার সকালে কক্সবাজার বিমান বন্দর হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য কুতুপালং পৌঁছায়।এসময় ক্যাম্পে অবস্থানরত কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বিভিন্ন এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। ।’এর আগে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি সোমবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ঢাকায় পৌঁছেন। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক। বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়টি উঠে আসে। এসময় আগামী নভেম্বরের শুরুতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*