নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার

নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার

শেখ মানিক, শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সভাপতি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, চক্রধা ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার। শিবপুর উপজেলা বিএনপির চরম দু:সময়ে তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার দলের হাল ধরে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে সুসংগঠিত করেছেন এবং দু:সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা, হামলা, বিপদে আপদে সুখে দুংখে পাশে থেকে দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করছেন। মামলার ভয়ে আত্মগোঁপনে না থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন যাবৎ, আর যে সকল নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তাদেরকে সব ধরনের আইনী সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের পরিবার পরিজনের প্রতিও খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি বিগত দীর্ঘ দিন যাবৎ শিবপুর উপজেলা বিএনপিকে সু সংগঠিত করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন, মাদার অব ডেমোক্রেসি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ায় ও প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করছেন। গণসংযোগকালে তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার বলেন, তার দল দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করতেই তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ গণসংযোগ করেছেন। শিবপুর উপজেলাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়তে চান বলে জানান তিনি। গণসংযোগে তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টারের জন্ম ১ লা জানুয়ারী ১৯৪৯খ্রি: শিবপুর উপজেলার কুতুবেরটেক গ্রামে শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ-বি.এড। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে র্দীঘ ২৫ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে ৪ বছর কর্মরত থেকে ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ড:- ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব শাহী বিরোধী সর্বদলীয় জোট মনোনী প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করেন। পরে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপে এ যোগদান করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু। নরসিংদী সরকারী কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ এর সভাপতি ও পরবর্তী সময়ে নারায়নগঞ্জ মহকুমার শাখা মেনন গ্রুপ এর সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে শহীদ আসাদের সাথে হরতাল পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। তোফাজ্জল হোসেন কে মুক্ত করতে গিয়ে সিদ্দিক মাষ্টার, কৃষক নেতা মিয়া চাঁন সহ ৪ জন নেতা কর্মী নিহত হন। শহীদ আসাদ ও আব্দুল হাই গুরুতর আহত হন। ১৯৬৯ এর গনঅভূত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহন করে নেতৃত্বদান করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও সরাসরি মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী বাকশাল বিরোধী সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহন। ১৯৮০ সালে নারায়নগঞ্জ মহাকুমার গ্রাম সরকারের প্রধান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সাল হইতে পর পর দুই বার চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে উপজেলায় ব্যাপক সুনাম আর্জন করেন তিনি । ১৯৯০ সালে নরসিংদী জেলা কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করি। ১৯৯১ সালে নরসিংদী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত জেলার ৫ টি নির্বাচনী আসনে নির্বাচনী পরিচালনা করেন। তিনি ১৯৯১ , ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূইয়ার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে নরসিংদী ৩ শিবপুর দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে জেলা বিএনপিকে সু-সংগঠিত করে রেখেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সামসুদ্দিন আহম্মেদ এছাক এর মৃত্যুর পর একক ভাবে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে শিবপুর পৌর সভার প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর প্রশাসকের অল্প কিছুদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২০১১ সালে নরসিংদী জেলা বিএনপির কাউন্সিলাদের ভোটে মাধ্যমে পুনরায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শিবপুরে দলকে সু-সংগঠিত করার জন্য সংস্কারপন্থী হিসেবে যারা বিএনপি থেকে দূরে ছিলেন সে সকল নেতাকর্মীদেরকে মূল দলে যোগদান করতে সক্ষম তিনি। বর্তমানে হাতে গুনা গুটি কয়েক জন ব্যতিত সকলেই বিএনপির পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ আছেন। শিবপুর উপজেলা বিএনপি আগের চেয়ে এখন সু-সংগঠিত ও শক্তিশালী। শিবপুর আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার জানান উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিবপুর আসন থেকে প্রার্থী মনোনীত করলে বিএনপি প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*