সম্পত্তি বিরোধের জেরে পালক কন্যা খুন: সংকটাপন্ন এক নারী:আটক -১ মহিলা

সম্পত্তি বিরোধের জেরে পালক কন্যা খুন: সংকটাপন্ন এক নারী:আটক -১ মহিলা
উখিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি :: 
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই পালিত মেয়ে আছমা বেগম (১৫) খুন হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নিহত কিশোরী আছমা বেগমের পালক বাবা সৈয়দ আলমের সঙ্গে সৎ ভাই শামসুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত এক সপ্তাহ আগেও জমি নিয়ে বিরোধে সৈয়দের স্ত্রী হাসিনার কথা কাটাকাটি হয় সৎ ভাই শামসুল ইসলামের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের সঙ্গে। ওই ঘটনার জের ধরে ক্ষোভে এই হত্যাকাণ্ড হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাই সৎ ভাই শামসুল ইসলামের স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শুভ্রত রায় জানান, সৈয়দ আলমের সৎ ভাইয়ের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের কথায় সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশ এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, নিহত কিশোরী আছমা বেগমের আসল বাবা রোহিঙ্গা মো. শরীফ। সংসারে অভাবের কারণে মেয়ে আছমা বেগমকে তার বিশ্বস্ত বন্ধু সৈয়দ আলমের কাছে রেখে দেন। বর্তমানে শরীফ স্ব-পরিবারে বসবাস করছেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এস-২ ব্লকে। নিহত আছমাকে গত ১০-১২ বছর ধরে লালন-পালন করে আসছে হাসিনা ও সৈয়দ আলম দম্পতি। মাঝের এ সময়ে সৈয়দ আলম ও তার ভাই শামসুল ইসলাম সৌদি আরব পাড়ি জমান। সেই থেকে স্ত্রী হাসিনা বেগম ও পালক মেয়ে আছমা হোয়াইক্যংয়ের কেরুনতলীর চাকমারকুল এলাকার পৈত্রিক জমিতে তার সৎ ভাই শামসুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে আসছে।নিহত আছমার বাবা রোহিঙ্গা মো.শরীফ  অভিযোগ করে জানান, একই ঘরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে বসবাস করছিল সৈয়দ ও শামসুলের পরিবার। কিন্তু একই ঘরে দুইজন মানুষকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অথচ কেউ কিছুই জানে না। ডাকাতরা হামলা চালিয়েছে বলে এ হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে হোয়াইক্যংয়ের কেরুনতলী এলাকায় মা-মেয়েকে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মেয়ে আছমা বেগম (১৫) মারা গেলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা হাসিনা বেগমকে প্রথমে কুতুপালং রেডক্রিসেন্ট ফিল্ড হসপিটাল ও পরে উখিয়ার মালয়েশিয়া ফিল্ড হসপিটালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*