কলা চাষে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে পতœীতলার চাষীদের

কলা চাষে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে পতœীতলার চাষীদের
মাসুদ রানা, পতœীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : “ কলা রুয়ে না কেট পাত, তাতেই কাপড় , তাতেই ভাত ” শত শত বছর আগের খনার বচন এখন প্রতিফলিত হচ্ছে পতœীতলার কলা চাষীদের মাঝে। কলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বর্পূন ফল যা সারা বছর পাওয়া যায় ,কলাকে প্রচীন সাহিত্যে কদলি বলা হতো , কলা কলাগাছ ,কলাপাতা ,শিকড় ,মোচা ,থোর সবই উপকারী ।এদেও আছে ভেষজ ও ঔষধি গুন ।
আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় নওগাঁর পতœীতলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলা চাষ। উপজেলার অর্থকারী ফসল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে কলা। আর এ কলা চাষে ভাগ্য বদল হচ্ছে চাষীদের।উপজেলার চাহিদা মেটানোর পর এসব কলা চলে যাচ্ছে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ।

যেখানে অন্যান্য ফসল করে লাভবান হতে পারছে না স্থানীয় চাষীরা, সেখানে কলা চাষ সফলতার হাসি এনেছে এ উপজেলার চাষীদের মুখে। ফলে দিন দিন বাড়ছে কলা বাগানের সংখ্যা। সম্পৃক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন চাষীরা। একরের পর একর কলা বাগান করে বছর শেষে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে পারায় স্থানীয় অনেক যুবকেরা পেশাও বদলাচ্ছেন। অন্য পেশা ছেড়ে আসছেন কলা চাষে। গত বছর কলার দামে খুশি না হলেও এবার কলার দামে চাষী ও ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার আমাইড় উইনিয়নের নান্দাশ গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তৃত জমিতে কলার বাগান। পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানের মালিক-কর্মচারীরা। চাষযোগ্য জমির পাশাপাশি পতিত জমিতে করা হয়েছে অসংখ্য বাগান। আর কলা চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষীরা। ফলে অন্যের জমি বর্গা নিয়েও অনেকে কলা বাগান করছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশের পতিত জমিতেও বাগান করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয় কলা চাষে। ফলে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলা চাষ হচ্ছে। জানা যায় এই গ্রামের কৃষকেরা প্রায় ৫০ বিঘা কলা চাষ করেছেন এবং তারা লাভবান হচ্ছে ।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উপজেলায় মানিক, চিনিচাম্পা, চাঁপা, সাগরসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করা হয়েছে। এসব জাতের কলাগাছ থেকে অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়। কৃষকরা জানান, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলার দামও বেশি। সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সেসব জমিতে কলা চাষ ভাল হয়। এক বিঘা জমিতে জাত ভেদে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে।যতœ সহকারে কলা চাষ করলে ফলন ভাল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। তাছাড়া কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়।
উপজেলার নান্দাশ গ্রামের কৃষক গকুল চন্দ্র বর্মন জানান সে ৪ বিঘা জমিতে এবার কলা চাষ করেছেন, চাম্পা ও সাগর জাতের কলা, কলা চাষে লাভের পাল্লাই ভারি থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ কলাগাছ লাগানো যায়। গাছ লাগানো থেকে শুরু করে ১১ মাসের মধ্যে কলা কর্তন করা যায়। এর মধ্যে কলা পাওয়া যায় ৩০০-৩২০টি গাছে। নানা কারণে বাকি গাছগুলো জমিতে টিকে থাকে না। বর্তমানে এক কাধি কলা উৎপাদন করতে আমাদের প্রায় ১০০-১২০ টাকা খরচ হয়।

একই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ৫ বিঘা জমিতে চম্পা ও সাগর কলা চাষ করেছেন কলার প্রকার ভেদে ২২-২৫ হাজার টাকা দরে প্রতি ১শ’ কলার কাধি বিক্রি হচ্ছে। কলার কাধি আগাম পাইকারদের কাছে বিক্রিও করা যায়। এটি কৃষকদের বাড়তি সুবিধা।
একই গ্রামের কৃষক অরবিন্দু ৪ বিঘা এবং বিদেশ চন্দ্র বর্মন ১৫ কাঠা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছেন, তারা জানান, গড়ে এক বিঘা জমিতে ৭০-৭৫ হাজার টাকার কলা বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে লাভ থাকে বিঘা প্রতি ৩৫ হাজার টাকার উপরে। ফলন দেখে মনে হচ্ছে সব খরচ বাদে কলা বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা আয় আসবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাগানের ক্ষতি হলে এর পরিমাণ কিছুটা কমবেশী হতে পারে। উপজেলার পাটিচরা ,নজিপুর পলিপারা ,মাহমুদপুরও ব্যপক কলা চাষ হয়েছে ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান, উপজেলায় দিন দিন কলা চাষে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা কলা চাষ করছেন। কলা চাষে কৃষি কর্মকর্তারা চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*