সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারণায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এটি এম পেয়ারুল ইসলাম

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারণায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এটি এম পেয়ারুল ইসলাম

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,ফটিকছড়ি : আলহাজ্ব এটি এম পেয়ারুল ইসলাম, ফটিকছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশী তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বিভিন্নভাবে প্রচারণায় করে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারনা করে লিফলেট,ফেস্টুন, ব্যানার বিতরন,উঠান বৈঠক, পথসভা, তৃণমূল কর্মী ও জনগনের সাথে মত বিনিময় এবং জনসভা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁর সাথে কথা হলে উঠে আসে ব্যাক্তি,রাজনৈতিক জীবনের অনেক কিছু। তুলে ধরেন বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নানা দিক এবং ফটিকছড়ির উন্নয়ন চিত্র।
আলহাজ্ব এটিএম পেয়ারুল ইসলাম উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইতনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা মরহুম আবুল ফজল ১৯৩০ সালে বিএ পাশ ও মাতা মরহুমা আমেনা বেগম। দাদা মরহুম তোফায়েল আহমদ চৌধুরী ছিলেন বৃটিশ আমলের আইনজীবি, সমাজ সেবক ও শিক্ষাবিদ। এটিএম পেয়ারুল ইসলামের সহধর্মিণী জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা অর্থনীতিতে এমএ পাশ। শশুর কর্ণেল (অবঃ) আবু তাহের সালাহউদ্দীন (বীর প্রতীক)। ব্যক্তিগতজীবনে দুই সন্তানের জনক।
স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি। বঙ্গবন্ধুর মহান দেশপ্রেমের আদর্শ পথ চলার প্রেরণা করে রাজনীতিই ধ্যান-জ্ঞানে হয়ে উঠেন পুরোদমে একজন রাজনীতিবিদ।
আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত সৈনিক ও দুঃসময়ের কান্ডারী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম উঠে এসেছেন নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জেল-জুলুমসহ নানা অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। কিশোর কাল থেকে রাজনীতি সচেতন এ পেয়ারুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে মাইজভান্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জি.এস, ১৯৭৮-৭৯ সাল পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৯-৮০ সালে নাজিরহাট কলেজ ছাত্র সংসদের ভি.পি নির্বাচিত হন। ১৯৮০-৮২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৬-৮৮ সালে বাংলাদেশ ল’স্টুডেন্ট ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ১৯৮৭-৯০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ১৯৯৩-৯৬ তে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪-৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি অসংখ্য সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন এবং আছেন্ ২০০৫-০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং ২০০৬-০৭ চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি লায়ন্স ক্লাব চিটাগাং এর সদস্য পদে আসীন। বিশেষ করে, মৎস্য উৎপাদনে কৃতিত্ব পূর্ণ অবদান রাখায় ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় মৎস্য পুরস্কার গ্রহণ করেন।
১৯৯০ সালে তারুণ্য শক্তি কাজে লাগিয়ে বিপুল ভোটে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। তিনি ঐ নির্বাচনে প্রায় ১ লক্ষ ভোট পেয়েও যুদ্ধাপরাধীর দায়ে মুত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। তবে তার অনুসারীদের অভিযোগ কিছু দলীয় স্বার্থান্বেষী নেতৃবৃন্দের কারণেই তিনি পরাজিত হন ।
উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে নানা চেষ্টা-তদবির করে নিজ এলাকা ফটিকছড়িতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন তিনি। যা এখনো অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও তদবিরে বিগত ৯বছরে বর্তমান সরকারের আমলে ফটিকছড়িতে যেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান, তার মধ্যে- ভূজপুর রাবার ড্যাম, ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নাজিরহাট-কাজিরহাট-গাড়িটানা সড়ক, ফটিকছড়ি পৌরসভা ও নাজিরহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠা, ফটিকছড়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ভূজপুরের সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ভূজপুর থানা ভবন, মির্জারহাট সেতু, বেড়াজালী-কাঞ্চননগর সংযোগ সেতু, রাঙ্গাপানি চা বাগান সেতু, নাজিরহাট নতুন হালদা সেতুসহ ৪২টি সেতু-কালভার্ট সংস্কার, সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৪৮ কি:মি: পাকা রাস্তা নির্মাণ, হারুয়ালছড়ি রাবার ড্যাম, পাঁচ শতাধিক শিক্ষিত যুবকের চাকুরির ব্যবস্থা করণ, ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নাজিরহাট-মাইজভান্ডার চারলেন সড়ক, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জারহাট-ভূজপুর সড়ক, ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিরহাট-যোগিরহাট সড়ক এবং গহিরা-বিবিরহাট-হেয়াঁকো সড়ক উল্লেখযোগ্য এছাড়া তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে হালদা-ধুরুং খালের সংস্কার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৫৭ কোটি টাকা, হাটহাজারী- নাজিরহাট-বিবিরহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক চার লেইনের জন্য ৪’শ কোটি টাকা, পাইন্দং-ভূজুপুর-হেয়াঁকো সড়ক ডাবল লেইনের জন্য ২’শ ৪৬ কোটি টাকা এবং হারুয়লছড়ি-সীতাকুন্ড (ঢাকা-চট্টগ্রাম সংযোগ সড়ক) এর জন্য ১’শ ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক সংস্থা একনেকে পাশ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় জননেতা পেয়ারুল ইসলামের প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা হওয়ার পর যখন আওয়ামীলীগের দুঃসময় চলছিল তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শাখা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করেছিলেন, সেই সময়ের অকুতোভয় ছাত্রনেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। তিনি জাতীয়
প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল (অবঃ) রশীদের প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠানে বাঁধা প্রদান এবং ঢাকায় খুনি মোস্তকের বাড়িতে আক্রমনের নেতৃত্বেও ছিলেন তৎকালীন এ ছাত্রনেতা। ৯০ এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তিনি। অসম্ভব সাহসী সাবেক এই ছাত্রনেতা ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম লালদিঘী মাঠে গণহত্যার সময় সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন তিনি। অসম্ভব সাহসীকতা এবং প্রতিবাদী হওয়ার কারণে ১৯৮২ সালে কারাবরণ করতে হয় তাঁকে। বারবার জেল-জুলুম, অত্যাচার, হামল-মামলা ও হত্যা প্রচেষ্টা কোনো কিছুই তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে একচুল পরিমাণও বিচ্যুত করতে পারেনি। এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও ফটিকছড়ি গণমানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৯১ সালে ১ লক্ষ ৭ সাত হাজার ৭’শ ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। মনে প্রাণে দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে দলীয় প্রার্থী নুরুল আলম চৌধুরী, ১৯৯১ সালে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রয়াত রফিকুল আনোয়ার এবং সর্বশেষ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে জয়লাভ করাতে তিনি মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর চেষ্টায়, গণসংযোগ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সহযোগীতায় সফল হন তিনি। ৪৬ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রায় সকল সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মানুষের মন জয় করেন।
এছাড়া, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যেগে এবং তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিরোধী মিছিলে সুপরিকল্পিত ভাবে হামলা করে জামাত-শিবির ও তাদের দোসররা। এতে নিহত হন তিন আওয়ামীলীগের তিন কর্মী এবং আহত হন ৩ শতাধিক নেতাকর্মী। পাশাপাশি মিছিলে যোগ দেয়া ৫ শতাধিক বিভিন্ন ধরণের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় জামাত- শিবিরের সন্ত্রাসীরা। পরে হতাহত সকলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে কিছুটা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেন কর্মী বান্ধব নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শক্ত ভিত গড়ে উঠেছে এক সময়ের জামাত-শিবিরের খ্যাত ফটিকছড়ি উপজেলার সর্বত্র। আসন্ন এ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে ফটিকছড়িকে বিসিক শিল্প নগরী ঘোষনা, একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ফটিকছড়ির উপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিকল্প মহাসড়ক, ভারত সীমান্ত পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ, ফটিকছড়ি সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠা এবং ভূজপুর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*