দুই যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা

শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্বিষহ জীবন যাপন
দুই যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা
নিয়ামুর রশিদ শিহাব, গলাচিপা(পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: দীর্ঘ দুই যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ‘রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা’। বেতন না পেয়ে উপজেলার একমাত্র এ মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বঞ্চিত হচ্ছে অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে। তবুও থেমে নেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকেরা আর্থিক সংকটে থাকলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অবহেলা করছেন না। প্রতিনিয়ত চলছে পাঠদান। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফলাফল করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, স্থানীয় মেয়েদের শিক্ষিত করতে ১৯৯৩ সালে প্রায় দুই একর জমি নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জমিদাতা মোসা.হামিদা বেগমের নামে মাদ্রাসার নমকরণ করা হয় ‘রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা মাদ্রাসা’। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম ১২জন ছাত্রী প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। ২০০৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় ২২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করলে ১৭ জন কৃতকার্য হয়। ২০০৬ সালে ২৪জনের ২০জন কৃতকার্য হয়। ২০১১ সালে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশ ও দুই জন ছাত্রী জিপিএ ফাইভ পায়। তাতে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় ৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। তাতে শত ভাগ পাশ ও একজন জিপিএ ফাইভ পেয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। সকল দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘ দুই যুগে এমপিওভুক্ত হয়নি। যার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারে হতাশা দিনদিন বাড়ছে। প্রতিনিয়ত দুঃখ হতাশা আর কষ্টের মধ্যে থেকেও শিক্ষার্থীদের পাঠ দানে কোন অবহেলা করছেননা শিক্ষকেরা। প্রতিবছরের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলেও শিক্ষকদের ভাগ্যে জুটছেনা বেতনের টাকা।
মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর ধরে শিক্ষকেরা বেতন ভাতা না পেলেও ভালো ফল করে আসছে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এমপিওভুক্ত হয়নি এখনও। নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা আন্দোলন করলে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি সরকার।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.মোকলেছুর রহমান জানান, পড়ালেখা ও ফলফলের দিক থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলার অন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটির শিক্ষকদের বেতন ভাতা না থাকায় তা অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*