ফটিকছড়িতে ধানের শীষে এগিয়ে সাবেক পিজিঅার প্রধান কর্নেল বাহার

ফটিকছড়িতে ধানের শীষে এগিয়ে সাবেক পিজিঅার প্রধান কর্নেল বাহার

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : ফটিকছড়িতে (চট্টগ্রাম–২) ২০দলীয় জোটের প্রার্থী হতে চাচ্ছেন বিএনপি নেতা, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সাবেক প্রধান কর্নেল (অব) অাজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন।

এদিকে কর্নেল বাহারের মনোনয়ন পত্র নেয়ায় ফটিকছড়িতে ২০ দলীয় জোটে চলছে নতুন হিসাব নিকাশ। অনেকে বলছেন বহুবিভক্ত ফটিকছড়ি বিএনপির জন্য কর্নেল বাহারকে বাছাই করবেন দলের হাইকমান্ড। কারণ ক্লীন ইমেজের কর্নেল বাহারের অাছে সবার কাছে সমান গ্রহনযোগ্যতা।

ফটিকছড়ির রাজনীতিতে অালোচিত নাম কর্নেল বাহার। ২০১০ সালে সেনাবাহিনী থেকে বিদায় নিয়েই তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর থেকেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও ফটিকছড়ি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন অাহবায়কের দায়িত্বপালন করছেন।তৃণমূলে অনেক অাগে থেকেই সক্রিয় অাছেন সাবেক এই চৌকষ সেনাকর্মকর্তা। তাছাড়া দলের হাইকমান্ডেও অাছে তাঁর ঘনিষ্ট যোগাযোগ।

ফটিকছড়ির প্রখ্যাত জমিদার গণি মিয়া চৌধুরীর নাতি কর্ণেল(অব:) অাজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী। তার পিতা মরহুম অাবুল কাসেম চৌধুরী ও মাতা লায়লা বেগম। নাজিরহাট পৌরসভার ইমামনগর গ্রামের চানগাজী সিকদার বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করা এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান।

৫ভাই, ২বোনের মধ্যে কর্নেল বাহার দ্বিতীয়। তার ভাই বোনেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালামত উল্লাহ চৌধুরী তার ছোট ভাই।

দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক কর্নেল বাহার। মেয়ে শাহরিয়া বাহার ব্যারিষ্টারী পাশ করেছেন। বড় ছেলে রুবাব বাহার লন্ডনে অান্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করছেন। অার ছোট ছেলে চিটাগাং গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করছেন।

কর্নেল বাহার নানুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, নাজিরহাট কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যামিক ও নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর অধ্যয়ন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি সামরিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় অাজিমুল্লাহ বাহার ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীর হয়ে তিনি দেশ বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

কর্নেল বাহার উগন্ডা ও রুয়ান্ডায় জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফঅাই এর পরিচালক, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সামরিক উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রধানের গুরদায়িত্ব পালন শেষে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করেন।

সেনাবাহিনী থেকে বিদায় নিয়েই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপিতে অাসার পর থেকে তিনি দলের জন্য সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারীর একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কর্নেল বাহারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি বিএনপি অান্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*