বঙ্গবন্ধু কন্যা উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন

একান্ত আলাপকালে জাইকা বাংলাদেশ এর প্রাক্তন কনসালটেন্ট শামসুল হক চৌধুরী
বঙ্গবন্ধু কন্যা উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের বড়ঠাকুর পাড়ার সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান শামসুল হক চৌধুরী। জাইকা বাংলাদেশ এর প্রাক্তন কনসালটেন্ট তিনি। সমাজ দরদী, গবেষক, লেখক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা শামসুল হক চৌধুরীর সাথে সম্প্রতি তার চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাস্থ বাসায় একান্ত আলাপকালে সিটিজি পোস্ট ডটকম ও মাসিক মৌচাকের সাথে কথা হয়। আলাপচারিতার অংশবিশেষ পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সিটিজি পোস্ট ডটকম এর স্টাফ রিপোর্টার মোঃ কুতুব উদ্দিন রাজু।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : আমরা চাই জনগণ যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সমাজ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সকলে যেন কাজ করে যেতে পারে। আমি ধন্যবাদ জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে, যিনি উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশকে। আমি মনে করি, সামনেও যেই দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসুক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : অনেকের ধারণা ছিল বিএনপি নির্বাচনে আসবে না কিন্তু বিভিন্ন কারণে এবার বিএনপি নির্বাচনে চলে আসলো। এটা নিয়ে কি ভাবছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : আমি প্রথমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সবাই মিলে চাই সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সব জায়গায় যদি শক্ত পজিশন বিরোধীদল না থাকে এবং আমি মনে করি এক জায়গায় কাজ করছি। তাতে ভুল হতে পারে। বিরোধী দল থাকলে এইটা আমার জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবি দিয়েছেন এর মধ্যে একটা দাবি হচ্ছে সেনাবাহিনী মোতায়েন কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনো সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে কিছু জানায়নি। এটা নিয়ে কিছু বলবেন?
শামসুল হক চৌধুরী : আমাদের দেশের নিয়ম শৃংঙ্খলা, শিক্ষা-দীক্ষায় যদি আমরা সঠিক সচেতন ও সজাগ থাকি, তাহলে সেনাবাহিনীর দরকার হয় না। বাইরের দেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আইডি কার্ড প্রদর্শন করলে সুন্দর ও সুংশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যে ভোট দিয়ে চলে আসা যায়। আমাদের দেশেও যদি শৃংঙ্খলা থাকে সেই শৃংঙ্খলার মধ্যে ভোট দিতে তো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : আপনি চট্টগ্রামের একজন বিশিষ্ট নাগরিক। বিগত দশ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রামে কি উন্নয়ন হয়েছে মনে করেন?
শামসুল হক চৌধুরী : চট্টগ্রামের সমস্যা তো অনেক বেশি। তবে উড়াল সেতুসহ চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, যা দৃশ্যমান। সিডিএ অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এর মাঝখানে রাস্তাঘাট এখনো সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চেষ্টা করছে রাস্তাঘাটগুলো চলাচল উপযোগী করার জন্য। আমি বলব, চট্টগ্রাম আগের চেয়ে এখন অনেক উন্নত। যেমন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাদীক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এখানে আমি বলব, চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে আমি মনে করি।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। এটা আপনি কিভাবে দেখছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : গত দশ বছরে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বিগত ৪০ বছরের চেয়েও সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে এ সরকারের আমলে। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে এখন হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে। তাই, আমিও বলতে পারি, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী যে কথাটি বলেছেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ তা শতভাগ সত্য।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : সামনে একাদশ সংসদ নির্বাচন। তরুণ ভোটারদের নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : আমরা প্রবীণ, তাই তরুণ ভোটারদেরকে এ নির্বাচনে স্বাগত জানাই। তরুণরা আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। তাদেরকে এখন ভাবতে হবে আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : আমাদের চট্টগ্রামে বিএনপি আমলে আটজন মন্ত্রী ছিল, তখন তারা তেমন কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেন নি। এখন আওয়ামী লীগের তিনজন মন্ত্রী। এ দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা কিভাবে দেখছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : মানুষ দেশকে ভালোবেসে থাকলে এখানে আটজন মন্ত্রী বা তিনজন মন্ত্রী বড় কথা নয়। কাজ করলে একজন মন্ত্রীও করতে পারে। কিন্তু কাজ করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। এই সরকারের আমলে চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এই চট্টগ্রামের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সবাইকে একযোগে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : আপনি দেশের বাইরে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে যান। আমাদের দেশে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র আছে যেমন- কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান। এসব পর্যটন স্পট ঘিরে আয়ের উৎস আছে। আপনি ভ্রমণ পিপাসু হিসাবে কিভাবে দেখছেন?
শামসুল হক চৌধুরী : আমি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেখেছি। তার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রও দেখেছি। বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো যদি সরকারিভাবে একটু নজর দেওয়া যেত এবং আধুনিকায়ন করা হত তাহলে পর্যটন খাতে সরকারের আয়ের উৎস আরও বাড়ত। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানের মধ্যে অনেক পাহাড়ি এলাকা রয়েছে যেখানে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়।
সিটিজি পোস্ট ডটকম : মাসিক মৌচাক ও সিটিজি পোস্ট ডটকমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
শামসুল হক চৌধুরী : আপনার মাধ্যমে মাসিক মৌচাক ও সিটিজি পোস্ট ডটকমের সকল পাঠক ও সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। সবাই সুস্থ ও ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*