বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়ন একমাত্র বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার অবদান

একান্ত সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো: জাহাঙ্গীর আলম
বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়ন একমাত্র বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার অবদান

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। নগরীর কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তিনি। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে লেখাপড়া করার সময়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতি, সমাজসেবা ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে তারুণ্যের উজ্জ্বল মুখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
তার রাজনৈতিক আদর্শ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন তিনবারের নির্বাচিত সফল মেয়র ও চট্টগ্রম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি চট্টলবীর প্রয়াত আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। নানা আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ তৃণমুলের নেতাদের কাছে নজরে আসে সাহসী তারুণ্য নির্ভর রাজনীতিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
পরিবারের এবং পিতা হাজী মোঃ নুরুল হক সওদাগরের আন্তরিক সহযোগিতায় ও সংস্পর্শে থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হয়ে উঠেন তারুণ্যের আস্থার প্রতীক। তরুণ নেতৃত্বের অধিকারী সাহসী রাজনীতিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তার সাথে একান্ত আলাপচারিতা হয় সিটিজি পোস্ট ডটকম ও মাসিক মৌচাক পরিবারের সাথে।
নির্বাচন, রাজনীতি ও নানান বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সিটিজি পোস্ট ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার রাজীব চক্রবর্তী। এসময় সাথে ছিলেন সম্পাদক স ম জিয়াাউর রহমান, পরিচালক মিলন বারিকদার, স্টাফ রিপোর্টার কুতুব উদ্দিন রাজু, মোঃ সেলিম উদ্দিন ও কোতোয়ালী থানা প্রতিনিধি মোঃ আনিসুর রহমান ফরহাদ। আলাপচারিতার অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন ও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি মাসিক মৌচাক ও সিটিজি পোস্ট ডটকমকে বলেন, জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়ন এবং জাতির ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করাই আমার মূল ল্য উদ্দেশ্য। বর্তমানে আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতা গুলো মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, বিগত সরকার আমলে তেমন কোন ধরনের উন্নয়ন চোখে পড়েনি।
বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়ন তা একমাত্র বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। এ অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আজ বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করে যে জীবন যাপনের শিক্ষা তিনি বাঙালিকে দিয়েছেন, বাংলার প্রতিটি ঘরে শেখ হাসিনার মতো নারী জন্ম হোক। উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা বর্তমানে চলমান, সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আবারও সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। কোন অপশক্তি দিয়ে বাংলাদেশের চলমান এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ঠেকানো যাবে না।
২১শে আগস্টে গ্রেনেড হামলার রায় প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে শতভাগ সন্তুষ্ট নই। কারণ, যার নির্দেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, তার মৃত্যুদন্ড বা ফাঁসি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর বলেন, সংবিধান সম্মতভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কারো কোন বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। সংবিধান সম্মতভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র চলমান। আমি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে মনে করি, নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এ কমিশনের নেতৃত্বে আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকল দলকে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।
ঐক্য ফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন সংবিধান রচয়িতা। তিনি নিজেই আবার সংবিধান মানছেন না। অতএব, কে কি মানল, না মানলো সেটা আলোচনার বিষয় নয়। শেখ হাসিনার অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। আমার পিতা হ্জাী মো: নুরুল হক সওদাগর দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। আমিও দীর্ঘ নয় বছর ধরে কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের প্রাণের দাবি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে দলের সবাইকে কাজ করতে হবে।
বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এ বিষয়ে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই তার পক্ষে কাজ করবো। তবে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দরকার।
তরুণ নেতৃত্বের ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নেত্রীর প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা আছে। তিনি যা ভালো মনে করবেন বা যে সিদ্ধান্ত দিবেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করব। দল যখন করি অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। আশা করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরপর তিনবার ক্ষমতায় যাওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব পালন করব বলে আশা করছি। সর্বশেষ তিনি সকলকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*