শেখ হাসিনার হাতকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় তার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি

একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেখা আলম চৌধুরী
শেখ হাসিনার হাতকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় তার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি

রেখা আলম চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্যানেল মেয়র। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ই-াষ্ট্রিজ এর উদ্যোক্তা পরিচালকও। তার সাথে একান্ত আলাপচারিতা হয় সিটিজি পোস্ট ডটকম ও মাসিক মৌচাক পরিবারের সাথে। এ সময় সম্পাদক স.ম জিয়াউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার রাজীব চক্রবর্তী ও কোতোয়ালী থানা প্রতিনিধি মো. আনিসুর রহমান ফরহাদ এর সাথে আলাপ হয় সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে। আলাপচারিতার চুম্বক অংশটুকু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
আপনি একজন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কিছু বলুন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি মৌচাক ও সিটিজি পোস্ট ডটকমকে বলেন, চেষ্টা করেছি মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য, এলাকার জনগণকে ভালো কিছু দেওয়ার এবং করার। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা কাজ করছে, দেশটাকে ভালোবেসে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করছে, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন সে সোনার বাংলাদেশকে যেন আমরা আরো উন্নত করতে পারি বিশ্বের উন্নত শীর্ষে যেন নিয়ে যেতে পারি তার লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় তার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি, সামনে নির্বাচন, কিছু অপশক্তি আছে, অপরাধী আছে, বৈদেশিক ষড়যন্ত্রসহ এদেশে ঘাপটি মেরে থাকা আগে যারা পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল, এখনো বাংলাদেশকে সম্মান করে না, জাতির পিতাকে সম্মান করে না তারা এখনও প্রধানমন্ত্রীর সর্বনাশ করতে চায়, তারা উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ধূলিসাৎ করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেই ষড়যন্ত্র কে উৎখাত করে আবারও আওয়ামী লীগ সরকারকে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় এনে উন্নয়নের অভিযাত্রা রক্ষা করতে হবে। আমাদের সবাইকে সুন্দর বাংলাদেশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ করার চেষ্টায় কাজ করতে হবে।
সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবারের নির্বাচনকে আপনি কিভাবে দেখছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি মৌচাক ও সিটিজি পোস্ট ডটকমকে বলেন, সুস্থ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটাই আশা রাখি। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, আমি এই বাণীতে বিশ্বাসী। বর্তমান সরকার দেশে কি পরিমাণ উন্নয়ন করেছে তা একমাত্র জনগণই ভালো জানে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে বাংলাদেশের জনগণ আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবে এটাই বিশ্বাস করি।
আপনার দীর্ঘ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের পরিবার, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তার কোন সার্টিফিকেট নেই, আমার বাবা এখনো বলেন, আমি সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি, উনাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাকহানাদার বাহিনী, তার বাহিনীরা মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল ভাগ্যক্রমে আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। খুব অত্যাচার চালিয়েছিলেন তার ওপর, তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল তারা। আমাদের রক্তের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা নাই এদিক দিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। পাশাপাশি আমার শ্বশুর পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রেরণায় উজ্জীবিত আগে থেকেই। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এটাই আমার গৌরবের পরিচয়। আমি সেই আওয়ামী লীগের পরিবেশটা পেয়েছি আমার পরিবারে। আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি তখন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হই। নীরবে-নিভৃতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিজেকে সক্রিয় রেখেছিলাম। জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে কাজ করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী যারা কাজ করতো তাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করা। একেবারে কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতি করে এসেছি। আর এই জন্য আমি অনেক হেনস্থা ও বিড়ম্বনার শিকার হয়েছি। পরবর্তীতে আমি চিন্তা করলাম দেশের জন্য ভালো কিছু করার, দেশের মানুষকে ভালো কিছু দেওয়ার। এই চিন্তা চেতনা থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর নির্বাচন করি। আমি আমার যোগ্যতায় এলাকার মানুষের ভালবাসায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলর হই।
রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার থেকে কোন বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার পরিবার আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে, আমি আমার পরিবারকে সময় দিতে না পারলেও তারা সেটাকে আন্তরিকভাবে মেনে নিয়েছেন। এমনকি আমার পরিবার আমাকে বলতো এটা তোমার দায়িত্ব কর্তব্য। আমার ছেলে মেয়েও আমাকে আমার কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়েছে, সাহস যুগিয়েছে। রাজনীতি করতে গেলে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়, সে দিক থেকে আমার স্বামী আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। রাজনীতি করতে গেলে অনেক টাকা পয়সার প্রয়োজন হয় কিন্তু আমার কোনো আয়ের উৎস ছিল না। আমার স্বামী শুরু থেকেই আমাকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করেছে এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছে। রাজনীতি করতে গিয়ে আমার পরিবারও অনেক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে কিন্তু কোন ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারকে টলাতে পারেনি। আল্লাহর উপর আমাদের বিশ্বাস ছিল, আস্থা ছিল। ভালো কাজ করেছি মানুষের দোয়া আছে, সেই জায়গা থেকে কেউ আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
মানুষ সামাজিক জীব, সেই দিক থেকে আপনি একজন কাউন্সিলর হিসেবে সমাজে কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজে অধ্যাপনা করছি, আমার আরও চারটা স্কুল আছে, আপনারা জানেন, সমাজের দুস্থ হতদরিদ্র শিশুগুলো টাকা পয়সার অভাবে পড়ালেখা করতে পারে না, তাই তাদেরকে বিনামূল্যে পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছি। সবকিছু মিলিয়ে মানুষের সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অনেক মহিলাকে বিনামূল্যে কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
আপনি নিজেকে কতটুকু সফল বলে মনে করেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি নিজেকে সফল বলে মনে করি না। আমি তো মানুষের সেবা করার জন্য কাজ করে যাব। জনগণই নির্ধারণ করবে আমি সফল কি না। আমি কাজ করে যেতে পারলেই ওটাই আমার সফলতা হবে। আর একটা ব্যাপার, ভুল তথ্য দিয়ে যেন মানুষকে হয়রানি করা না হয়। তথ্য নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো যেন হলুদ সাংবাদিকতায় না আসে, আমি কিন্তু অনেকবার হয়রানির শিকার হয়েছি, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে, কারো যেন সম্মানহানি না হয়, দয়া করে আপনারা সেই চেষ্টা করবেন। আপনাদের পাশে আছি।
আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কি, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বছর রাজনীতি করেছি, এখন ইচ্ছা আছে একটু উপরে যাওয়ার। আমি এবার এমপি ইলেকশন করতে চাচ্ছি, জনগণের খুব কাছে যাওয়ার ইচ্ছা। জনগণের জন্য যেন ভাল কিছু করতে পারি। এবার চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে আমি নির্বাচন করব বলে আশা রাখছি।
আপনিও নারী, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, বাংলাদেশে নারীর এই অগ্রযাত্রার বিষয়ে কিছু বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনাতো বিশ্বের একটা মডেল, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তিনি জাতিসংঘ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। দেশের সর্বত্রে নারীর যে অংশগ্রহণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্যতাবলেই সে অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগে নারীরা সিলেকশনের মাধ্যমে আসতো, প্রধানমন্ত্রীর হস্তেেপ তা ইলেকশনে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ও গৌরবের বিষয়। আমি নারীর ক্ষমতায়নের ওপর এমফিল করেছি, বর্তমানে পিএইচডি চলছে। নারীর ক্ষমতায়নের উপর গবেষণাধর্মী আমার একটা বই বের হয়েছে। ঢাকায় এটা প্রকাশিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে বইটা দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে আমার।
“চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন”, আপনি একজন কাউন্সিলর এই বিষয়ে কিছু জানতে চাই, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে কাজ না হবে ততদিন পর্যন্ত এই জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।
আপনার যে গুরুত্বপূর্ণ সময় সিটিজি পোস্ট ডটকম ও মৌচাক’কে দিয়েছেন তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।মৌচাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*