জননেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই মিলে তার পক্ষে কাজ করবো

একান্ত সাক্ষাতকারে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে (চন্দনাইশ) মনোনয়ন প্রত্যাশী খালেদা আক্তার চৌধুরী
জননেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই মিলে তার পক্ষে কাজ করবো

খালেদা আক্তার চৌধুরী। চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাষ্ট্রিজ এর উদ্যোক্তা পরিচালকও। তিনি রাজনীতি, সমাজসেবা ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে উজ্জ্বল মুখ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। সিটিজি পোস্ট ডটকম ও মাসিক মৌচাক নির্বাচন নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নগরীর চট্টেশ্বরী রোডস্থ তার বাসায় একান্ত আলাপচারিতা হয়। আলাপচারিতার চুম্বক অংশটুকু পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সিটিজি পোস্ট ডটকম এর স্টাফ রিপোর্টার ও মাসিক মৌচাকের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক মো: কুতুব উদ্দিন রাজু।
মৌচাক : আপনি একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী, সরাসরি একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারী হয়ে লড়তে যাচ্ছেন- এই বিষয়ে জানতে চাই?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : জননেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নারীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। নারীদের ক্ষমতায়নে যে কাজ করছেন বিশ্বে তা অপ্রতুল। আমিও একজন নারী। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারী হয়ে নির্বাচন করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আমি চিন্তা করলাম এলাকার মধ্যে আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই, সেই সুবাদে পুরুষদের সাথে লড়াই করে জিতে আসতে পারবো। একজন পুরুষ যদি পারে আমি নারী হয়ে অবশ্যই পারবো।
মৌচাক : চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনটি সবার কাছে পরিচিত কর্ণেল অলির ঘাঁটি। সেখানে যদি কর্ণেল অলির সাথে আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সেখানে আপনি কিভাবে অলিকে পরাজিত করে জয়ী হতে পারবেন?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : কর্ণেল অলি একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদ। চন্দনাইশে অলির জনপ্রিয়তা ও বিশাল ঘাঁটি আছে। অলির কাছে আমি কিছুই না। অলি এলডিপি’র চেয়ারম্যান। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। আমি যদি নমিনেশন পাই, আশা করি চন্দনাইশে নির্বাচনী মাঠে একটা লড়াই হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে নির্বাচনী মাঠে লড়াই করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে চন্দনাইশ আসন উপহার দিতে পারবো।
মৌচাক : চন্দনাইশ আসনে গত বারের এমপি নজরুল ইসলামও মনোনয়ন নিয়েছেন। আরো বেশ কয়েকজনও ফরম নিয়েছেন, আপনিও নিয়েছেন। তাই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : মানুষ আশা নিয়েই তো বেঁচে থাকে। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। তবে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই মিলে তার পক্ষে কাজ করবো। আমরা বুঝি স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা। বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা। শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার। আমরা সবাই মিলে নৌকার পক্ষে কাজ করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে চন্দনাইশ আসনটি আবারো উপহার দিব।
মৌচাক : জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেন, তরুণদের ও নারীদের মনোনয়ন দিবেন। এবার চট্টগ্রাম থেকে দেড় ডজন নারী মনোনয়ন নিয়েছেন এই ব্যাপারে আপনি কি প্রত্যাশা করেন?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের ও নারীদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। তাই তরুণদের ও নারীদের বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়নেও জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করে যাচ্ছেন তার ধারাবাহিকতায় তিনি নারীদেরও এবার প্রাধান্য দিচ্ছেন। বাংলাদেশে নারীদের ভোটারও বেশী, সরকার প্রধানও নারী, বিরোধী দলের নেত্রীও নারী। তাই নারীর অগ্রাধিকার বেশী বলে আমি মনে করি। নারীরা যদি সরাসরি নির্বাচনে মনোনয়ন পায় তাহলে নারীদের ভোটে নারীরা সাহসিকার সাথে বিজয় লাভ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
মৌচাক : নির্বাচনের দৌঁড়ঝাপ যখন শুরু হয়, তখন অনেকেই মনে করেছিল বিএনপি বা ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট জাতীয় ঐকফ্রন্ট সৃষ্টি করে নির্বাচনে চলে আসল। এটা আপনি কিভাবে দেখছেন।
খালেদা আক্তার চৌধুরী : আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। বিএনপি নির্বাচনে আসায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। বিএনপি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছিল হয়ত এটা বুঝতে পেরে এবার নির্বাচনে চলে আসল তারা। এ আসাতে মনে হয় শুভ বুদ্ধির উদয় হল তাদের। আমরা চাই, সব দল মিলে নির্বাচন করুক। সবাই মিলে একটা সুন্দর দেশ উপহার দিব। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মত উদার মনের মানুষ বলেই সব দলের সাথে সংলাপ করেছে। সবাইকে নির্বাচনে স্বাগত জানিয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে যুদ্ধ করে যে দল সরকার গঠন করবে সেই দল দেশ পরিচালনা করবে।
মৌচাক : এবার নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে তরুণ ভোটার। প্রায় ১ কোটির মত এ তরুণ ভোটারগুলো নির্বাচনে কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : তরুণ ভোটাররাতো এবার মহা খুশি। তরুণেরা নির্বাচন দেখেছে কিন্তু ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা সরাসরি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে। তরুণেরা আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে চায়। শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে তরুণেরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চায়। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের কোন বিকল্প নেই।
মৌচাক : বিএনপি একাদশ নির্বাচন নিয়ে নানান সংকটের কথা বলছে আসলে এটা সংকট নাকি উৎসব?
খালেদা আক্তার চৌধুরী : এটা আসলে কোন সংকট না। বিএনপি এটা নিয়ে নানান তামাশা করছেন। নির্বাচন নিয়ে ছোটখাট সমস্যা হবেই। এটা কোন সংকট নয়, এটা গণতন্ত্রের উৎসব মনে করি। এখানে ছোটখাট ঝামেলা না হলে না হলে নির্বাচনী উৎসব মনে হয় না। নির্বাচনে একটা আমেজ থাকতেই হয়।
মৌচাক : সর্বস্তরের ভোটারদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
খালেদা আক্তার চৌধুরী : আমি মনে করি, গণতান্ত্রিক উপায়ে এবার নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন কেন্দ্রে সুন্দর পরিবেশে ভোটারেরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তাই সর্বস্তরের জনসাধারণকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো নৌকায় ভোট দিন।
মৌচাক : আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
খালেদা আক্তার চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*