রাজনৈতিক দলের মোট ২৫৬৭ এবং স্বতন্ত্রে ৪৯৮টি মনোনয়ন পত্র জমা

রাজনৈতিক দলের মোট ২৫৬৭ এবং স্বতন্ত্রে ৪৯৮টি মনোনয়ন পত্র জমা

এম.বেলাল উদ্দীন আকাশ,স্টাফ রিপোর্টার৷৷ দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত সবগুলো রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছে। ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ৬৯৬টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকে একটি মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। বিএনপির পর দ্বিতীয় অবস্থান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। দলটির হাতপাখা প্রতীকে ২৯৯টি মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। তৃতীয় অবস্থান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। দলটির নৌকা প্রতীকে ২৮১টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ২৯শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সবগুলো প্রার্থী দিয়েছে। ইসি সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮শে নভেম্বর বুধবারের মধ্যে তিন হাজার ৬৫ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের পক্ষে ছাড়াও ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থান প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। দলটির লাঙল প্রতীকে ২৩৩টি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম অবস্থান জাকের পার্টির। দলটির গোলাপ ফুল প্রতীকে ১০৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। ষষ্ঠ অবস্থান বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির। দলটির আম প্রতীকে ৯০টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। সপ্তম অবস্থান বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির। দলটির কাস্তে প্রতীকে ৭৭টি মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। অষ্টম অবস্থান বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ)। দলটি টেলিভিশন প্রতীকে ৭১টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। নবম অবস্থান গণফোরামের। দলটির উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ৬১টি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। দশম অবস্থান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের। দলটির মশাল প্রতীকে ৫৩টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এরপর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসপির তারা প্রতীকে ৫১টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মই প্রতীক ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হারিকেন প্রতীকে ৪৯টি করে মনোনয়ন জমা হয়েছে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা প্রতীকে ৩৭টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশের কুলা প্রতীকে ৩৭টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকে ৩৩টি, ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকে ৩২টি ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকে ৩০টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ার প্রতীকে ২৮টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকে ২১টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ফুলের মালা প্রতীকে ২০টি, জাতীয় পার্টি-জেপির বাইসাইকেলে প্রতীকে ১৭টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের হাত (পাঞ্জা) প্রতীকে ১৭টি, গণফ্রন্টের মাছ প্রতীকে ১৬টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের বাঘ প্রতীকে ১৬টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ছাতা প্রতীকে ১৫টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের খেজুর গাছ প্রতীকে ১৫টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কুঁড়েঘর প্রতীকে ১৪টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কাঁঠাল প্রতীকে ১৩টি, খেলাফত মসলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ১২টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির গরুর গাড়ি প্রতীকে ১১টি, গণতন্ত্রী পার্টির কবুতর প্রতীকে ৮টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির হুক্কা প্রতীকে ৬টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি প্রতীকে ৫টি ও বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের (এম.এল) চাকা প্রতীকে ৩টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম-৩(সন্ধীপ)আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাত পাখা প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমাদানকারী মাওলানা মনসুরুল হক বলেন সংবাদ সম্মেলনে আমার আসনটির কথা উল্লেখ করা হয়নি৷অথচ মনোনয়ন ফরম জমাদানের অফিস কপি আমার হাতেই আছে৷তাই তিনি পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন৷তাঁর বক্তব্য সঠিক হলে দলটির মনোনয়ন ফরম জমাদানের হিসাব ২৯৯ এর স্থলে হবে ৩০০টি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*