ফটিকছড়ি নির্বাচনী মাঠের আলোচনায় সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

ফটিকছড়ি নির্বাচনী মাঠের আলোচনায় সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্বিক কেন্দ্র মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আওলাদ তিনি। ছিলেন তরিকেতের খেদমতে। সারা দেশ জুড়ে রয়েছে তাঁর হাজার হাজার আশেক ভক্ত। হঠাৎ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদান। ফটিকছড়ির অস্থি’র রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং নির্বাচনী মাঠের এ যেন এক নতুন চমক। বলছিলাম মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আওলাদ হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসনী আল মাইজভান্ডারীর কথা। “ঐক্যের সাথে দেশ গড়ি” এ শ্লোগান নিয়ে অতি সাম্প্রতিক আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির চেয়ারম্যান তিনি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবদ্ধিত না হওয়ায় দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমাদেন তিনি চট্টগ্রাম-২ ফকিছড়ি আসনে।এ আসনে নির্বাচন প্রদ্বিন্ধিতা করবেন তিনি। সম্মিলিত জোটের অংশিদার এবং মহাজোটের অংশ ইসলামীক ডেমোক্রেটিক এ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে অংশ নিয়ে মহাজোট নেত্রীর ইতিবাচক সাড়া পেয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বলে জানান সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। ফটিকছড়ি ছাড়াও ঢাকা-১৪ আসন থেকেও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। মোমবাতি প্রতীক ছাড়াও মহাজোটের প্রতীক নৌকা পেতেও নেত্রীর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে উপজেলার সমমনা ইসলামী দলগুলোর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি। সম্মতি নিয়েছেন তাঁর নিজ গ্রামের দশ মহল্লাবাসির কাছ থেকে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ সাধারন সম্পাদক মো. মঈনুল আলম চৌধুরী বলেন,রাজনৈতি অঙ্গনে নতুন হলেও তাঁর রয়েছে উপজেলা জুড়ে ক্লিন ইমেজ। সুন্নি আকিদা ও সুফিবাদের মতাদর্শি জনগোষ্টি ছাড়াও মাইজভান্ডারী তরিকার বড় ধরনের সমর্থক রয়েছে উপজেলা জুড়ে। ফটিকছড়িতে সুন্নি আকিদা ও মাইজভান্ডারী তরিকা পন্থিদের ভোট রয়েছে প্রায় এক লাখের মত। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তাদের প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে অনেকাংশে। শুধু সুন্নি আকিদা বা সুফিবাদী নয় আওয়ামীলীগ বিএনপি’র মধ্যেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতা। কেননা এ বড় দু দলের অনেকেই আছেন মাইজভান্ডারী তরিকার ভক্ত। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে দেশীয় এবং আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কারণে তাঁর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন,নির্বাচনকে সামনে রেখে দু এক দিনের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বে সমমনা ইসলামী দল গুলো নিয়ে বৃহত্তর ইসলামী জোটের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। যা নির্বাচনী মাঠে তাঁর পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ছোট খাট মতানৈক্য মিটাতে পারলে হয়তো বা হেফাজতও তাদের সাথে এক হতে পারে বলে ধারনা করছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর পিতা মরহুম সৈয়দ মাঈনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অনেক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতিরোধ এবং মদিনার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশে^র দরবারে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর মুল লক্ষ্য। এ আসনে মহাজোটের অপর হেভিওয়েট প্রার্থী তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া রহমান মনজিলের আওলাদ। সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীও গাউছিয়া রহমান মনজিলের আওলাদ। সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। এছাড়া আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার হচ্ছেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীর ভগ্নিপতি। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকলে ফটিকছড়ির নির্বাচনী হিসাব নিকাষ কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*