প্রসঙ্গঃঅরিত্রি,পর্ব-০১

প্রসঙ্গঃঅরিত্রি,পর্ব-০১

সৈকত শুভ,চট্টগ্রাম থেকে৷৷ অরিত্রি নামক মেয়েটাকে নিয়ে দেখছি সবাই আবেগের সাগরে ভেসে যাচ্ছে। কেউ মরে গেলে আমরা আবেগের সাগরে ভেসে যায়, সাথে ওই ব্যক্তির দোষগুণ গুলোকেও ভাসিয়ে দিই। সর্বশেষ যতটুকু জানতে পারলাম ভিকারুন্নিসা স্কুলের অরিত্রি নামক মেয়েটাকে নকল করার অপরাধে অপমান করায় সে আত্মহত্যা করেছে। কে কি বলবে আমি জানিনা, তবে আমার মতে শিক্ষকের দোষ ২০%, অভিভাবকের দোষ ৩০%, আর বাকি ৫০% মেয়েটার দোষ। একটা ক্লাস নাইনের মেয়ে স্মার্টফোন পায় কিভাবে? মেয়েটার মা বাবা কেমন!! মেয়েকে ভালো শিক্ষা দিতে পারেনি পরিবার থেকে। ক্লাস নাইনের মেয়ের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিল, আর এরাই এসব স্মার্টফোনে প্রেম করে বেড়াই, যত কুকর্মসাধন করে থাকে। এখানে শুধু স্কুলের শিক্ষককে দোষারোপ করা হচ্ছে। ভালো স্কুল গুলোর নিয়মনীতি সবসময় কড়াকড়ি হয়। আর কড়াকড়ি হয় বলেই স্কুল গুলো থেকে ভালো রেজাল্ট আসে। ভিকারুন্নিসার মত স্কুলে যেখানে ক্লাসে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, সেখানে মেয়েটা পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে নকল করার সাহস পায় কিভাবে? এখানে নকল করার অপরাধে স্কুলের নিয়ম অনুসারে তাকে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বের দেয়ার বিধান রয়েছে। তাই তার পিতাকে প্রধানশিক্ষকের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। যারা বলবেন, সামান্য নকল করার অপরাধে স্কুল থেকে বের করে দিতে হবে!!! তাদের বলি, এখানে কিছু করার নেই, কারণ এটাই ওই স্কুলের নিয়ম। কিছু কিছু স্কুলে নকল কিংবা স্কুলের নিয়ম ভঙ্গের জন্য জেল/জরিমানা পর্যন্ত হয়। আপনাদের মনে করিয়ে দিই, কিছু মাস আগে ঢাকা সিটি কলেজের কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পরিধান করে প্রেম নিবেধনের ভিডিও করে ফেইসবুকে আপলোড করার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের ১৩জনকে টিসি দেয়া হয়েছিল। আপনারা যারা মেয়েটার পক্ষে সাফাই গাইছেন তার মানে আপনারা কি নকল করাকে সমর্থন করছেন? আপনারাই আবার প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কথা বলেন। পরীক্ষার হলে নকল করবে আর শিক্ষক কি তাকে আদর করবে? নিজেকে প্রশ্ন করুন, শিক্ষকের জায়গায় আপনি হলে কি করতেন? তাকে একটু কড়া ভাষায় কথা বলেছে, তাতেই নাকি তার অপমান বোধ হয়েছে। এতই যখন অপমান বোধ হবে তখন নকল করতে গেল কেন? নকল করার আগে নিজের সম্মানবোধ, আর মা-বাবার সম্মানের কথা চিন্তা করা উচিত ছিলোনা? আমাদের সময় শিক্ষকরা মারতে মারতে পিঠের চামড়া তুলে ফেলতো, অথচ আজকালকার ছেলেমেয়েদের শাসন ও করা যায় না। শরীরে বেত দিয়ে দু-একটা আঘাত করলে নাকি সেটা হয়ে যায় শারীরিক নির্যাতন, আর একটু কড়া ভাষায় শাসন করলেই হয়ে যায় অপমান। যারা মেয়েটিকে “ছোট বাচ্চা, ছোট বাচ্চা” বলছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি, ক্লাস নাইনে পড়ুয়া একটা মেয়ে কখনো ছোট বাচ্চা নয়। তাও আবার আধুনিক যুগের মেয়ে। খোঁজ নিয়ে দেখুন ওর মত বয়সী মেয়েদেরই একেকটার ৪/৫টা করে ছেলে বন্ধুও আছে। এখানে মেয়েটি দুটি মারাত্মক অপরাধ করেছে। ১)মোবাইল ফোনে নকল ২)আত্মহত্যা। আত্মহত্যা করা মারাত্মক অপরাধ যেটি কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। তাই শুধুমাত্র শিক্ষককে দায়ী করে এতবড় দুটি অপরাধ শিক্ষকের উপর চাপিয়ে দেয়া যায়না। এখানে শিক্ষক স্কুলের নিয়মনীতি অনুসারে তার দায়িত্ব পালন করেছে, শিক্ষক কখনোই জানতো না মেয়েটা আত্মহত্যা করবে। মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে শুধুমাত্র তার জিদের কারণে। এখানে শিক্ষককে কোনো ভাবেই দায়ী করা যায়না। বিঃদ্রঃ- আমি এখানে আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করলাম। আপনাদের অনেকের মতামত হয়তো আমার মতের সাথে নাও মিলতে পারে। কারণ সবার মেন্টালিটি এক নয়। চলবে…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*