নানা কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস

নানা কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস

হেলাল উদ্দীন , সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ ৭ ডিসেম্বর আজ সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল আপামর জনতা। দীর্ঘ ৯ মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেদিনের সাহসী সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছিলেন। প্রতি বছরের ন্যায় এ দিনটি পালন করতে বর্নাঢ্য আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। তবে ৪৭ বছর পরও স্মৃতিসৌধ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায় স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ পড়েনি। সংরক্ষন করা হয়নি জেলার বিভিন্ন উপজেলার বদ্ধভূমি গনকবর।১৯৭১ সালের ২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তান বিরোধী মিছিলে রাজাকার আলবদর ও আলসামসদের গুলিতে আব্দুর রাজ্জাকের শহীদের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রক্তঝরা অধ্যায়। আর এখান থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার দামাল ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া। মুক্তিযুদ্ধের খরচাদি বহনের জন্য সাতক্ষীরা ট্রেজারী হতে অস্ত্র লুট আর তদানিন্তন ন্যাশনাল ব্যাংক হতে অলংকার টাকা পয়সা লুটের মধ্য দিয়ে রচনা হয় মুক্তির সংগ্রাম। ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় । এ সময় পাক সেনাদের ২ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘন্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হয় মাত্র ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হয় আরো ২ জন মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য । এ সব যুদ্ধে শহীদ হয় ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। লাইটের আলোয় অসুবিধা হওয়ায় ৩০ নভেম্বর টাইম বোমা দিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীত সন্ত্রস্ত করে ফেলে পাক সেনাদের। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে পাক সেনারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রীজ উড়িয়ে দিয়ে পাক বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা।জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মসিউর রহমান মশু জানান,সরকারের কাছে বদ্ধভূমি সংরক্ষন ও স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেয়ার জোর দাবী তিনি যুদ্ধের ঘটনা বর্ননার সাথে সাথে ক্ষোব প্রকাশ করেন ৪৭ বছরেও স্মুতিসৌধ্য থেকে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ পড়েনি। সংরক্ষন করা হয়নি জেলার বিভিন্ন উপজেলার বদ্ধভূমি আর গনকবর। জেলার ৭টি উপজেলার ১০টি বদ্ধ্যভূমি সংক্ষন ও স্মুতিসৌধ্য থেকে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দিতে সরকারের কাছে মুকিক্তযোদ্ধাদের দাবি।দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন করা হয়।এরপর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোাশরফ হোসেন মশু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়েরসাতক্ষীরাস্থ উপ-সচিব শাহ আব্দুল সাদী প্রমুখ।পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের কবর জিয়ারত ও পুস্প মাল্য অর্পন এবং জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।এরপর শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বাহী লাঠিখেলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজি প্রদর্শন করা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*