ভোলা-৩ আসনে ব্যাপক আলোচিত আইনজিবী নেতা কে এই কামাল

ভোলা-৩ আসনে ব্যাপক আলোচিত আইনজিবী নেতা কে এই কামাল

ভোলা প্রতিনিধি- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন হতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের

আস্থাভাজন সুপ্রীমকোর্ট আইনজিবী নেতা আ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত বিএনপি মাঠে না আসলেও আলোচনার কমতি নেই তরুন আইনজিবী নেতা আ্যাডভোকেট কামাল কে নিয়ে। দীর্ঘ দুই যুগের মত এ আসনে একক আধিপত্য ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করায় সাবেক মন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবঃ  মেজর অবঃ হাফিজ কে নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে আবার নতুন করে আলোচনায় এসে সাধারন মানুষের নিকট চমক হয়ে উঠেছেন তরুন ও যুব সমাজের  নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠা সুপ্রীমকোর্ট আইনজিবী নেতা আ্যাডভোকেট কামাল হোসেন। জানা যায়,বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হিসেবে রাজনীতিতে নতুন করে পথ চলা এ তরুন নেতা বিগত আ’লীগের দুই মেয়াদে দেশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলায় আইনী সহায়তা দিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করেন।১/১১ এ বিএনপির সংকটকালীন সময়ে দলের ক্রান্তিলগ্নে মুলধারার রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলাগুলোতে হাইকোর্টে জাতীয়তাবাদী আইনজিবী ফোরামের হয়ে আইনজিবী নেতাদের সাথে আইনী লড়াইয়ে শামিল হন। তখন হতেই তিনি তারেক রহমানের দৃস্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের হাজীরহাট গ্রামের শান্ত কুটিড়ের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি  জম্মগ্রহন করেন।পিতা আবদুল মালেকের চার ছেলে চার মেয়ের মধ্য তিনি ষষ্ঠ।ছোট বেলা হতে অসম্ভব মেধাবী কামাল ৫ম ও ৮ ম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯৫ ইং সালে যশোর বোর্ডের অধীনে লালমোহন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় স্কলারশীপ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হন।১৯৯৭ ইং সনে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ঢাকা কলেজ হতে এইচ এসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ও তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন, ইংরেজীতে ২৫ এর মধ্য ২৩ নম্বর পেয়ে সকলকে চমকে দেন শৈশব ও কৈশোরের দুরন্ত বালক  প্রতিভাবান  আইনজিবী কামাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি অনার্স  সফলতার সাথে শেষ করে ২০০৪ ইং সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতেই স্কলারশীপ পেয়ে এলএলএম  ডিগ্রী অর্জন করেন। সরকারী চাকুরীর নানা সুযোগ থাকা সত্বেও আইনের ম্যারপ্যাচেঁ  পিস্ট সাধারন বিচারপ্রার্থীদের আইনী সহায়তা দিতে তিনি ২০০৪ ইং সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশার মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন।সবাইকে তাক লাগিয়ে নিজ প্রতিভাগুনে অল্প সময়ের মধ্যই ২০০৬ ইং সালে সুপ্রীম কোর্টে আইনজিবী হিসেবে তিনি নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সমর্থ হন। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহসিকতা, মেধা, প্রজ্ঞা,দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব, সততা, কর্তব্যনিস্ঠা, একাগ্রতা,মানবিক গুনাবলী আর প্রতিভাই তাকে  সাফল্যর স্বর্নশিখরে পৌছে দিয়ে সুপ্রীমকোর্টে একজন প্রতিস্ঠিত মেধাবী আইনজিবীর উপাধি এনে দেয়।
সুপ্রীম কোর্টে আইনপেশায় সম্পৃক্ত থেকেও তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় জনগুরুত্বপুর্ন ও চাঞ্চল্যকর অনেক মামলা মোকাবেলা করে জয়ী হন।তার যুক্তিপুর্ন শুনানী, কথার বাগ্মীতা,ভাষার প্রাঞ্জলতা, অনর্গল ইংরেজীতে আলোচনা বিচারক সহ মামলার সংশ্লিস্ট সকলকেই ব্যপকভাবে মুগ্ধ করে। এ পর্যন্ত তিনি দেশের ২৫ টি জেলার জজ কোর্টে বাদী/বিবাদীদের পক্ষে গিয়ে মামলায় লড়ে সবকটি মামলায়ই তিনি জয়ী হন।তার সঠিক যুক্তিতর্কে আইনী ঘ্যাড়াকলে পিস্ট মানুষ পায়  আলোর দিশা।অনেক মামলায় তার মেধাশৈলী আইনী যুক্তিতর্ক, মামলার মেরিট বুঝে তথ্য প্রমান সহ মামলার গভীরে গিয়ে  চ্যালেঞ্জ জানানো, আইনের সঠিক যুক্তিতে  নিজের তেজস্বী মনোভাবে অটোল থাকা, তার দুরদর্শীতা, বিচক্ষনতা, অন্য যে কোন আইনজিবীর তুলনায় তাকে আলাদাভাবেই  পরিচিত করে।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন ইস্যুতে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরন করে তিনি  অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। দুদক আইনের ১২ ধারা চ্যালেঞ্জ করে পি আই এল (Public interest litigation)মামলায় জয়ী হন, যা ঢাকা ল রিপোটার্সে প্রকাশিত হয়। দুূদক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একবার  তিনি রিট পিটিশন করে আলোচনায় আসেন।১৯৮৩ ইং সালে  নিম্ম আদালতে রায় হওয়া একটি মামলায় ৯০ দিনের মধ্য আপীল করার বিধান থাকলেও এমন একটি কনডোন মামলা তিনি ২৭ বছর পর পুনরুজ্জীবিত করে সফলতার সাথে সমাপ্ত করে আইনপেশায় এক বিরল রেকর্ড গড়তে সমর্থ হন।
সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনীতির সাথেও নিবিড়ভাবেই তিনি যুক্ত ছিলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি বিভিন্ন রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ঢাকাস্থ লালমোহন থানা ছাত্র/ছাত্রী কল্যান সমিতির সভাপতি ও লালমোহন ফাউন্ডেশন এর প্রতিস্ঠাতা সদস্য সচিব ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালীন ২০০০ ইং সালে সুর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার পর জাতীয়তাবাদী আইনজিবী সুপ্রীম কোর্ট শাখার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এবং ২০১৬-১৭ ইং সনে সুপ্রীম কোর্ট বার এর নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ রাজনীতিতে নতুন করে পথ চলা এ তরুন আইনজিবী নেতা ভোলা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*