মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ড. হাছান মাহমুদ

মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ড. হাছান মাহমুদ
কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম:  আগামীকাল ৩ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শপথ গ্রহণ শেষে শুরু হবে মন্ত্রীসভা গঠনের কাজ। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ টি আসন থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে কে কে নতুন মন্ত্রীসভায় ঠাঁয় পাচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ১৬ সাংসদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে নির্বাচিত সাংসদ ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ পুনরায় মন্ত্রীত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
তবে, আগেরকারের চেয়ে এবারের সরকারকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। বয়সের ভারে ন্যুব্জ একাধিক মন্ত্রী আসন্ন মন্ত্রীসভা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে এবার ১২ – ১৫ জন মন্ত্রীর নাম বাদ দেবার তালিকায় রেখেছে দলটি। দপ্তর বদলের তালিকায়ও আছেন কয়েকজন। অন্তর্ভুক্তির তালিকায় অনেক নবীন সাংসদের নাম রাখছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গত মন্ত্রীপরিষদের কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের করাণে এক ডজন মন্ত্রী এবার বাদ পড়তে পারেন। অনেক মন্ত্রীর আমলনামা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তগত হয়েছে। অনেক আগে থেকেই এসব মন্ত্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী হওয়ার পর এলাকায় ক্যাডার বাহিনী গঠন, নিয়োগবাণিজ্য, দখলবাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে দল ও সরকারকে বিতর্কিত করা, স্থানীয় আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জাতিগত বিভেদ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এই তালিকায় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে কারা আসবেন, এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন। কে কে হতে পারেন মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্য এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি এখন বলা সম্ভব নয়। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানা গেছে, আগামী মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ মন্ত্রীদেরই আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম -৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ পুনরায় মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন তা অনেকটা নিশ্চিত।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে এবারও বিজয়ী ড. হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। এর আগে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, ড. হাছান মাহমুদ ২০০৮ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীত্ব পেয়ে চমক সৃষ্টি করেন। ৬ মাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। সাড়ে ৪ বছর সফলতার সাথে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সংসদে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। নতুন করে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন, এমন আলোচনা এখন চট্টগ্রামের সর্বত্র। রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নে তিনি গত ১০ বছরে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন এবং সারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়া ও বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। তাই রাঙ্গুনিয়া তথা চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা তাঁকে পুনরায় মন্ত্রী করা হলে চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন আরো গতিশীল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*