কচুয়ায় বিএনপির সূচনীয় পরাজয়ের প্রধান কারন অপরিচিত প্রার্থী

কচুয়ায় বিএনপির সূচনীয় পরাজয়ের প্রধান কারন অপরিচিত প্রার্থী
মোঃ মহসিন হোসাইনঃ সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে বিএনপির সূচনীয় পরাজয়ের প্রধান কারন অপরিচিত প্রার্থী।এ নির্বাচনে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮ শত ৪৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন-সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন উদ্দীন আলমগীর,এমপি। বিএনপির প্রার্থী মোঃ মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৭ হাজার ৭ শত ৫৯ ভোট।উপজেলার ১০৮ টি কেন্দ্রের মধ্যে কোন কেন্দ্রেই বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি।এমনকি তার নিজ কেন্দ্রে ৯শত ৬৬ ভোটে হেরে বসেন।এ কেন্দ্রে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর পেয়েছেন ১৫ শত ৫৭ ভোট।বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৫ শত ৯১ ভোট।
তার এ সূচনীয় পরাজয়ের অনুসন্ধান কালে উঠে আসে অপরিচিত প্রার্থীর বিষয়টি।এ আসনে ১৯৯৬ সালে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রয়াত বড় ভাই সাবেক সাংসদ মিসবাহ উদ্দীন খানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন আ ন ম এহসানুল হক মিলন।২০০১ সালেও তিনি তৎকালিন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।তখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আ ন ম এহসানুল হক মিলন।২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মিলন ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।এসময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেন।সরকারের শেষ সময় ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।আ ন ম এহসানুল হক মিলন সে সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় প্রায় ১১ মাস হাজত বাস করে। জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে পারী জমান।বিদেশে থাকাকালীন আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে ১৭ টি মামলায় গ্রেফতারি পরোওয়ানা জারী হয়।পরোওয়ানা মাথায় নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে দেশে ফেরার ক’দিন পর তিনি গ্রেফতার হন।
অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও মালেশিয়া বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন তদবির করে আ ন ম এহসানুল হক মিলন,তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবির পাশে মনোনয়ন পত্রে নিজের নাম বসাতে সক্ষম হন এবং চুড়ান্ত মনোনয়নে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় চিঠি পান।দলীয় নেতা-কর্মীদের চাউর রয়েছে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের জোড় তদবিরে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর উপজেলার বিএনপির একাংশ ও তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে পোঁষে উঠে।তারা মোশারফ হোসেনের পরিবর্তে আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে চুড়ান্ত মনোনয়ন পত্র দেওয়ার দাবীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এসময় কার্যালয়ে ভিতরে থাকা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবীর রিজবী সহ কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।এতেও কোন কাজ হয়নি।বিএনপির চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মোশারফই থেকে যান।বিএনপির ওই অংশটি কচুয়ায় ফিরে এসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষােভ করে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে।যার ফলে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হলেও বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন যথাসময়ে প্রচারনা শুরু করেননি।ঢাকায় বসে দলীয় প্রতিপক্ষের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালান।চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ১২ ডিসেস্বর তিনি তার নিজ গ্রামে প্রয়াত পিতার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে কচুয়া আসার পথে সাচার বাজারে তার গাড়ি বহরে হামলা হয়।হামলাকারিরা বহরে থাকা ৫টি গাড়ি ভাংচুড় করে।তিনি এ হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগকে দায়ী করলেও আওয়ামীলীগ বলছে এ হামলা বিএনপির অন্তকলহের জেড়।প্রচারনায় বাধার পর তিনি ঢাকায় ফিরে গিয়ে আর এলাকায় আসেননি।
নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পুলিশি হয়রানী শুরু হয় এর বিরুদ্ধে তিনি কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন।নির্বাচনের ৩/৪ দিন পূর্বে পুলিশ পাহারায় বাড়িতে ফিরে আসলেও প্রচারনায় নামেননি।স্থানীয় একাদিক সুত্র নিশ্চিত করেছে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি নিজ বাড়িতে সেচ্ছায় বন্দী ছিলেন।এমনকি তিনি ১০৮টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতেও ব্যর্থ হয়েছেন।যদিও তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির প্রার্থী এজেন্ট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ বলেন-বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে তার এজেন্টদের তালিকা প্রেরণ ও প্রশিক্ষন দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে তাগিদ দিলেও তিনি কোন তালিকা প্রেরণ করেননি।
প্রার্থীর এ জাতীয় কর্মকান্ডে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হয়ে ভোটের দিনে ভোট কেন্দ্রে যাননি এবং ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকেন।এরপরে কচুয়া তথা সারাদেশের উন্নয়নকে সামনে রেখে বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ জয় পান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
বিএনপির এ সূচনীয় পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারন সম্পাদক খায়রুল আবেদিন স্বপন বলেন-এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে দুই বার নির্বাচিত এমপি সাবেক সফল শিক্ষাপ্রতি মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন তিন ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন।কিন্তু হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেন অপরিচিত ও প্রবাসী প্রার্থী মোশারফ হোসেন।তাকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সু’দিন ও দুর দিন পাশে পায়নি।নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নিতে না পেরে তার নির্বাচন বর্জন করেছেন।যার ফলে ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর সহজেই এমপি নির্বাচিত হন।তিনি আরো বলেন-মিলন ভাই প্রার্থী হলে আওয়ামীলীগ এক তরফা ভোট করতে পারতো না।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন-কেন্দ্রীয় নেতাদের বুঝা উচিত ছিল ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মত হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মিলন ভাইয়ের বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*