লবণ চাষ বন্ধের নির্দেশে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে চাষীর

লবণ চাষ বন্ধের নির্দেশে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে চাষীর

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খাঁন, উপকূলীয় প্রতিনিধি : গরিব চাষীদের জমি নিয়ে বিদেশিদের পেট ভরাতে, বিদুৎতের উন্নয়ন করতে গিয়ে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর দ্বিতীয় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহনকৃত ১২০০ একর লবণ চাষের জমিতে লবণ বন্ধ করতে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন লবণ চাষীরা। লবণ চাষ বন্ধ হলে চাষীদের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাতারবাড়িতে দ্বিতীয় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কোল পাওয়ারের একটি হঠকারি সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মাতারবাড়ি। কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জমিতে কাজ শুরু না করলেও পরিত্যক্ত জমি থেকে চাষীদের বিতাড়িত করতে কাজ শুরু করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন লবণ চাষী জানান, কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ লবণ চাষ বন্ধ করতে হঠাৎ নির্দেশনায় আমরা হতবাক হয়েছি। অনেক আগেই প্রতি কানি লবণের জমি অন্তত ৩৫/৪০ হাজার টাকা দরে এক মৌসুমের জন্য ইজরা নিয়েছি জমির মালিকদের কাছ থেকে। ওই জমি লবণ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করতে প্রতি একরে ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা করে খরচ হয়েছে। চাষীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে অধিকাংশ জমিতে ইতোমধ্যে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ১২০০ একর প্রকল্পের অধিগ্রহনকৃত অধিকাংশ জমির ক্ষতিপুরণের টাকাও এখনো মালিকপক্ষ পায়নি। জমির মালিক আবদুল খালেক জানান, কোল পাওয়ারের এমন সিদ্ধান্ত মাতারবাড়ির লবণ চাষীদের জবাই করে দেওয়ার সামিল। এমন সিদ্ধান্ত শান্তিপুর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র। কোল পাওয়ারের এমন হঠকারি সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই লবণ চাষীরা মেনে নিবে না। বর্তমানে ওই জমিতে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ কোন কাজ শুরু করেনি। ওই পরিত্যক্ত জমিতে চাষীরা স্ব-স্ব মালিকদের থেকে জমি নিয়ে লবণ উৎপাদন শুরু করেছে। ওই জমিতে লবণ উৎপাদন হলে কোন সমস্যা হবে না। কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মাতারবাড়িকে উত্তপ্ত করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাজ শুরু হলে যেকোন সময় চাষীরা জমি ছেড়ে দেবে। এটি বোঝেও না বুঝার অভিনয় করছে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ। মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, মাতারবাড়ির মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে সকল লবণ মাঠের জমি প্রকল্পের জন্য দিয়েছেন। সব জমি অধিগ্রহন করলেও মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখেন এবং আগামিতেও রাখবেন। বর্তমানে চাষীরা যাতে ওই জমিতে চাষ করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করা হবে। চাষ করতে না পারলে অনেক চাষী দেউলিয়া হয়ে যাবে। মাতারবাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম ছমিউদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নে জমি দিয়েও কোল পাওয়ারের এমন নির্দেশনায় আমরা মর্মাহত। মাতারবাড়ির মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, এরপরও কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ চাষীদের কোন প্রকার ছাড় না দেওয়া একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। মাতারবাড়ি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু হায়দার জানিয়েছেন, কোল পাওয়ারের এমন অনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে শান্ত মাতারবাড়ি অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। চাষীরা সবকিছু মেনে নিলেও এটি মেনে নেবে না। জমিতে বিনিয়োগ ছাড়াও লবণ চাষের জন্য আরো অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে। লবণ চাষ বন্ধ হলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবে চাষীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*