চাঁদপুরের পোস্টাল কোডে চলে মনোহরগঞ্জের ডাক বিভাগ

চাঁদপুরের পোস্টাল কোডে চলে মনোহরগঞ্জের ডাক বিভাগ

কুদরত উল্যাহ,কুমিল্লা প্রতিনিধি :– কয়েক মাস বা কয়েক বছর নয়, টানা ১৩ বছর পার হলেও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ডাক বিভাগের ভাগ্যে এখনও জোটেনি একটি পোস্টাল কোড। ফলে ২০০৫ সালে এ উপজেলাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও চাঁদপুর জেলার পোস্ট কোডে আজও চলছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ডাক বিভাগের কার্যক্রম। উপজেলা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৩ বছর পার হলেও এ উপজেলার ১৬টি পোস্ট অফিস নিয়ে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা ডাক বিভাগের রশি টানাটানির শেষ কবে হবে, সেই প্রশ্নের সঠিক কোন জবাব নেই ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছেও। এদিকে, উপজেলা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ এক ঘুগেও মনোহরগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের অনুমোদন না মেলায় একটি শাখা অফিস থেকেই নামমাত্র পরিচালিত হচ্ছে এ উপজেলার ডাক বিভাগের কার্যক্রম। তবে গত কয়েক বছর আগে উপজেলা সদরে ডাক বিভাগ একটি ভবন নির্মাণ করলেও কোন প্রকার জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় একজন মাত্র পিয়ন দিয়েই চলছে লক্ষ মানুষের সেবা! এতে একদিকে উপজেলার জন্ম থেকেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে এ মনোহরগঞ্জের কয়েক লাখ মানুষ। আবার অন্যদিকে সঠিক সেবা না পেয়ে ভোগান্তির কারনে ডাক বিভাগ থেকে সাধারণ মানুষ বিমুখ হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্বও। এক কথায় বলতে গেলে দীর্ঘ ১৩ বছরের দূর্ভোগে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানুষের কাছ থেকে হারাতে বসেছে ডাক বিভাগ নামের ঐতিহ্যটি। সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী জেলার লাকসাম উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে মনোহরগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার মধ্যে ১৬টি পোস্ট অফিসও রয়েছে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরনের নামে উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ বাজার, নরহরিপুর বাজার, হাসনাবাদ বাজার, বাইশগাঁও বাজার, দাদঘর বাজার, নোয়াগাঁও, পোমগাঁও বাজার, কাশিপুর বাজার ও আমতলী বাজার নামে এ ৯টি পোস্ট অফিস গত এক যুগ ধরে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তির চিতোষী সাব-পোস্ট অফিসের অধীনে রয়েছে। যার পোষ্ট কোড নং- ৩৬২৩। অন্যদিকে, উপজেলার লাল চাঁদপুর, ইকবালনগর, লক্ষণপুর বাজার, নাথেরপেটুয়া বাজার, বিপুলাসার বাজার ও ভোগই নামে ৭টি পোস্ট অফিস লাকসাম উপজেলার অধীনে রয়েছে। যার পোস্ট কোড নং- ৩৫৭০। তবে ১৩ বছর আগে জন্ম নেওয়া মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভাগ্যে এখনও জোটেনি নিজস্ব কোন পোস্ট কোড ও উপজেলার অফিস। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোহরগঞ্জের ১৬টি পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চাঁদপুর জেলা ও লাকসাম ডাক বিভাগের নিয়ন্ত্রনে থাকায় এ উপজেলার জরুরী চিঠিপত্র, পের্পাস ডুকুমেন্ট, ব্যাংক ড্রাফটসহ সরকারি বে-সরকারি ডাক বিলি-বন্টনে গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে অনেক সময় ১০/১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আবার অনেক চাকুরী প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাত পৌঁছে ইন্টারভিউ পরীক্ষার ২/৩ দিন পর। এতে সেবার বদলে উল্টো হয়রানি বাড়ে সাধারণ মানুষের। মনোহরঞ্জ উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের পোস্টাল বিলিকারক মোবারক হোসেন জানান, উপজেলা পোস্ট কোড না থাকায় সাধারণ মানুষের সাথে আমরাও হয়রানি স্বীকার হচ্ছি। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের কোন অফিসেই পর্যাপ্ত জনবল নেই। তিনি জানান, মনোহরগঞ্জ শাখা পোষ্ট অফিসে ১ জন পোস্ট মাষ্টার, ২ জন পোস্টম্যান, ২ জন রানার, ১ জন পেকার, ১ জন কেরানী, ১ জন ঝাড়–দার ও ১ জন নৈশপ্রহরী থাকার কথা থাকলেও কোন লোকবল নেই। যার ফলে আমাকে এ পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে চরম বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা ডেপুটি পোস্ট মাষ্টার জেনারেল মো.আতিকুল ইসলাম বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের অনুমোদন ও উপজেলার পৃথক পোস্ট কোড দেওয়ার জন্য আমরা বেশ কয়েকবার ডিজি অফিসে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি অতি অল্প সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*