ফের মহেশখালীতে জিয়া বাহিনী আবার চাঙ্গা : রাতের আধাঁরে ওচমান পরিবারকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ

ফের মহেশখালীতে জিয়া বাহিনী আবার চাঙ্গা : রাতের আধাঁরে ওচমান পরিবারকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খাঁন, উপকূলীয় প্রতিনিধি : ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন মহেশখালীর প্রথম শহীদ শরীফ চেয়ারম্যানের সুযোগ্য পুত্র, কালারমারছড়ার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ওচমানকে প্রকাশ্যে বাজারে সন্ধ্যায় কুপিয়ে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে বিএনপির তৎকালীন সংসদ আলমগীর ফরিদের হাতে গড়া ২৫ বছরের জিয়াকে নিয়ে সংগঠিত করে কুখ্যাত জিয়া বাহিনী ৷ তখন থেকে শুরু হয় শহীদ শরীফ চেয়ারম্যানের পরিবার ধ্বংসের রক্তক্ষয়ী রক্তের লিলা খেলা ৷ তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জিয়া বাহিনীর অত্যচারে নিজের জন্ম ভূমি থেকে পালিয়ে যায় শরীফ চেয়ারম্যানের পরিবার ৷ আওয়ামীলীগ সরকার এসে শরীফ চেয়ারম্যানের পরিবার নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে ৷ এলাকা থেকে পালিয়ে যায় জিয়া বাহিনী ৷ এতবছর পর আবারও শুরু হয় শরীফ চেয়ারম্যান তথা জনপ্রিয় মরহুম ওচমান চেয়ারম্যানের পুত্র বর্তমান জনপ্রিয় তরুণ চেয়ারম্যান তারেক শরীফকে প্রাণে মেরে ফেলার অপপ্রয়াস রাতে গত রাত ১৪ জানুয়ারী রাত ১১ টার সময় দশের অধিক গুলি ছুড়ে পালায়ে যায় জিয়া বাহিনীর পালিত অস্ত্রধারীরা ৷ এহেন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রসাশনের নিরভ ভূমিকায় অত্র এলাকার জনগণ হতাশ ৷ তারেক শরীফের মা জানান, আকস্মিক একদল লোক এসে বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। তারা কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। কিন্তু পাকা দেয়াল ভেদ করে গুলি ভেতর ঢুকেনি। তাতেই হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চেয়ারম্যান তারেক শরীফ জানান, নিরাপত্তার আশঙ্কা থাকায় তিনি প্রায় সময় বাড়িতে থাকেন না। বাড়িতে তার মাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। স্থানীয় আরো জানান, হামলাকারীরা তিন দলের বিভক্ত হয়ে তিন দিক থেকে তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। সব হামলাকারীর হাতে ছিলো ভয়ংকর আগ্নেয়াস্ত্র। গুলির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। শত শত এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় তাড়ানি খেয়ে হামলাকারীরা পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান তারেক শরীফ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারেক শরীফের পিতা ওসমান গণি চেয়ারম্যানকেও এই কায়দায় হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। তারেক শরীফকে একই কায়দায় হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং এলাকাবাসী প্রতিরোধ করতে এগিয়ে এসেছেন। পুলিশও ঘটনাস্থলে যান। চেয়ারম্যান তারেক শরীফ বলেন, ‘আমার বাবাকেও এভাবে আকস্মিক হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক সেভাবে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাকেও হত্যার চেষ্টা করেছে সেই জিয়া বাহিনী ও সেলিম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। আমি এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমি জীবনের নিরাপত্তা চাই।’ এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, চেয়ারম্যান তারেকের বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসী জানান, র‌্যাবের হাতে কালারমারছড়া বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করলেও জিয়া বাহিনী ও সেলিম বাহিনীর কোনো সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করেনি। আত্মসমর্পণ না করা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নেয়ার ঘোষণা দিয়েও র‌্যাব এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এসব সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ লোকজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*