আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম: ভালোবাসা একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়। সারা বছর, সারা দিন ভালোবাসার। তবু একটি দিনের কপালে জুটেছে ভালোবাসা দিবসের তকমা। বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো সেই দিন—বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ বৃহস্পতিবার। গতকাল বুধবার ছিল বসন্তের দিন, আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী দিনটি ভালোবাসার। বসন্তের সঙ্গে ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক। দুটি দিবস পাশাপাশি হওয়ায় আনন্দের মাত্রাটাও বেশি। এই দুটি দিবস মিলে আমরা সারা বছর ধরেই যেন বসন্তের আবহের মধ্যে থাকতে পারি, ভালোবাসার আবহের মধ্যে থাকতে পারি—এ প্রত্যাশা সবারই। ভালোবাসার দিনে মনের যত বাসনা, না-বলা কথা ডালপালা মেলে আজ ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুরেণ হাওয়ায়। হৃদয়ে লাগবে দোলা, ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে দিন। ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ হয়ে প্রহর কাটবে প্রেমপিয়াসিদের। প্রেমপিয়াসি হৃদয়ের কাছে বিশেষ গুরুত্ব আছে এই দিনটির। বছরের এই দিনটিকে সারা বিশ্বের তরুণ-তরুণীরা বেছে নিয়েছে হৃদয়ের ব্যাকুল কথার কলি ফোটাতে। যদিও এটি পশ্চিমা রীতি। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস পালনের রীতি খুব বেশিদিনের নয়। মূলত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। আজ তাই দিনভর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দেখা যাবে। ভালোবাসা দিবস মানেই প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ দিন উদ্‌যাপন। দিবসটি উপলক্ষে সব গিফট শপেই ও ফুলের দোকানে থাকবে তরুণ-তরুণীর ভিড়। আজ সারা দিন মোবাইল ফোনে, ফেসবুকে শুভেচ্ছাবিনিময় চলবে। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধু-বান্ধবীর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেয়া-নেয়া। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু`ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ। ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেনটাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*