কাতারে থাকতে হলে জেনে রাখা ভালো

কাতারে থাকতে হলে জেনে রাখা ভালো

মারুফ রানা দোহা কাতার থেকেঃ কাতারে থাকাকালে কিছু বিষয়ে সবার সচেতনতা বিশেষভাবে কাম্য। কারণ, এসব বিষয় মেনে চললে একদিকে যেমন কাতারের সংস্কৃতি ও নিয়মের প্রতি সম্মান দেখানো হয়, তেমনিভাবে নিজের দেশের ভাবমুর্তিও উজ্জ্বল হয়। এরকম কিছু বিষয় আজ তুলে ধরা হলো- কাতারে সর্ভত্র প্রকাশ্যে জনসম্মুথে অ্যালকোহল/মদ্যপান নিষেধ। ধূমপানের বেলায় নিয়ম মেনে ধূমপান করা উচিত যাতে আইনের লঙ্ঘন না হয়। কতারে অমুসলিমগণ হোটেল কিংবা তাদের বাসার অভ্যন্তরে মদ্যপান করতে পারে কিন্তু এজন্য তাদের অনুমতি নিশ্চিত করতে হবে। মদ্যপান করে গাড়ী চালানো কিংবা গাড়ী চালানোর সময়ে মদ্যপান করা নিষেধ। মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় জনসম্মুখে আসা নিষেধ। মনে রাখতে হবে কাতারে আইনের প্রয়োগ যথাযথ ভাবে নিশ্চিত হয়। তাই কেউ আইন ভঙ্গ করলে ভয়াবহ শাস্তি পেতে হয়। কোন আরবকে মদ্যপানের অনুরোধ করা উচিত নয় যদি না নিশ্চিত হওয়া যায় যে তার মদ্যপানের অভ্যাস আছে। জনসম্মুখে চিকার, হৈচৈ ও মদ্যপান করে মাতাল হওয়া যায় না। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সব জায়গায় পান খাওয়া নিষেধ। উপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি পোষাক পরিচ্ছেদের বিষয়েও বেশকিছু ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, আমাদের উচিত কর্মক্ষেত্রে কাজের উপযোগী রুচিশীল পোশাক ব্যবহার করা। পোশাক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূর্গন্ধমুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা গৃহস্থলি কাজে কাতারে আসেন, অনেক সময় গৃহকর্তা দেশ থেকে নেয়া পোশাকের পরিবর্তে, এ দেশের উপযোগী পোশাক পরিধান করতে দেবেন। কাতারের ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয় খেয়াল রাখতে হবে পুরুষরা কুর্তা, থোব, গাতরা ও ইকাল নামক পোশাক পরে, মেয়েরা পরে শায়ালা ও আবায়া। পোশাকের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয়ই এমন কোন পোষাক পরতে পারবেন না যা খুব টাইট, খুব ছোট কিংবা স্বচ্ছ, যেমন: মিনি স্কার্ট বা হাতা ছাড়া পোষাক। অভিবাসীরা শালীনতা বজায় রেখে যেমন ইচ্ছা পোশাক পরতে পারে। লুঙ্গি পরে বাইরে/কর্মক্ষেত্রে যাওয়া কখনো উচিত নয়। সাধারণত পুরুষ শ্রমিকদের প্যান্ট/শার্ট ইত্যাদি পরা উচিত। নারী ও পুরুষ কারোরই সাঁতারের পোশাক পরে সুইমিংপুলের বাইরে হাঁটাহাঁটি করা উচিত নয়। মেয়েরা এখানে অধিকাংশ সময় বোরকা বা আবায়া পরিধান করে। তবে শহর এলাকায় পাশ্চাত্য রীতিতেও নারীরা চলাচল করে। নারী শ্রমিকদের জন্যও কর্মক্ষেত্রভেদে পোশাক পরিচ্ছদ হয় তবে গৃহকর্মী বা খাদেমদের ম্যাক্সি এবং এপ্রোণ বা মাথায় স্কার্ফ বেঁধে কাজ করতে হয়। পর্দার মাধ্যমে অভিবাসীদের শালীনতা বজায় রাখা ভাল। পুরুষদের গলায় চেইন ও হাতে আংটি পড়া প্রথা প্রচলিত নয়। তাই পুরুষ অভিবাসী শ্রমিকগণের গলায় চেইন ও হাতে আংটি পড়া উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*