অন্ধকারে মেধাবী দুই শিশুর ভবিষ্যত

বন্দরে মায়ের পরকীয়ায়
অন্ধকারে মেধাবী দুই শিশুর ভবিষ্যত

স্টাফ রিপোর্টার:- চার অক্ষরের একটি শব্দ পরকীয়া। পরকীয়া বর্তমানের সমাজের একটি ভয়ঙ্কর ব্যাধি। পরকীয়া ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বহু দাম্পত্ত জীবনে ইতি টানছেন।
পরকীয়া ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী স্বামীকে খুন। স্বামী স্ত্রীকে খুন।পরকীয়া শেষ পরিনতি মুত্যু। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যন্ত্রণা, মনের ভেতরে চেপে থাকা কষ্ট চাপা ক্ষোভ।
লোকলজ্জায় সমাজের কাছে মৃত্যু হয়ে বেঁচে থাকার অন্য একটি জীবন।
স্ত্রী পরকীয়া ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ১০ বছরের সাজোনো গুছানো সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে মেধাবী দুই শিশুর ভবিষ্যত।
পরকীয়া এমন একটি ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা ধামগড় ইউপির মহজুমপুর গ্রামের ভাড়াটিয়া বসবাস এক দাম্পত্ত পরিবারে।
ওই গ্রামের ভাড়াটিয়া হলেও ওই গৃহবধূ পাশ^বর্তী চিড়ইপাড়া নন্দনকান কলোনীর মেয়ে। ওই গৃহবধূ পরকীয়া জড়িয়ে পড়ে একই উপজেলার মুছাপুর ইউপির বারপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে লেবা’র ছেলে বখাটে রনির সঙ্গে ।
দীর্ঘ ৩ বছর ধরে এ পরকীয়া সম্পর্ক গভীর হয়ে উঠলে গত ২-৩ মাস যাবত গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পরলে দাম্পত্ত জীবনে চলে আসে পারিবারিক কলহ, দ্বন্দ্ব ফেসাদ, স্বামীকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা, হুমকি দমকি।
পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজসে স্বামীর ঘর থেকে সর্বস্ব লুটপাট করে নিয়ে অন্যত্রে চলে গেছেন স্ত্রী। পরে স্থানীয় নোংড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উস্কানিতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর আদালতে মামলা।
স্থানীয় ভাবে বিচার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে স্বামীও স্ত্রী বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
এ পরকীয়া বিষয়টি দুইটি ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আলোচনার সমালোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনতি হয়েছে।
উভয় পক্ষের মামলার বিবরণ ও গ্রামবাসীর তথ্যমতে, পরকীয়া প্রেমিক রনি নামের এক বখাটে বিদেশে থাকতে প্রথম পরিচয় হয় ফেইজবুকে।
ফেইজবুক থেকে পরবর্তীতে মোবাইলে আলাপন।
স্বামীর অজান্তে অর্থ আদান-প্রদান।
পরকীয়া প্রেমিক দেশে ফিরে আসলে মার্কেটে দেখা সাক্ষাত।
ফেইজবুকে প্রথম ধাপে রনির সঙ্গে ওই গৃহবধূর পরিচয় হয় সোনারগাঁ উপজেলারমোগরাপাড়া চৌরাস্তা ভাড়া বাষায় থাকাবস্থায়।
এ কারণে ওই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডির্ভোস হয়ে আলাদা হয়ে যায়।
এরপর এক দেড় মাসের মধ্যে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ডির্ভোস প্রত্যাহার করে পুনরায় নতুন করে সংসার জীবন শুরু করেন অন্যত্রে ভাড়া বাসায়।
কিছুদিন পর আবারো স্বামীর অজান্তে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছিল স্ত্রী।
রনি দেশে ফিরে আসার পর গত ৪-৫ মাস ধরে পরকীয়া সম্পর্ক আরো গভীরে পৌছায়। গত ২-৩ মাস ধরে স্ত্রীর পরকীয়া বিষয়টি টের পেয়ে যান স্বামী।
তার পর থেকে শুরু দাম্পত্ত জীবনে পারিবারিক কলহ।
পারিবারিক কলহ দুর করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও পারিবারিক ভাবে সালিশ বৈঠকে সমস্যা সমধা করে দেয়া হয়।
কিন্তু সালিশ বৈঠকে স্বামীর শর্ত ছিল স্ত্রী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
স্বামীর শর্ত মেনে নিয়ে একত্রে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
স্বামীর শর্ত ভঙ্গ করে ২-৩ দিন পর থেকে স্বামীর অজান্তে একই বিল্ডিংয়ের ভাড়াটিয়ার মোবাইল দিয়ে পরকীয়া প্রেমিক রনির সঙ্গে যোগাযোগ মোবাইল আলাপন করে যাচ্ছিল। বিষয়টি যখন স্বামীর কাছে স্ত্রীর পরকীয়র বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়ে যায়।
এতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ঘৃণা চলে আসে।
পুনরায় শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ।
এই কলহে গত ২১ মে রাতে (রমজান মাসে) স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে আসেন।
ওই রাতেই স্বামী ঘর তালাবদ্ধ দেখে ছুটে যান শশুরবাড়িতে।
শশুরবাড়িতে স্বামী গিয়ে দেখেন স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিক রনির সঙ্গে।
এসময় স্বামী স্ত্রীকে গালামন্দ করে শ^াসাতে থাকেন।
একপর্যায়ে স্ত্রী তার পরকীয়া প্রেমিক রনি ও শাশুরীসহ ভূক্তভোগী স্বামীকে মারধর শুরু করে এবং হত্যার চেষ্টা করে। স্বামীর ডাক-চিৎকারের শব্দ পেয়ে পথচারিরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বামীকে উদ্ধার করে স্থানীয় পথচারিদের সহযোগীতায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্বামীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে স্ত্রী এ সুযোগে পরকীয়া প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
স্বামী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তিনি ঈদের পর বসে মিমাংশা করে দেয়ার আশ^াস দেয়।
স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব ফেসাদের বিষয়টি তৃতীয় পক্ষ সুযোগ বুঝে বন্দরের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এক আসামীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নোংড়া ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী ও স্ত্রীকে ফুসলিয়ে আদালতে একটি মামলা করিয়েছেন। ঈদের পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিচার সালিশির ব্যাপারে অপরাগতা প্রকাশ করলে স্বামীও আদালতে একটি মামলা মোকাদ্দমা করেন।
স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক রনি ও শশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে স্বামী মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক স্থানীয় নোংড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
বর্তমানে ভূক্তভোগী স্বামীকে খুন জখম ও বড় ধরণের অঘটন ঘটানোর আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
স্বামীর উপর ওই ধরণের ঘটনা করার আশঙ্কায় ভেসে উঠে এসেছে মেধাবী দুই শিশুর ভবিষ্যত।
পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে কোনো সময়ে ভূক্তভোগী স্বামী খুন জখমের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে গ্রামবাসী ধারণা করছেন।
মায়ের পরকীয়া সম্পর্কে ৮ বছর ও ৭ বছর বয়সের দুই শিশু হারাবে পিতাকে।
পিতার হত্যা মামলার আসামী হয়ে মা থাকবেন কারাগারে।
ভূক্তভোগী স্বামী একজন ব্যবসায়ী ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি হওয়ায় পরিচয় তুলে ধরা হলো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*