নির্মাণাধীন সড়ক মেয়াদ শেষেও কাজ না হওয়ায় পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত

নির্মাণাধীন সড়ক মেয়াদ শেষেও কাজ না হওয়ায় পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত

হেলাল আহমদ:বালাগঞ্জ-খসরুপুর নির্মাণাধীন সড়ক মেয়াদ শেষেও কাজ না হওয়ায় পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত। চলতি বন্যার শুরুতে কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে এই সড়কটির ওপর দিয়ে প্রায় সাত-আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবলবেগে পানি প্রবাহিত হয়। পানির তোড়ে সড়কের মাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকাবাসী দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। উপজেলা সদরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রাধাকোনা গ্রাম থেকে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বন্যায় সড়কের মাটি ধসে অন্তত ২০টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একেকটি ভাঙন ২০থেকে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের। এর মধ্যে হামছাপুর গ্রাম এলাকায় সড়কটি নিচু থাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে স্থানে-স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরকালে অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে ‘খসরুপুর বাজার জিসি-পৈলনপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পৈলনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য শিহাব আহমদ,ও হামছাপুর মাকড়সী মদিনাতুল উলূম মহিলা মাদ্রসার মুহতামিনন জনাব মাওঃমিছবা উদ্দীন মিছলু,ও হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা আসাদ মিয়া বলেন, নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে দীর্ঘ তিন বছরেও রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। অনেক জায়গায় এখনো মাটি কাটার কাজও শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটির স্থানে-স্থানে কেটে রাখায় অল্প বৃষ্টিতে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বারবার নির্মাণ কাজের সময় বাড়ালেও নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তার কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ বাতিল হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, মত্স্য খামার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা পেত। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল অফিসের তদারকি না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এখন রাস্তাটি পরিদর্শনে এসেছি। বন্যায় রাস্তার একাধিক স্থান ভেঙে গেছে। নির্মাণ কাজের দুটি প্যাকেজের মধ্যে একটি বাতিল করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজে ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন করা ‘পাকাকরণ কাজ’ বন্ধ হয়ে থাকে মাসের পর মাস বছরের পর বছর। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘কুশিয়ারা ডাইক পাকাকরণ কাজ’ এর ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ২ বছর থেকে কাজটি বন্ধ হয়ে আছে ! ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাট কাজ প্রায় ৬০ ভাগ শেষ করেছিল, প্রায় ৫ কি.মি. রাস্তায় ইটের কংক্রিট সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও শেষ করেছিল তারা কিন্তু একসাথে পরপর ৩ বার আকস্মিক বন্যা হওয়ায় কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আর কাজ শুরু হয়নি। টেন্ডার বাতিল করে দেয়া হয় ? সেই যে টেন্ডার বাতিল হয়েছিল, আর টেন্ডার হয়নি। প্রতিবার বন্যা হয়, কুশিয়ারা ডাইক ভাঙে, সাথে দুর্ভোগ বাড়ে মানুষের। নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী নাই, কাজেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন করা ‘কুশিয়ারা ডাইক’ এর কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য মাননীয় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী জননেতা Obaidul Quader মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*