টেকনাফে মনতলীয়া জব্বারিয়া শাহীন শরিফ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকিসহ নানা অভিযোগ

টেকনাফে মনতলীয়া জব্বারিয়া শাহীন শরিফ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকিসহ নানা অভিযোগ
নাছির উদ্দিন রাজ, টেকনাফ :: টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মনতলীয়া জব্বারিয়া শাহীন শরিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি, দায়িত্বে অবহেলা ও সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত, স্কুল অফিসে বঙ্গবন্ধু ও সরকার প্রধানের ছবি না টাঙ্গানো এবং বিএনপির প্রভাব বিস্তার।
জানা যায়, বাহারছড়া ইউনিয়নের মনতলীয়া জব্বারিয়া শাহীন শরিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২’শ ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক রয়েছে। এরমধ্যে জাহেদুল ইসলাম গত বছরের অক্টোবরের দিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে আজ অবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এই কয়েক মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কাজে লিপ্ত ও সরকারি আদেশ নির্দেশ না মানাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তার নিজস্ব কাজে চলে যায়। এতে শ্রেনী পাঠদান থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া তার দাপটের কাছে স্থানীয়রা অসহায় হয়ে পড়েছে। সে নিজেকে বিএনপির একজন নেতা পরিচয় দিয়ে থাকেন। ফলে এই দাপট দেখিয়ে স্কুলের অফিসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গাইনি।
বেলা সাড়ে ১১ টায় এই প্রতিবেদক ওই স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম কে উপস্থিত দেখেনি। সহকারি শিক্ষক আবদুল জব্বার ও প্যারা-শিক্ষক আবদুল লতিফের কাছে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, জোহরের নামাজ আদায় করতে গিয়েছে। সাড়ে ১১ টায় কোন ওয়াক্তের নামাজ জিজ্ঞেস করলে দুপুরের খাবারের জন্য গেছে বলে জানান। তখনও স্কুল ছুটি হয়নি। পরে এই প্রতিবেদক বিকাল ২ টা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করেও দেখা পায়নি।
এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বিকার করে জানান, একটি কূচক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক সাইফুল কোম্পানী জানান, সকল অফিসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙ্গানোর নির্দেশ থাকলেও ওই স্কুলে ব্যতিক্রম। প্রধান শিক্ষক স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে তার নিজ কাজে চলে যান।
উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আশিষ বোস জানান, এধরনের সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*