আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (র:) এর দ্বীনি সংস্কার আজ বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে আছে

গাউসিয়া কমিটি আয়োজিত ’ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়ন ও পুনর্জীবনে আল্লামা তৈয়ব শাহ (রা.) এর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা-
আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (র:) এর দ্বীনি সংস্কার আজ
বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাউসে জামান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, প্রচার এবং পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকায় যে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন তা বর্ণনাতীত। তিনি একদিকে তাঁর বুযূর্গ পিতা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.) এর প্রচারিত তরিকতের মিশন তথা ক্বাদেরীয় তরিকার মূল ¯্রােতধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে আঞ্জুমানে রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার মত অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের মূলধারার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সুন্নিয়তের পুনর্জীবন দিয়েছেন। তিনি ইসলামী সংস্কৃতির ¯্রােতধারাকে পুনরুজ্জীবীত করেছেন ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) প্রবর্তন করার মাধ্যমে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি ইসলামী শিক্ষা- সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপশি প্রকাশনাও গড়ে তুলেছেন। পাঠক সমৃদ্ধ মাসিক তরজুমান প্রকাশনাসহ অনেক ধর্মীয় ও গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশনায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আল্লামা তৈয়ব শাহ (রহ.) এর পুনরুজ্জীবীত ইসলামী সংস্কৃতির বিষয়গুলো আজ বিশ^ব্যাপী সমাদৃত। বিশে^র বহু রাষ্ট্রে তাঁর প্রবর্তীত জসনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) আজ অনুসরনীয় ও অনুকরণীয় হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশসহ বিশে^র মানুষের কাছে বিশেষভাবে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) আজ প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। আল্লামা তৈয়ব শাহ (রহ.) বাংলাদেশে আগমন করে সুন্নিয়তের প্রচার, ইসলামী সংস্কৃতির বিস্তার ও জাগরণে যে অবদান রেখে গেছেন তা এ দেশের কোটি মানুষ ধারণ করে সকল বাতিলের বিরুদ্ধে আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। মূলত সিরিকোটি (র.) এর প্রতিষ্ঠিত মিশনকে এগিয়ে নিতে তাঁর পরবর্তী শাহজাদা আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। বর্তমানে তৈয়ব শাহ (রহ.) এর ছাহেবজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ ও সাবির শাহ (মজিআ) এসব শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কর্তৃক গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার বিকালে নগরীর ষোলশহর এলজিডি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়ন ও পুনর্জীবনে গাউসে জামান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.)’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা একথাগুলো বলেন। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলীর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুলতান আহমদ। বিশেষ আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, ফিনল্যান্ড ফিনিস একাডেমির সিনিয়ার ফেলো ড. সেলিম জাহাঙ্গির, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এড. নাজিম উদ্দিন, বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট ড. মাসুম চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান, ছোবহানীয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা হারুন উর রশিদ চৌধুরী। অতিথি ছিলেন আঞ্জুমান-এ রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসীন, সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ সিরাজুল হক, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার চেয়ারম্যান প্রফেসর দিদারুল ইসলাম। গাউসিয়া কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম.এ. হামিদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূলবিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাউসিয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার। তিনি তাঁর লিখিত প্রবন্ধে বলেন, বর্তমান বিশ্ব ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় সংযোজজন হল জসনে জুলুস। এই জুলুসটি সমগ্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গণমাধ্যমে ভাষ্যানুযায়ী ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই জুলুসে তাই ৪০ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সমাগম ঘটে। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ্ (রহ:) এক চিঠির মাধ্যমে এই জুলুস উদ্যাপন করার জন্য নির্দেশ দিলে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কর্তৃপক্ষ তৎকালীন প্রধান খানকাহ্ কোরবানীগঞ্জ বলুয়ার দিঘীর পাড় থেকে এই জসনে জুলুসের সূচনা করেন। যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পরিণত হয়েছে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাউসিয়া কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আনোয়ারুল হক। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাউসিয়া কমিটির মহাসচিব শাহজাদ ইবনে দিদার, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুল হক খান, সাংগঠনিক সচিব মাহবুব এলাহী সিকদার, অর্থ সম্পাদক আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাবিব উল্লাহ, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক হোসেন পাপ্পু, অধ্যাপক কামাল উদ্দীন, সৈয়দ আবদুল লতিফ, উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী, মহানগর গাউসিয়া কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আজহারুল হক আজাদ, অর্থ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মুন্না, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, এরশাদ খতিবী। সেমিনারে আলোচনা শেষে উপস্থিত সুধি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। এরপর সভাপতির বক্তব্য শেষে মিলাদ, সালাতু সালাম ও কিয়ামের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*