শার্শায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে কলেজে যাওয়া বন্ধ কন্ডোলিজা শিলা’র

শার্শায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে কলেজে যাওয়া বন্ধ কন্ডোলিজা শিলা’র

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি:যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার গিলাপোল গ্রামে চাঁদার দাবিতে কুখ্যাত তরিকুল ইসলাম মিলন বাহিনী সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সলমন দাসের (৪৩) বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট’র ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবার। তবে আজ বুধবার দুপুরে যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে খৃস্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল ও সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচ সলমন দাসের বাড়ি পরিদর্শন করে দীর্ঘ সময় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। নিরাপত্তার কারণে সংখ্যালঘু এই পরিবারের কলেজগামী ছাত্রী কন্ডোলিজা শিলার কলেজ যাওয়া বন্ধ হয় গেছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকীর মুখে পরিবারের অন্য সদস্যরা জিম্মী হয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে আসামী করে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ ৮ জনকে আটক করলেও পরদিনই তারা জামিনে বেরিয়ে যায়। হামলাকারী তরিকুল ইসলাম মিলন উলাশী পূর্বপাড়া গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে ও শার্শা উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও উলাশী ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। অসহায় পরিবারটির ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে সলমন দাস মামলার তদন্তকারী অফিসার সমির কুমার হোরকে অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি। বরং মোটর সাইকেলে চড়ে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করে। হামলার পর থেকে এখনও পর্যন্ত শার্শা থানার ওসি ও ইউএনও ঘটনাস্থলে যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সলমন দাস আরও বলেন, তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য মিলন বারবার হুমকি দিচ্ছে। আহত সলমন উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের জুরান দাসের ছেলে। ২০০৮ সালে থেকে মিলন মেম্বার উলাশী গ্রামে ৭০/৮০ বিঘা জমির ওপর নীলকুঠি নামে একটি পার্ক তৈরী করে। পরে সেখানে স্কুল কলেজগামী ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত গৃহবধুদের দিয়ে শুরু করে দেহ ব্যবসা। ৩৩ জন গ্রামবাসীর ৩৫ বিঘা জমি আত্মসাৎ করে পার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে। সেই সঙ্গে উলাশী বাজারে জিয়া মে র জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে কালু ও দিপকের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। দীর্ঘদিন ধরে মিলন বাহিনী সলমনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারকে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ ও সলমন দাস জানান, স্থানীয় কুখ্যাত মিলন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সলমন দাস চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে দশটায় মিলন বাহিনী তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও মারপিট করে ঘরে থাকা জমি বিক্রয়ের নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩টি দামি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় তারা বাড়ির আসবাবপত্র ও টিভি ভাংচুর করে। মিলন বাহিনীর ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য ভাইপো আশিক, মমিন, আশরাফুল, ম্যানেজার শরীফ, লালচাঁন, ড্রাইভার ভূট্টোসহ সলমনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর চালায়। এ সময় তার বাবা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে লাি ত করে তারা। গ্রামের লোকজন ভয়ে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আসার পরপরই তারা সটকে পড়ে। ইউপি সদস্য কাশেম শিকদার এ ঘটনার মদদদাতা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*