দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব : সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য

দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব : সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য

ফারুক মিয়াঃ স্টাফ রিপোর্টারঃ শেষ মুহুর্তে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। এতে মাছটির প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা। ইতিমধ্যেই ২৫ হাজার মিটার জাল আটক, ৭ জেলেকে ১০দিনের জেল, ৫ জনকে ৩১হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। একশ্রেণীর অসাধু জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী ইলিশ মাছ শিকার করছেন। স্থানীয় জেলেদের দাবী মৎস্য বিভাগ ৭ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ ধরা বন্ধ না করে কার্তিক মাসের পূর্ণিমার ২-৩ দিন আগে এবং পূর্ণিমার ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ করলে ভাল হতো। ২৩ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর রাত পর্যন্ত পূর্ণিমা। এ সময় মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার উত্তম সময়। ইলিশ প্রজনন নিরাপদ ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৭অক্টোবর থেকে নদীতে যেকোন ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। উপজেলায় ৩ হাজার ৬০৭জন নিবন্ধিত মৎস্যজীবি রয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবিদের বিকল্প আয়ের জন্য সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন উপকরণ মৎস্য অধিদপ্তর দিয়ে থাকে। কিন্তু দেওয়ানগঞ্জ মৎস্যজীবিদের জন্য এ ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় ইলিশ ধরা থামছে না। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর কুলকান্দি থেকে বড়খাল ফুটানি বাজার খোলাবাড়ী ঝালোরচর কাঠারবিল সানন্দবাড়ীর মৌলভীরচর হয়ে রাজিবপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৫০কিলোমিটার প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে দ্রুত গতির নৌযান নিয়ে প্রতিদিন জেলেরা জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করছে। তাদের জালে ধরা পড়ছে বড় আকারের রূপালী ডিম ভরা মা ইলিশ। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানাযায়, ৮টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বুধবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনে ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ, ৭ জেলেকে ১০দিন করে জেল এবং ৫ জনকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। জব্দকৃত ইলিশ মাছ এতিম খানায় বিতরণ করা হয়েছে। খোলাবাড়ী এলাকার এক মাদ্রাসার শিক্ষক জানান, জেলেরা এখন আর বাজারে মাছ বিক্রি করে না, গ্রামে গ্রামে গিয়ে ফেরী করে ইলিশ মাছ বিক্রি করে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ডিমওয়ালা মা ইলিশ ৪শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। নদী এলাকায় শেষ রাতে যানবাহনে করে ইলিশ নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবি বলেন, ইলিশ না ধরলে আমরা কি কইরা খামু। আমরা কিছু পাই নাই। তাই রাতের বেলায় ইলিশ ধরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*