ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বসতবাড়ী নির্মাণের অভিযোগ প্রবাসী ফারুকের বিরুদ্ধে

ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বসতবাড়ী নির্মাণের অভিযোগ প্রবাসী ফারুকের বিরুদ্ধে
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া সোনালী বিড়ি ফ্যাক্টরী এলাকায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বসতবাড়ী’র নির্মাণ কাজ চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মোঃ আজগার আলী নামে এক ব্যক্তি গত ২৮শে মে (সোমবার) ভেড়ামারা থানার আফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরও করেছিলেন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরে উল্লেখিত জমিতে নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ গত ২২ শে অক্টোবর থেকে আবারো আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসত বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন দেল মন্ডলের পূত্র প্রবাসী মোঃ ফারুক । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, মোঃ ফারুক এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোছাঃ আনেরা খাতুনের সাথে মামলা চলছে। প্রবাসী মোঃ ফারুক গত ১৮ ই অক্টোবর দুবাই থেকে দেশে এসে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জমিতে গত ২২ শে অক্টোবর থেকে তার বসত বাড়ীর নির্মান কাজ শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, জিআর মামলার ওয়ারেন্ট আসামী ফারুক গত ২৪ শে অক্টোবর কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসে। কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে স্থানীয় এলাকাবাসীদেরকে সে জানায়, আনেরা বেগমদের সাথে কেসের মিমাংসা হয়ে গেছে, তাই আমার জমিতে ঘর তুলতে আর কোন বাধা নাই। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার মাননীয় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কালু ড্রাইভারের স্ত্রী মোছাঃ আনেরা বেগম বাদী হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭ সি ধারায় মোঃ বাবু, মোঃ জামিল-পিতাঃ মৃত জাহিদ মাষ্টার, আলিফ-পিতাঃ দেল মন্ডল, লাইলী-স্বামীঃ ফারুক, পান্না-স্বামীঃ বাবু, জল্লাল-স্বামীঃ সাধু মন্ডল-সর্ব সাং ঃ সাতবাড়ীয়া, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া’কে আসামী করে ভেড়ামারা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার নং-ভেড়ামারা দেওয়ানী ২০/২০১৭। এরপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারো বসত বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করাতে তাদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ ভেড়ামারা সহকারী জজ আদালতে আরেকটি মামলা হয়। যাহার নং- মিস ৭/২০১৮। মোছাঃ আনেরা বেগম অত্র মামলা দায়ের করার কারনে বিবাদীগন তাকে (আনেরা) খুন জখম সহ ঘরবাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে আসছে এবং কেসের বাদী মোছাঃ মোমেনা খাতুন এর পূত্র আজগার আলী তাদের ভয়ে আজ ৬ মাস বাড়ী ছাড়া। এই মামলায় আদালত উভয় পক্ষকে বিবাদমান জমির ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। সম্প্রতি মোঃ ফারুক আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদমান ওই জমি জোর করে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় নালিশী সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিকার প্রার্থনা করলে এ বিষয়ে পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মোঃ ফারুক সেখানে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানা’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন জানান, বিধবা নারী আনেরা খাতুন। থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, গত ইংরাজী ০৯/০৩/২০১৮ তারিখে বিবাদীগন সকাল ১০ টায় আনেরা খাতুনের বসত বাড়ীতে গিয়ে দায়েরকৃত মামলাটি প্রতাহার না করিলে আনেরা খাতুনকে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ ও খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে বিবাদীগণ। এভাবেই কিছুদিন চলার পরে গত (২৮-০৫-২০১৮)ইং সোমবার বিকালে অবৈধ দখলদার মোঃ বাবু, মোঃ নজু ও মোঃ জামিল মিলে বিধবা নারী মোছাঃ আনেরা বেগম’কে এলোপাতারি কিল-ঘুষি মেরে মারাতœক জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী বিধবা নারী মোছাঃ আনেরা বেগম’কে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযোগকারী আজগার আলী বলেন, গত ২২ শে অক্টোবর আমি কুষ্টিয়া ডিসি কোর্টের এ্যাডভোকেট এর চেম্বারে গেলে সেখানে মোঃ ফারুক আমাকে বলে সম্পত্তি নিয়ে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মারার হুমকি দেন। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে মোঃ ফারুকের স্ত্রী লাইলী খাতুন সাংবাদিককে ছবি তুলতে বাধা প্রদান করে এবং সাংবাদিককে মেরে ফেলে উধাও করে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটা সমাধানে উভয়পক্ষকে আমার কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ও কাগজপত্র দেখার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এবিষয়ে বিবাদী পক্ষের মোঃ জামিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উক্ত নালিশী জমিটি আমার পূর্বাধিকারী জিনাত আলী দেং ৮/১৯৬৫ নং মামলায় ইং ১৫/০২/১৯৬৬ তারিখে সোলেসূত্রে ডিক্রি প্রাপ্ত হই। এবিষয়ে বিবাদী পক্ষের মোঃ ফারুক এর সাথে যোগাযোগ করতে তার নির্মানাধীন বাড়ীতে গেলে তাকে পাওয়া যাইনি। অবৈধ দখলদার মোঃ ফারুক এলাকার প্রভাবশালী, জবরদখলকারী, পরসম্পদ লোভী, অত্যাচারী, লুটেরা হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে মোছাঃ আনেরা বেগম ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*